সবলা (sobola)

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার

     কেন নাহি দিবে অধিকার

          হে বিধাতা?

          নত করি মাথা

পথপ্রান্তে কেন রব জাগি

ক্লান্তধৈর্য প্রত্যাশার পূরণের লাগি

          দৈবাগত দিনে।

শুধু শূন্যে চেয়ে রব?   কেন নিজে নাহি লব চিনে

          সার্থকের পথ।

     কেন না ছুটাব তেজে সন্ধানের রথ

     দুর্ধর্ষ অশ্বেরে বাঁধি দৃঢ় বল্‌গাপাশে।

     দুর্জয় আশ্বাসে

দুর্গমের দুর্গ হতে সাধনার ধন

     কেন নাহি করি আহরণ

          প্রাণ করি পণ।

যাব না বাসরকক্ষে বধূবেশে বাজায়ে কিঙ্কিণী --

     আমারে প্রেমের বীর্যে করো অশঙ্কিনী।

          বীরহস্তে বরমাল্য লব একদিন

          সে লগ্ন কি একান্তে বিলীন

              ক্ষীণদীপ্তি গোধূলিতে।

     কভু তারে দিব না ভুলিতে

              মোর দৃপ্ত কঠিনতা।

                   বিনম্র দীনতা

     সম্মানের যোগ্য নহে তার,

ফেলে দেব আচ্ছাদন দুর্বল লজ্জার।

          দেখা হবে ক্ষুব্ধ সিন্ধুতীরে;

তরঙ্গগর্জনোচ্ছ্বাস মিলনের বিজয়ধ্বনিরে

          দিগন্তের বক্ষে নিক্ষেপিবে।

মাথার গুণ্ঠন খুলি কব তারে, মর্তে বা ত্রিদিবে

              একমাত্র তুমিই আমার।

          সমুদ্র-পাখির পক্ষে সেইক্ষণে উঠিবে হুংকার

              পশ্চিম পবন হানি,

সপ্তর্ষি-আলোকে যবে যাবে তারা পন্থা অনুমানি।

হে বিধাতা, আমারে রেখো না বাক্যহীনা,

     রক্তে মোর জাগে রুদ্র বীণা।

উত্তরিয়া জীবনের সর্বোন্নত মুহূর্তের 'পরে

     জীবনের সর্বোত্তম বাণী যেন ঝরে

              কণ্ঠ হতে

          নির্বারিত স্রোতে।

     যাহা মোর অনির্বচনীয়

তারে যেন চিত্ত-মাঝে পায় মোর প্রিয়।

     সময় ফুরায় যদি, তবে তার পরে

শান্ত হোক সে-নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের নিস্তব্ধ সাগরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জলযাত্রা
Verses
নৌকো বেঁধে কোথায় গেল, যা ভাই মাঝি ডাকতে
মহেশগঞ্জে যেতে হবে শীতের বেলা থাকতে।
পাশের গাঁয়ে ব্যাবসা করে ভাগ্নে আমার বলাই,
তার আড়তে আসব বেচে খেতের নতুন কলাই।
সেখান থেকে বাদুড়ঘাটা আন্দাজ তিনপোয়া,
যদুঘোষের দোকান থেকে নেব খইয়ের মোয়া।
পেরিয়ে যাব চন্দনীদ' মুন্সিপাড়া দিয়ে,
মালসি যাব, পুঁটকি সেথায় থাকে মায়ে ঝিয়ে।
ওদের ঘরে সেরে নেব দুপুরবেলার খাওয়া;
তারপরেতে মেলে যদি পালের যোগ্য হাওয়া
একপহরে চলে যাব মুখ্‌লুচরের ঘাটে,
যেতে যেতে সন্ধে হবে খড়কেডাঙার হাটে।
সেথায় থাকে নওয়াপাড়ায় পিসি আমার আপন,
তার বাড়িতে উঠব গিয়ে, করব রাত্রিযাপন।
তিন পহরে শেয়ালগুলো উঠবে যখন ডেকে
ছাড়ব শয়ন ঝাউয়ের মাথায় শুকতারাটি দেখে।
লাগবে আলোর পরশমণি পুব আকাশের দিকে,
     একটু ক'রে আঁধার হবে ফিকে।
       বাঁশের বনে একটি-দুটি কাক
          দেবে প্রথম ডাক।
সদর পথের ঐ পারেতে গোঁসাইবাড়ির ছাদ
আড়াল করে নামিয়ে নেবে একাদশীর চাঁদ।
উসুখুসু করবে হাওয়া শিরীষ গাছের পাতায়,
রাঙা রঙের ছোঁয়া দেবে দেউল-চুড়োর মাথায়।
     বোষ্টমি সে ঠুনুঠুনু বাজাবে মন্দিরা,
সকালবেলার কাজ আছে তার নাম শুনিয়ে ফিরা।
     হেলেদুলে পোষা হাঁসের দল
যেতে যেতে জলের পথে করবে কোলাহল।
আমারও পথ হাঁসের যে-পথ, জলের পথে যাত্রী,
ভাসতে যাব ঘাটে ঘাটে ফুরোবে যেই রাত্রি।
সাঁতার কাটব জোয়ার-জলে পৌঁছে উজিরপুরে,
শুকিয়ে নেব  ভিজে ধুতি বালিতে রোদ্‌দুরে।
            গিয়ে ভজনঘাটা
কিনব বেগুন পটোল মুলো, কিনব সজনেডাঁটা।
            পৌঁছব আটবাঁকে,
সূর্য উঠবে মাঝগগনে, মহিষ নামবে পাঁকে।
কোকিল-ডাকা বকুল-তলায় রাঁধব আপন হাতে,
কলার পাতায় মেখে নেব গাওয়া ঘি আর ভাতে।
মাখনাগাঁয়ে পাল নামাবে, বাতাস যাবে থেমে;
বনঝাউ-ঝোপ রঙিয়ে দিয়ে সূর্য পড়বে নেমে।
বাঁকাদিঘির ঘাটে যাব যখন সন্ধে হবে
     গোষ্ঠে-ফেরা ধেনুর হাম্বারবে।
ভেঙে-পড়া ডিঙির মতো হেলে-পড়া দিন
তারা-ভাসা আঁধার-তলায় কোথায় হবে লীন।
আরো দেখুন
অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
Verses
অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
       সেই তো তোমার আলো।
সকল দ্বন্দ্ব-বিরোধ-মাঝে জাগ্রত যে ভালো,
       সেই তো তোমার ভালো।
পথের ধুলায় বক্ষ পেতে রয়েছে যেই গেহ
       সেই তো তোমার গেহ।
সমর-ঘাতে অমর করে রুদ্র নিঠুর স্নেহ
       সেই তো তোমার স্নেহ।
সব ফুরালে বাকি রহে অদৃশ্য যেই দান
       সেই তো তোমার দান।
মৃত্যু আপন পাত্রে ভরি বহিছে যেই প্রাণ
       সেই তো তোমার প্রাণ।
বিশ্বজনের পায়ের তলে ধূলিময় যে ভূমি
       সেই তো স্বর্গভূমি।
সবায় নিয়ে সবার মাঝে লুকিয়ে আছ তুমি
       সেই তো আমার তুমি।
আরো দেখুন
মনে পড়া
Verses
মাকে আমার পড়ে না মনে।
          শুধু কখন খেলতে গিয়ে
                   হঠাৎ অকারণে
একটা কী সুর গুনগুনিয়ে
          কানে আমার বাজে,
মায়ের কথা মিলায় যেন
          আমার খেলার মাঝে।
মা বুঝি গান গাইত, আমার
          দোলনা ঠেলে ঠেলে;
মা গিয়েছে, যেতে যেতে
          গানটি গেছে ফেলে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
          শুধু যখন আশ্বিনেতে
                   ভোরে শিউলিবনে
শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে
          ফুলের গন্ধ আসে,
তখন কেন মায়ের কথা
          আমার মনে ভাসে?
কবে বুঝি আনত মা সেই
          ফুলের সাজি বয়ে,
পুজোর গন্ধ আসে যে তাই
          মায়ের গন্ধ হয়ে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
          শুধু যখন বসি গিয়ে
                   শোবার ঘরের কোণে;
জানলা থেকে তাকাই দূরে
          নীল আকাশের দিকে
মনে হয়, মা আমার পানে
          চাইছে অনিমিখে।
কোলের 'পরে ধরে কবে
          দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
          সারা আকাশ ছেয়ে।
আরো দেখুন