আছি (achhi)

          বৈশাখেতে তপ্ত বাতাস মাতে

কুয়োর ধারে কলাগাছের দীর্ণ পাতে পাতে;

         গ্রামের পথে ক্ষণে ক্ষণে ধুলা উড়ায়,

          ডাক দিয়ে যায় পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ায়;

         আশুক্লান্ত বেলগুলি শীর্ণ হয়ে আসে,

ম্লান গন্ধ কুড়িয়ে তারি ছড়িয়ে বেড়ায় সুদীর্ঘ নিশ্বাসে।

             শুকনো টগর উড়িয়ে ফেলে,

চিকন কচি অশথ পাতায় যা খুশি তাই খেলে;

            বাঁশের গাছে কী নিয়ে তার কাড়াকাড়ি,

            খেজুর গাছের শাখায় শাখায় নাড়ানাড়ি;

বটের শাখে ঘনসবুজ ছায়ানিবিড় পাখির পাড়ায়

          হূহু করে ধেয়ে এসে ঘুঘু দুটির নিদ্রা ছাড়ায়;

রুক্ষ কঠিন রক্তমাটি ঢেউ খেলিয়ে মিলিয়ে গেছে দূরে,

           তার মাঝে ওর থেকে থেকে নাচন ঘুরে ঘুরে;

খেপে উঠে হঠাৎ ছোটে তালের বনে উত্তরে দিক্‌সীমায়

                  অস্ফুট ওই বাষ্পনীলিমায়;

          টেলিগ্রাফের তারে তারে

সুর সেধে নেয় পরিহাসের ঝংকারে ঝংকারে;

          এমনি করে বেলা বহে যায়,

এই হাওয়াতে চুপ করে রই একলা জানালায়।

          ওই যে ছাতিম গাছের মতোই আছি

সহজ প্রাণের আবেগ নিয়ে মাটির কাছাকাছি,

           ওর যেমন এই পাতার কাঁপন, যেমন শ্যামলতা,

তেমনি জাগে ছন্দে আমার আজকে দিনের সামান্য এই কথা।

          না থাক্‌ খ্যাতি, না থাক্‌ কীর্তিভার,

          পুঞ্জীভূত অনেক বোঝা অনেক দুরাশার--

আজ আমি যে বেঁচেছিলেম সবার মাঝে মিলে সবার প্রাণে

           সেই বারতা রইল আমার গানে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সন্ধ্যা
Verses
  
অয়ি সন্ধ্যে,
    অনন্ত আকাশতলে বসি একাকিনী,
          কেশ এলাইয়া
    মৃদু মৃদু ও কী কথা   কহিস আপন মনে
          গান গেয়ে গেয়ে,
        নিখিলের মুখপানে চেয়ে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি, আজও তোর কথা
          নারিনু বুঝিতে।
    প্রতিদিন শুনিয়াছি,  আজও তোর গান
          নারিনু শিখিতে।
        চোখে লাগে ঘুমঘোর,  
        প্রাণ শুধু ভাবে হয় ভোর।
      হৃদয়ের অতিদূর দূর দূরান্তরে
      মিলাইয়া কণ্ঠস্বর তোর কন্ঠস্বরে
          উদাসী প্রবাসী যেন
      তোর সাথে তোরি গান করে।
    
    অয়ি সন্ধ্যা, তোরি যেন স্বদেশের প্রতিবেশী
       তোরি যেন আপনার ভাই
    প্রাণের প্রবাসে মোর দিশা হারাইয়া
          বেড়ায় সদাই।
          শোনে যেন স্বদেশের গান,
          দূর হতে কার পায় সাড়া
          খুলে দেয় প্রাণ।
          যেন কী পুরোনো স্মৃতি
          জাগিয়া উঠে রে ওই গানে।
          ওই তারকার মাঝে  যেন তার গৃহ ছিল,
          হাসিত কাঁদিত ওইখানে।
          আর বার ফিরে যেতে চায়
          পথ তবু খুঁজি না পায়।
    কত-না পুরানো কথা, কত-না হারানো গান,
           কত না প্রাণের দীর্ঘশ্বাস,  
   শরমের  আধো হাসি,      সোহাগের আধো বাণী,
          প্রণয়ের আধো মৃদু ভাষ,
          সন্ধ্যা, তোর ওই অন্ধকারে
          হারাইয়া গেছে একেবারে।
          পূর্ণ করি অন্ধকার তোর
          তারা সবে ভাসিয়া বেড়ায়
          যুগান্তের প্রশান্ত হৃদয়ে
          ভাঙাচোরা জগতের প্রায়।
    যবে এই নদীতীরে        বসি তোর পদতলে
          তারা সবে দলে দলে আসে  
          প্রাণেরে ঘেরিয়া চারি পাশে;
    হয়তো একটি হাসি       একটি আধেক হাসি
          সমুখেতে ভাসিয়া বেড়ায়,
          কভু ফোটে কভু বা মিলায়।
    আজি আসিয়াছি সন্ধ্যা, বসি তোর অন্ধকারে
             মুদিয়া নয়ন
    সাধ গেছে গাহিবারে--মৃদু  স্বরে শুনাবারে
             দু-চারিটি গান।
    যেথায় পুরোনো গান      যেথায় হারানো হাসি
             যেথা আছে বিস্মৃত স্বপন
    সেইখানে সযতনে        রেখে দিস গানগুলি,
             রচে দিস সমাধিশয়ন।
             জানি সন্ধ্যা, জানি তোর স্নেহ,
             গোপনে ঢাকিবি তার দেহ
    বসিয়া সমাধি-'পরে      নিষ্ঠুরকৌতুকভরে
             দেখিস হাসে না যেন কেহ।
             ধীরে শুধু ঝরিবে শিশির,
             মৃদু শ্বাস ফেলিবে সমীর।
             স্তব্ধতা কপোলে হাত দিয়ে
             একা সেথা রহিবে বসিয়া,  
             মাঝে মাঝে দু-একটি তারা
             সেথা আসি পড়িবে খসিয়া।
আরো দেখুন
1
Verses
আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
রয়েছে কাতর ঘোর।
দুখশয্যায় করি জাগরণ
রজনী হয়েছে ভোর।
নবফুটন্ত ফুলকাননের
নব জাগ্রত শীতপবনের
সাথি হইবারে পারে নি আজিও
এ দেহ-হৃদয় মোর।
আজি মোর কাছে প্রভাত তোমার
করো গো আড়াল করো--
এ খেলা এ মেলা এ আলো এ গীত
আজি হেথা হতে হরো।
প্রভাত জগৎ হতে মোরে ছিঁড়ি
করুণ আঁধারে লহো মোরে ঘিরি,
উদাস হিয়ারে তুলিয়া বাঁধুক
তব স্নেহবাহুডোর।
আরো দেখুন
১৬
Verses
১৬
আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,
তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥  
আরো দেখুন