১০০ (songsare more rakhiyachho jei ghore)

সংসারে মোরে রাখিয়াছ যেই ঘরে

     সেই ঘরে রব সকল দুঃখ ভুলিয়া।

করুণা করিয়া নিশিদিন নিজ করে

     রেখে দিয়ো তার একটি দুয়ার খুলিয়া।

মোর সব কাজে মোর সব অবসরে

সে দুয়ার রবে তোমারি প্রবেশ-তরে,

সেথা হতে বায়ু বহিবে হৃদয়-'পরে

     চরণ হতে তব পদরজ তুলিয়া।

সে দুয়ার খুলি আসিবে তুমি এ ঘরে,

     আমি বাহিরিব সে দুয়ারখানি খুলিয়া।

আর যত সুখ পাই বা না পাই, তবু

     এক সুখ শুধু মোর তরে তুমি রাখিয়ো।

সে সুখ কেবল তোমার আমার প্রভু,

     সে সুখের 'পরে তুমি জাগ্রত থাকিয়ো।

তাহারে না ঢাকে আর যত সুখগুলি,

সংসার যেন তাহাতে না দেয় ধূলি,

সব কোলাহল হতে তারে তুমি তুলি

     যতন করিয়া আপন অঙ্কে ঢাকিয়ো।

আর যত সুখে ভরুক ভিক্ষাঝুলি,

     সেই এক সুখ মোর তরে তুমি রাখিয়ো।

যত বিশ্বাস ভেঙে ভেঙে যায়, স্বামী,

     এক বিশ্বাস রহে যেন চিতে লাগিয়া।

যে অনলতাপ যখনি সহিব আমি

     দেয় যেন তাহে তব নাম বুকে দাগিয়া।

দুখ পশে যবে মর্মের মাঝখানে

তোমার লিখন-স্বাক্ষর যেন আনে,

রুক্ষ বচন যতই আঘাত হানে

     সকল আঘাতে তব সুর উঠে জাগিয়া।

শত বিশ্বাস ভেঙে যদি যায় প্রাণে

     এক বিশ্বাসে রহে যেন মন লাগিয়া।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

180
Verses
THE ROSE is a great deal more
than a blushing apology for the thorn.
আরো দেখুন
দিনশেষে
Verses
দিনশেষ হয়ে এল, আঁধারিল ধরণী,
          আর বেয়ে কাজ নাই তরণী।
     "হ্যাঁগো এ কাদের দেশে
     বিদেশী নামিনু এসে'
          তাহারে শুধানু হেসে যেমনি--
     অমনি কথা না বলি
     ভরা ঘট ছলছলি
          নতমুখে গেল চলি তরুণী।
          এ ঘাটে বাঁধিব মোর তরণী।
নামিছে নীরব ছায়া ঘনবনশয়নে,
          এ দেশ লেগেছে ভালো নয়নে।
     স্থির জলে নাহি সাড়া,
     পাতাগুলি গতিহারা,
          পাখি যত ঘুমে সারা কাননে--
     শুধু এ সোনার সাঁঝে
     বিজনে পথের মাঝে
          কলস কাঁদিয়া বাজে কাঁকনে।
          এ দেশ লেগেছে ভালো নয়নে।
ঝলিছে মেঘের আলো কনকের ত্রিশূলে,
          দেউটি জ্বলিছে দূরে দেউলে।
     শ্বেত পাথরেতে গড়া
     পথখানি ছায়া-করা
          ছেয়ে গেছে ঝরে-পড়া বকুলে।
     সারি সারি নিকেতন,
     বেড়া-দেওয়া উপবন,
          দেখে পথিকের মন আকুলে।
          দেউটি জ্বলিছে দূরে দেউলে।
রাজার প্রাসাদ হতে অতিদূর বাতাসে
          ভাসিছে পূরবীগীতি আকাশে।
     ধরণী সমুখপানে
     চলে গেছে কোন্‌খানে,
          পরান কেন কে জানে উদাসে।
     ভালো নাহি লাগে আর
     আসা-যাওয়া বারবার
          বহুদূর দুরাশার প্রবাসে।
          পূরবী রাগিণী বাজে আকাশে।
কাননে প্রাসাদচূড়ে নেমে আসে রজনী,
          আর বেয়ে কাজ নাই তরণী।
     যদি কোথা খুঁজে পাই
     মাথা রাখিবার ঠাঁই
          বেচাকেনা ফেলে যাই এখনি--
     যেখানে পথের বাঁকে
     গেল চলি নত আঁখে
          ভরা ঘট লয়ে কাঁখে তরুণী।
          এই ঘাটে বাঁধো মোর তরণী।
আরো দেখুন
28
Verses
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে
অকেজো অলস বেলা ভরে ওঠে শেলাইয়ের কাজে।
অর্থভরা কিছুই-না চোখে ক'রে ওঠে ঝিল্‌মিল্‌
ছড়াটার ফাঁকে ফাঁকে মিল।
গাছে গাছে জোনাকির দল
করে ঝলমল;
সে নহে দীপের শিখা, রাত্রি খেলা করে আঁধারেতে
টুকরো আলোক গেঁথে গেঁথে।
মেঠো গাছে ছোটো ছোটো ফুলগুলি জাগে;
বাগান হয় না তাহে, রঙের ফুটকি ঘাসে লাগে।
মনে থাকে, কাজে লাগে, সৃষ্টিতে সে আছে শত শত;
মনে থাকবার নয়, সেও ছড়াছড়ি যায় কত।
ঝরনায় জল ঝ'রে উর্বরা করিতে চলে মাটি;
ফেনাগুলো ফুটে ওঠে, পরক্ষণে যায় ফাটি ফাটি।
কাজের সঙ্গেই খেলা গাঁথা--
ভার তাহে লঘু রয়, খুশি হন সৃষ্টির বিধাতা।
আরো দেখুন