উদ্বোধন (udbodhon)

     প্রথম যুগের উদয়দিগঙ্গনে

          প্রথম দিনের উষা নেমে এল যবে

     প্রকাশপিয়াসি ধরিত্রী বনে বনে

          শুধায়ে ফিরিল, সুর খুঁজে পাবে কবে।

               এসো এসো সেই নব সৃষ্টির কবি

               নবজাগরণ-যুগপ্রভাতের রবি।

          গান এনেছিলে নব ছন্দের তালে

          তরুণী উষার শিশিরস্নানের কালে,

               আলো-আঁধারের আনন্দবিপ্লবে।

     সে গান আজিও নানা রাগরাগিণীতে

     শুনাও তাহারে আগমনীসংগীতে

          যে জাগায় চোখে নূতন দেখার দেখা।

    যে এসে দাঁড়ায় ব্যাকুলিত ধরণীতে

     বননীলিমার পেলব সীমানাটিতে,

          বহু জনতার মাঝে অপূর্ব একা।

               অবাক আলোর লিপি যে বহিয়া আনে

               নিভৃত প্রহরে কবির চকিত প্রাণে,

               নব পরিচয়ে বিরহব্যথা যে হানে

          বিহ্বল প্রাতে সংগীতসৌরভে,

          দূর-আকাশের অরুণিম উৎসবে।

          যে জাগায় জাগে পূজার শঙ্খধ্বনি,

          বনের ছায়ায় লাগায় পরশমণি,

               যে জাগায় মোছে ধরার মনের কালি

               মুক্ত করে সে পূর্ণ মাধুরী-ডালি।

জাগে সুন্দর, জাগে নির্মল, জাগে আনন্দময়ী--

                   জাগে জড়ত্বজয়ী।

          জাগো সকলের সাথে

          আজি এ সুপ্রভাতে,

বিশ্বজনের প্রাঙ্গণতলে লহো আপনার স্থান--

     তোমার জীবনে সার্থক হোক

                   নিখিলের আহ্বান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

197
Verses
LET MY LOVE find its strength
in the service of day,
its peace in the union of night.
আরো দেখুন
বঞ্চিত
Verses
ফুলিদের বাড়ি থেকে এসেই দেখি
      পোস্টকার্ডখানা আয়নার সামনেই,
            কখন এসেছে জানি নে তো।
মনে হল, সময় নেই একটুও;
            গাড়ি ধরতে পারব না বুঝি।
                 বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে
                       ছড়িয়ে পড়ল সিকি দুয়ানি,
                    কিছু কুড়োলেম, কিছু রইল বা,
                          গ'নে ওঠা হল না।
                 কাপড় ছাড়ি কখন।
            নীল রঙের রেশমি রুমালখানা
      দিলেম মাথার উপর তুলে কাঁটায় বিঁধে।
    চুলটাকে জড়িয়ে নিলুম কোনোমতে
          টবের গাছ থেকে তুলে নিলুম
                চন্দ্রমল্লিকা বাসন্তীরঙের।
স্টেশনে এসে দেখি গাড়ি আসেই না,
      জানি নে কতক্ষণ গেল--
            পাঁচ মিনিট, হয়তো বা পঁচিশ মিনিট।
গাড়িতে উঠে দেখি চেলি-পরা বিয়ের কনে দলে-বলে;
         আমার চোখে কিছুই পড়ে না যেন,
     খানিকটা লাল রঙের কুয়াশা, একখানা ফিকে ছবি।
      গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর, বেজে উঠছে বাঁশি,
               উড়ে আসছে কয়লার গুঁড়ো,
                    কেবলই মুখ মুছছি রুমালে।
            কোন্‌-এক স্টেশনে
    বাঁকে করে ছানা এনেছে গয়লার দল।
         গাড়িটাকে দেরি করাচ্ছে মিছিমিছি।
             হুইস্‌ল্‌ দিলে শেষকালে;
         সাড়া পড়ল চাকাগুলোয়, চলল গাড়ি।
             গাছপালা, ঘরবাড়ি, পানাপুকুর
          ছুটেছে জানলার দু ধারে পিছনের দিকে --
      পৃথিবী যেন কোথায় কী ফেলে এসেছে ভুলে,
                 ফিরে আর পায় কি-না পায়।
              গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর।
      মাঝখানে অকারণে গাড়িটা থামল অনেক ক্ষণ,
      খেতে খেতে খাবার গলায় বেধে যাবার মতো।
                            আবার বাঁশি বাজল,
                    আবার চলল গাড়ি ঘটর ঘটর।
                          শেষে দেখা দিল হাবড়া স্টেশন।
     চাইলেম না জানালার বাইরে,
                   মনে স্থির করে আছি --
খুঁজতে খুঁজতে আমাকে আবিষ্কার করবে একজন এসে,
         তার পরে দুজনের হাসি।
বিয়ের কনে, টোপর-হাতে আত্মীয়স্বজন,
         সবাই গেল চলে।
      কুলি এসে চাইলে মুখের দিকে,
   দেখলে গাড়ির ভিতরটাতে মুখ বাড়িয়ে,
            কিছুই নেই।
যারা কনেকে নিতে এসেছিল গেল চলে।
         যে জনস্রোত এ মুখে আসছিল
                 ফিরল গেটের দিকে।
গট গট করে চলতে চলতে
গার্ড্‌ আমার জানালার দিকে একটু তাকালে,
ভাবলে মেয়েটা নামে না কেন।
     মেয়েটাকে নামতেই হল।
এই আগন্তুকের ভিড়ের মধ্যে
আমি একটিমাত্র খাপছাড়া।
      মনে হল প্লাটফর্‌ম্‌টার
এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্ত প্রশ্ন করছে আমাকে;
         জবাব দিচ্ছি নীরবে,
                 "না এলেই হত।"
         আর-একবার পড়লুম পোস্টকার্ড্‌খানা --
                       ভুল করি নি তো?
এখন ফিরতি গাড়ি নেই একটাও।
যদি বা থাকত, তবু কি ...
বুকের মধ্যে পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে
            কত রকমের "হয়তো'--
                 সবগুলিই সাংঘাতিক।
      বেরিয়ে এসে তাকিয়ে রইলুম ব্রিজটার দিকে।
            রাস্তার লোক কী ভাবলে জানি নে।
                  সামনে ছিল বাস্‌, উঠে পড়লুম।
                       ফেলে দিলুম চন্দ্রমল্লিকাটা।
আরো দেখুন
44
Verses
যৌবন রে, তুই কি রবি সুখের খাঁচাতে।
     তুই যে পারিস কাঁটাগাছের উচ্চ ডালের 'পরে
                    পুচ্ছ নাচাতে।
     তুই পথহীন সাগরপারের পান্থ,
     তোর ডানা যে অশান্ত অক্লান্ত,
          অজানা তোর বাসার সন্ধানে রে
              অবাধ যে তোর ধাওয়া;
          ঝড়ের থেকে বজ্রকে নেয় কেড়ে
              তোর যে দাবিদাওয়া।
যৌবন রে, তুই কি কাঙাল, আয়ুর ভিখারী।
     মরণ-বনের অন্ধকারে গহন কাঁটাপথে
                    তুই যে শিকারি।
     মৃত্যু যে তার পাত্রে বহন করে
     অমৃতরস নিত্য তোমার তরে;
          বসে আছে মানিনী তোর প্রিয়া
              মরণ-ঘোমটা টানি।
          সেই আবরণ দেখ্‌ রে উতারিয়া
              মুগ্ধ সে মুখখানি।
যৌবন রে, রয়েছ কোন্‌ তানের সাধনে।
     তোমার বাণী শুষ্ক পাতায় রয় কি কভু বাঁধা
                     পুঁথির বাঁধনে।
     তোমার বাণী দখিন হাওয়ার বীণায়
     অরণ্যেরে আপনাকে তার চিনায়,
          তোমার বাণী জাগে প্রলয়মেঘে
              ঝড়ের ঝংকারে;
     ঢেউয়ের 'পরে বাজিয়ে চলে বেগে
          বিজয়-ডঙ্কা রে।
যৌবন রে, বন্দী কি তুই আপন গণ্ডিতে।
     বয়সের এই মায়াজালের বাঁধনখানা তোরে
          হবে খণ্ডিতে।
     খড়গসম তোমার দীপ্ত শিখা
     ছিন্ন করুক জরার কুজ্‌ঝটিকা,
     জীর্ণতারি বক্ষ দু-ফাঁক ক'রে
              অমর পুষ্প তব
     আলোকপানে লোকে লোকান্তরে
              ফুটুক নিত্য নব।
যৌবন রে, তুই কি হবি ধুলায় লুণ্ঠিত।
     আবর্জনার বোঝা মাথায় আপন গ্লানিভারে
                         রইবি কুণ্ঠিত?
     প্রভাত যে তার সোনার মুকুটখানি
     তোমার তরে প্রত্যুষে দেয় আনি,
          আগুন আছে ঊর্ধ্ব শিখা জ্বেলে
              তোমার সে যে কবি।
          সূর্য তোমার মুখে নয়ন মেলে
              দেখে আপন ছবি।
আরো দেখুন