৪৪ (mortobasider tumi ja diyechho)

মর্তবাসীদের তুমি যা দিয়েছ প্রভু,

মর্তের সকল আশা মিটাইয়া তবু

রিক্ত তাহা নাহি হয়। তার সর্বশেষ

আপনি খুঁজিয়া ফিরে তোমারি উদ্দেশ।

নদী ধায় নিত্যকাজে, সর্ব কর্ম সারি

অন্তহীন ধারা তার চরণে তোমারি

নিত্য জলাঞ্জলিরূপে ঝরে অনিবার।

কুসুম আপন গন্ধে সমস্ত সংসার

সম্পূর্ণ করিয়া তবু সম্পূর্ণ না হয়--

তোমারি পূজায় তার শেষ পরিচয়।

সংসারে বঞ্চিত করি তব পূজা নহে।

কবি আপনার গানে যত কথা কহে

নানা জনে লহে তার নানা অর্থ টানি,

তোমা-পানে ধায় তার শেষ অর্থখানি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

আবছায়া
Verses
তারা সেই     ধীরে ধীরে আসিত
                 মৃদু মৃদু হাসিত,
            তাদের পড়েছে আজ মনে।
তারা           কথাটি কহিত না,
                 কাছেতে রহিত না,
            চেয়ে রইত নয়নে নয়নে।
তারা           চলে যেত আনমনে,
                 বেড়াইত বনে বনে,
            আনমনে গাহিত রে গান।
                 চুল থেকে ঝরে ঝরে
                 ফুলগুলি যেত পড়ে,
            কেশপাশে ঢাকিত বয়ান।
                 কাছে আমি যাইতাম,
                 গানগুলি গাইতাম,
            সাথে সাথে যাইতাম পিছু-
                 তারা যেন আনমনা,
                 শুনিত কি শুনিত না
            বুঝিবারে নারিতাম কিছু।
                 কভু তারা থাকি থাকি
                 আনমনে শূন্য আঁখি,
            চাহিয়া রহিত মুখপানে,
                 ভালো তারা বাসিত কি,
                 মৃদু হাসি হাসিত কি,
            প্রাণে প্রাণ দিত কি, কে জানে!
                 গাঁথি ফুলে মালাগুলি
                 যেন তারা যেত ভুলি
            পরাইতে আমার গলায়।
                 যেন যেতে যেতে ধীরে
                 চায় তারা ফিরে ফিরে
            বকুলের গাছের তলায়।
                 যেন তারা ভালোবেসে
                 ডেকে যেত কাছে এসে,
            চলে যেতে করিত রে মানা-
                 আমার তরুণ প্রাণে
                 তাদের হৃদয়খানি
            আধো জানা আধেক অজানা।
                 কোথা চলে গেল তারা,
                 কোথা যেন পথহারা,
            তাদের দেখি নে কেন আর!
                 কোথা সেই ছায়া-ছায়া
                 কিশোর-কল্পনা-মায়া,
            মেঘমুখে হাসিটি উষার!
                 আলোতে ছায়াতে ঘেরা
                 জাগরণ স্বপনেরা
            আশেপাশে করিত রে খেলা-
                 একে একে পলাইল,
                 শূন্যে যেন মিলাইল,
            বাড়িতে লাগিল যত বেলা।
আরো দেখুন
দুয়োরানী
Verses
ইচ্ছে করে মা, যদি তুই
          হতিস দুয়োরানী!
ছেড়ে দিতে এমনি কি ভয়
          তোমার এ ঘরখানি।
ঐখানে ঐ পুকুরপারে
জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে
ও যেন ঘোর বনের মধ্যে
          কেউ কোত্থাও নেই।
ঐখানে ঝাউতলা জুড়ে
বাঁধব মোরা ছোট্ট কুঁড়ে,
শুকনো পাতা বিছিয়ে ঘরে
          থাকব দুজনেই।
বাঘ ভাল্লুক অনেক আছে
আসবে না কেউ তোমার কাছে,
দিনরাত্তির কোমর বেঁধে
থাকব পাহারাতে।
রাক্ষসেরা ঝোপে ঝাড়ে
মারবে উঁকি আড়ে আড়ে
দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি
          ধনুক নিয়ে হাতে।
আঁচলেতে খই নিয়ে তুই
          যেই দাঁড়াবি দ্বারে
অমনি যত বনের হরিণ
          আসবে সারে সারে।
শিংগুলি সব আঁকাবাঁকা,
গায়েতে দাগ চাকা চাকা,
লুটিয়ে তারা পড়বে ভুঁয়ে
          পায়ের কাছে এসে।
ওরা সবাই আমায় বোঝে,
করবে না ভয় একটুও যে,
হাত বুলিয়ে দেব গায়ে,
          বসবে কাছে ঘেঁষে।
ফলসা-বনে গাছে গাছে
ফল ধরে মেঘ করে আছে,
ঐখানেতে ময়ূর এসে
          নাচ দেখিয়ে যাবে।
শালিখরা সব মিছিমিছি
লাগিয়ে দেবে কিচিমিচি,
কাঠবেড়ালি লেজটি তুলে
          হাত থেকে ধান খাবে।
দিন ফুরোবে, সাঁজের আঁধার
          নামবে তালের গাছে।
তখন এসে ঘরের কোণে
          বসব কোলের কাছে।
থাকবে না তোর কাজ কিছু তো,
রইবে না তোর কোনো ছুতো,
রূপ-কথা তোর বলতে হবে
          রোজই নতুন করে।
সীতার বনবাসের ছড়া
সবগুলি তোর আছে পড়া;
সুর করে তাই আগাগোড়া
          গাইতে হবে তোরে।
তার পরে যেই অশথবনে
ডাকবে পেঁচা, আমার মনে
একটুখানি ভয় করবে
          রাত্রি নিষুত হলে।
তোমার বুকে মুখটি গুঁজে
ঘুমেতে চোখ আসবে বুজে
তখন আবার বাবার কাছে
          যাস নে যেন চলে!
আরো দেখুন
যথাসময়
Verses
ভাগ্য যখন কৃপণ হয়ে আসে,
            বিশ্ব যবে নিঃস্ব তিলে তিলে,
মিষ্ট মুখে ভুবন-ভরা হাসি
            ওষ্ঠে শেষে ওজন-দরে মিলে,
বন্ধুজনে বন্ধ করে প্রাণ,
            দীর্ঘদিন সঙ্গীহীন একা,
হঠাৎ পড়ে ঋণশোধেরই পালা,
            ঋণীজনের না যায় পাওয়া দেখা,
                তখন ঘরে বন্ধ হ রে কবি,
                     খিলের পরে খিল লাগাও খিল।
                কথার সাথে গাঁথো কথার মালা,
                     মিলের সাথে মিল মিলাও মিল।
কপাল যদি আবার ফিরে যায়,
            প্রভাত-কালে হঠাৎ জাগরণে,
শূন্য নদী আবার যদি ভরে
            শরৎ-মেঘে ত্বরিত বরিষনে,
বন্ধু ফিরে বন্দী করে বুকে,
            সন্ধি করে অন্ধ অরিদল,
অরুণ ঠোঁটে তরুণ ফোটে হাসি,
            কাজল চোখে করুণ আঁখিজল,
                তখন খাতা পোড়াও খ্যাপা কবি,
                     দিলের সাথে দিল লাগাও দিল।
                বাহুর সাথে বাঁধো মৃণাল-বাহু,
                     চোখের সাথে চোখে মিলাও মিল।
আরো দেখুন