প্রায়শ্চিত্ত (prayoshchitto)

               উপর আকাশে সাজানো তড়িৎ-আলো--

     নিম্নে নিবিড় অতিবর্বর কালো

ভূমিগর্ভের রাতে--

      ক্ষুধাতুর আর ভূরিভোজীদের

                    নিদারুণ সংঘাতে

     ব্যাপ্ত হয়েছে পাপের দুর্দহন,

     সভ্যনামিক পাতালে যেথায়

                   জমেছে লুটের ধন।

     দুঃসহ তাপে গর্জি উঠিল

                   ভূমিকম্পের রোল,

     জয়তোরণের ভিত্তিভূমিতে

                   লাগিল ভীষণ দোল।

     বিদীর্ণ হল ধনভাণ্ডারতল,

     জাগিয়া উঠিছে গুপ্ত গুহার

                   কালীনাগিনীর দল।

          দুলিছে বিকট ফণা,

     বিষনিশ্বাসে ফুঁসিছে অগ্নিকণা।

             নিরর্থ হাহাকারে

     দিয়ো না দিয়ো না অভিশাপ বিধাতারে।

               পাপের এ সঞ্চয়      

         সর্বনাশের পাগলের হাতে

                   আগে হয়ে যাক ক্ষয়।

       বিষম দুঃখে ব্রণের পিণ্ড

               বিদীর্ণ হয়ে, তার

          কলুষপুঞ্জ ক'রে দিক উদগার।

     ধরার বক্ষ চিরিয়া চলুক

               বিজ্ঞানী হাড়গিলা,

          রক্তসিক্ত লুব্ধ নখর

               একদিন হবে ঢিলা।

প্রতাপের ভোজে আপনারে যারা বলি করেছিল দান

          সে-দুর্বলের দলিত পিষ্ট প্রাণ

               নরমাংসাশী করিতেছে কাড়াকাড়ি,

                   ছিন্ন করিছে নাড়ী।

তীক্ষ্ণ দশনে টানাছেঁড়া তারি দিকে দিকে যায় ব্যেপে

                        রক্তপঙ্কে ধরার অঙ্ক লেপে।

               সেই বিনাশের প্রচণ্ড মহাবেগে

     একদিন শেষে বিপুলবীর্য শান্তি উঠিবে জেগে।

                 মিছে করিব না ভয়,

           ক্ষোভ জেগেছিল তাহারে করিব জয়।

              জমা হয়েছিল আরামের লোভে

                             দুর্লভতার রাশি,

              লাগুক তাহাতে লাগুক আগুন--

                   ভস্মে ফেলুক গ্রাসি।

          ঐ দলে দলে ধার্মিক ভীরু

                        কারা চলে গির্জায়

                   চাটুবাণী দিয়ে ভুলাইতে দেবতায়।

          দীনাত্মাদের বিশ্বাস, ওরা

                     ভীত প্রার্থনারবে

                      শান্তি আনিবে ভবে।

          কৃপণ পূজায় দিবে নাকো কড়িকড়া।

                   থলিতে ঝুলিতে কষিয়া আঁটিবে

                               শত শত দড়িদড়া।

                   শুধু বাণীকৌশলে

                              জিনিবে ধরণীতলে।

                   স্তূপাকার লোভ

                             বক্ষে রাখিয়া জমা

                   কেবল শাস্ত্রমন্ত্র পড়িয়া

                             লবে বিধাতার ক্ষমা।

          সবে না দেবতা হেন অপমান

                    এই ফাঁকি ভক্তির।

          যদি এ ভুবনে থাকে আজো তেজ

                          কল্যাণশক্তির

          ভীষণ যজ্ঞে প্রায়শ্চিত্ত

                    পূর্ণ করিয়া শেষে

          নূতন জীবন নূতন আলোকে

                    জাগিবে নূতন দেশে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

31
Verses
ONLY A PORTION of my gift is in this world, the rest of it is in my dreams.
You, who ever elude my touch, come there in secret silence, hiding your lamp.
I shall know you by the thrill in the darkness, by the whisper of the unseen worlds, by the breath of the unknown shore;-
I shall know you by the sudden delight of my heart melting into sadness of tears.
আরো দেখুন
177
Verses
বিশ্বের হৃদয়-মাঝে
      কবি আছে সে কে!
কুসুমের লেখা তার
      বারবার লেখে--
অতৃপ্ত হৃদয়ে তাহা
      বারবার মোছে,
অশান্ত প্রকাশব্যথা
      কিছুতে না ঘোচে।
আরো দেখুন
বুদ্ধভক্তি
Verses
জাপানের কোনো কাগজে পড়েছি, জাপানি সৈনিক
যুদ্ধের সাফল্য কামনা করে যুদ্ধমন্দিরে
পূজা দিতে গিয়েছিল। ওরা শক্তির বাণ মারছে চীনকে,
ভক্তির বাণ বুদ্ধকে।
     হুংকৃত যুদ্ধের বাদ্য
সংগ্রহ করিবারে শমনের খাদ্য।
সাজিয়াছে ওরা সবে উৎকটদর্শন,
দন্তে দন্তে ওরা করিতেছে ঘর্ষণ,
হিংসার উষ্মায় দারুণ অধীর
সিদ্ধির বর চায় করুণানিধির--
     ওরা তাই স্পর্ধায় চলে
     বুদ্ধের মন্দিরতলে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
     গর্জিয়া প্রার্থনা করে--
আর্তরোদন যেন জাগে ঘরে ঘরে।
আত্মীয়বন্ধন করি দিবে ছিন্ন,
গ্রামপল্লীর রবে ভস্মের চিহ্ন,
হানিবে শূন্য হতে বহ্নি-আঘাত,
বিদ্যার নিকেতন হবে ধূলিসাৎ--
     বক্ষ ফুলায়ে বর যাচে
     দয়াময় বুদ্ধের কাছে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
     হত-আহতের গনি সংখ্যা
তালে তালে মন্দ্রিত হবে জয়ডঙ্কা।
নারীর শিশুর যত কাটা-ছেঁড়া অঙ্গ
জাগাবে অট্টহাসে পৈশাচী রঙ্গ,
মিথ্যায় কলুষিবে জনতার বিশ্বাস,
বিষবাষ্পের বাণে রোধি দিবে নিশ্বাস--
     মুষ্টি উঁচায়ে তাই চলে
     বুদ্ধেরে নিতে নিজ দলে।
তূরী ভেরি বেজে ওঠে রোষে গরোগরো,
ধরাতল কেঁপে ওঠে ত্রাসে থরোথরো।
আরো দেখুন