শেষ হিসাব (shesh hisab)

চেনাশোনার সাঁঝবেলাতে

          শুনতে আমি চাই--

পথে পথে চলার পালা

          লাগল কেমন, ভাই।

দুর্গম পথ ছিল ঘরেই,

          বাইরে বিরাট পথ--

তেপান্তরের মাঠ কোথা-বা,

          কোথা-বা পর্বত।

কোথা-বা সে চড়াই উঁচু,

          কোথা-বা উতরাই,

                   কোথা-বা পথ নাই।

মাঝে-মাঝে জুটল অনেক ভালো--

          অনেক ছিল বিকট মন্দ,

                   অনেক কুশ্রী কালো।

ফিরেছিলে আপন মনের

          গোপন অলিগলি,

পরের মনের বাহির-দ্বারে

          পেতেছে অঞ্জলি।

আশাপথের রেখা বেয়ে

          কতই এলে গেলে,

পাওনা ব'লে যা পেয়েছ

          অর্থ কি তার পেলে।

                   অনেক কেঁদে-কেটে

ভিক্ষার ধন জুটিয়েছিলে

          অনেক রাস্তা হেঁটে।

পথের মধ্যে লুঠেল দস্যু

          দিয়েছিল হানা,

উজাড় করে নিয়েছিল

          ছিন্ন ঝুলিখানা।

অতি কঠিন আঘাত তারা

          লাগিয়েছিল বুকে--

ভেবেছিলুম, চিহ্ন নিয়ে

          সে সব গেছে চুকে।

হাটে-বাটে মধুর যাহা

          পেয়েছিলুম খুঁজি,

মনে ছিল, যত্নের ধন

          তাই রয়েছে পুঁজি।

হায় রে ভাগ্য, খোলো তোমার ঝুলি।

          তাকিয়ে দেখো, জমিয়েছিলে ধূলি।

নিষ্ঠুর যে ব্যর্থকে সে    

          করে যে বর্জিত,

দৃঢ় কঠোর মুষ্টিতলে

          রাখে সে অর্জিত

নিত্যকালের রতন-কণ্ঠহার;

          চিরমূল্য দেয় সে তারে

                   দারুণ বেদনার।

আর যা-কিছু জুটেছিল

          না চাহিতেই পাওয়া--

আজকে তারা ঝুলিতে নেই,

          রাত্রিদিনের হাওয়া

ভরল তারাই, দিল তারা

          পথে চলার মানে,

রইল তারাই একতারাতে

          তোমার গানে গানে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

154
Verses
BY PLUCKING her petals you do not gather the beauty of the flower.
আরো দেখুন
189
Verses
THE SPIRIT OF work in creation is there
to carry and help the spirit of play.
আরো দেখুন
শেষ বসন্ত
Verses
          আজিকার দিন না ফুরাতে
          হবে মোর এ আশা পুরাতে--
                শুধু এবারের মতো
                বসন্তের ফুল যত
          যাব মোরা দুজনে কুড়াতে।
তোমার কাননতলে ফাল্গুন আসিবে বারম্বার,
তাহারি একটি শুধু মাগি আমি দুয়ারে তোমার।
          বেলা কবে গিয়াছে বৃথাই
          এতকাল ভুলে ছিনু তাই।
                হঠাৎ তোমার চোখে
                দেখিয়াছি সন্ধ্যালোকে
          আমার সময় আর নাই।
তাই আমি একে একে গনিতেছি কৃপণের সম
ব্যাকুল সংকোচভরে বসন্তশেষের দিন মম।
          ভয় রাখিয়ো না তুমি মনে!
          তোমার বিকচ ফুলবনে
                দেরি করিব না মিছে,
                ফিরে চাহিব না পিছে
          দিনশেষে বিদায়ের ক্ষণে।
চাব না তোমার চোখে আঁখিজল পাব আশা করি
রাখিবারে চিরদিন স্মৃতিরে করুণারসে ভরি।
          ফিরিয়া যেয়ো না, শোনো শোনো,
          সূর্য অস্ত যায় নি এখনো।
                সময় রয়েছে বাকি;
                সময়েরে দিতে ফাঁকি
          ভাবনা রেখো না মনে কোনো।
পাতার আড়াল হতে বিকালের আলোটুকু এসে
আরো কিছুখন ধরে ঝলুক তোমার কালো কেশে।
          হাসিয়া মধুর উচ্চহাসে
          অকারণ নির্মম উল্লাসে,
                বনসরসীর তীরে
                ভীরু কাঠবিড়ালিরে
          সহসা চকিত কোরো ত্রাসে।
ভুলে-যাওয়া কথাগুলি কানে কানে করায়ে স্মরণ
দিব না মন্থর করি ওই তব চঞ্চল চরণ।
          তার পরে যেয়ো তুমি চলে
          ঝরা পাতা দ্রুতপদে দোলে,
                নীড়ে-ফেরা পাখি যবে
                অস্ফুট কাকলিরবে
          দিনান্তেরে ক্ষুব্ধ করি তোলে।
বেণুবনচ্ছায়াঘন সন্ধ্যায় তোমার ছবি দূরে
মিলাইবে গোধূলির বাঁশরির সর্বশেষ সুরে।
          রাত্রি যবে হবে অন্ধকার
          বাতায়নে বসিয়ো তোমার।
                সব ছেড়ে যাব, প্রিয়ে,
                সমুখের পথ দিয়ে,
          ফিরে দেখা হবে না তো আর।
ফেলে দিয়ো ভোরে-গাঁথা ম্লান মল্লিকার মালাখানি।
সেই হবে স্পর্শ তব, সেই হবে বিদায়ের বাণী।
আরো দেখুন