আঘাত (aghat)

সোঁদালের ডালের ডগায়

      মাঝে মাঝে পোকাধরা পাতাগুলি

           কুঁকড়ে গিয়েছে ;

                 বিলিতি নিমের

                       বাকলে লেগেছে উই;

      কুরচির গুঁড়িটাতে পড়েছে ছুরির ক্ষত,

                       কে নিয়েছে ছাল কেটে;

                              চারা অশোকের

                       নীচেকার দুয়েকটা ডালে

      শুকিয়ে পাতার আগা কালো হয়ে গেছে।

           কত ক্ষত, কত ছোটো মলিন লাঞ্ছনা,

                 তারি মাঝে অরণ্যের অক্ষুণ্ন মর্যাদা

                       শ্যামল সম্পদে

      তুলেছে আকাশ-পানে পরিপূর্ণ পূজার অঞ্জলি।

           কদর্যের কদাঘাতে

      দিয়ে যায় কালিমার মসীরেখা,

           সে সকলি অধঃসাৎ ক'রে

                 শান্ত প্রসন্নতা

           ধরণীরে ধন্য করে পূর্ণের প্রকাশে।

ফুটিয়েছে ফুল সে যে,

      ফলিয়েছে ফলভার,

           বিছিয়েছে ছায়া-আস্তরণ,

                পাখিরে দিয়েছে বাসা,

           মৌমাছিরে জুগিয়েছে মধু,

                 বাজিয়েছে পল্লবমর্মর।

           পেয়েছে সে প্রভাতের পুণ্য আলো,

                 শ্রাবণের অভিষেক,

           বসন্তের বাতাসের আনন্দমিতালি,--

           পেয়েছে সে ধরণীর প্রাণরস,

                 সুগভীর সুবিপুল আয়ু,

           পেয়েছে সে আকাশের নিত্য আশীর্বাদ।

                 পেয়েছে সে কীটের দংশন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

180
Verses
THE ROSE is a great deal more
than a blushing apology for the thorn.
আরো দেখুন
59
Verses
WHEN THE weariness of the road is upon me, and the thirst of the sultry day; when the ghostly hours of the dusk throw their shadows across my life, then I cry not for your voice only, my friend, but for your touch.
There is an anguish in my heart for the burden of its riches not given to you.
Put out your hand through the night, let me hold it and fill it and keep it; let me feel its touch along the lengthening stretch of my loneliness.
আরো দেখুন
রঙরেজিনী
Verses
শঙ্করলাল দিগ্‌বিজয়ী পণ্ডিত।
           শাণিত তাঁর বুদ্ধি
                   শ্যেনপাখির চঞ্চুর মতো,
    বিপক্ষের যুক্তির উপর পড়ে বিদ্যুদ্‌বেগে--
                   তার পক্ষ দেয় ছিন্ন করে,
                       ফেলে তাকে ধুলোয়।
রাজবাড়িতে নৈয়ায়িক এসেছে দ্রাবিড় থেকে।
    বিচারে যার জয় হবে সে পাবে রাজার জয়পত্রী।
        আহ্বান স্বীকার করেছেন শঙ্কর,
এমন সময় চোখে পড়ল পাগড়ি তাঁর মলিন।
           গেলেন রঙরেজির ঘরে।
কুসুমফুলের খেত, মেহেদিবেড়ায় ঘেরা।
        প্রান্তে থাকে জসীম রঙরেজি।
মেয়ে তার আমিনা, বয়স তার সতেরো।
        সে গান গায় আর রঙ বাঁটে,
               রঙের সঙ্গে রঙ মেলায়।
বেণীতে তার লাল সুতোর ঝালর,
        চোলি তার বাদামি রঙের,
           শাড়ি তার আশমানি।
বাপ কাপড় রাঙায়,
        রঙের বাটি জুগিয়ে দেয় আমিনা।
শঙ্কর বললেন, জসীম,
        পাগড়ি রাঙিয়ে দাও জাফরানি রঙে,
               রাজসভায় ডাক পড়েছে।
কুল্‌ কুল্‌ করে জল আসে নালা বেয়ে কুসুমফুলের খেতে;
আমিনা পাগড়ি ধুতে গেল নালার ধারে তুঁত গাছের ছায়ায় বসে।
ফাগুনের রৌদ্র ঝলক দেয় জলে,
        ঘুঘু ডাকে দূরের আমবাগানে।
    ধোওয়ার কাজ হল, প্রহর গেল কেটে।
পাগড়ি যখন বিছিয়ে দিল ঘাসের 'পরে
    রঙরেজিনী দেখল তারি কোণে
        লেখা আছে একটি শ্লোকের একটি চরণ--
           "তোমার শ্রীপদ মোর ললাটে বিরাজে'।
        বসে বসে ভাবল অনেক ক্ষণ,
    ঘুঘু ডাকতে লাগল আমের ডালে।
রঙিন সুতো ঘরের থেকে এনে
    আরেক চরণ লিখে দিল--
        "পরশ পাই নে তাই হৃদয়ের মাঝে'।
        দুদিন গেল কেটে।
    শঙ্কর এল রঙরেজির ঘরে।
শুধালো, পাগড়িতে কার হাতের লেখা?
           জসীমের ভয় লাগল মনে।
        সেলাম করে বললে, "পণ্ডিতজি,
               অবুঝ আমার মেয়ে,
                   মাপ করো ছেলেমানুষি।
           চলে যাও রাজসভায়--
সেখানে এ লেখা কেউ দেখবে না, কেউ বুঝবে না।'
    শঙ্কর আমিনার দিকে চেয়ে বললে,
           "রঙরেজিনী,
অহংকারের-পাকে-ঘেরা ললাট থেকে নামিয়ে এনেছ
    শ্রীচরণের স্পর্শখানি হৃদয়তলে
        তোমার হাতের রাঙা রেখার পথে।
           রাজবাড়ির পথ আমার হারিয়ে গেল,
                   আর পাব না খুঁজে।'
আরো দেখুন