অর্ঘ্য (orghyo)

সূর্যমুখীর বর্ণে বসন

            লই রাঙায়ে,

অরুণ আলোর ঝংকার মোর

            লাগলো গায়ে।

অঞ্চলে মোর কদমফুলের ভাষা

বক্ষে জড়ায় আসন্ন কোন্‌ আশা,

       কৃষ্ণকলির হেমাঞ্জলির

                   চঞ্চলতা

       কঞ্চুলিকার স্বর্ণলিখায়

                   মিলায় কথা।

আজ যেন পায় নয়ন আপন

            নতুন জাগা।

আজ আসে দিন প্রথম দেখার

            দোলন-লাগা।

এই ভুবনের একটি অসীম কোণ,

যুগলপ্রাণের গোপন পদ্মাসন,

সেথায় আমায় ডাক দিয়ে যায়

            নাই জানা কে,

সাগরপারের পান্থপাখির

            ডানার ডাকে।

চলব ডালায় আলোকমালায়

            প্রদীপ জ্বেলে,

ঝিল্লিঝনন অশোকতলায়

            চমক মেলে।

আমার প্রকাশ নতুন বচন ধ'রে

আপনাকে আজ নতুন রচন ক'রে,

ফাগুনবনের গুপ্ত ধনের

            আভাস-ভরা,

রক্তদীপন প্রাণের আভায়

            রঙিন-করা।

চক্ষে আমার জ্বলবে আদিম

            অগ্নিশিখা,

প্রথম ধরায় সেই যে পরায়

            আলোর টিকা।

নীরবে হাসির সোনার বাঁশির ধ্বনি

করবে ঘোষণ প্রেমের উদ্‌বোধনী,

প্রাণদেবতার মন্দিরদ্বার

            যাক রে খুলে,

অঙ্গ আমার অর্ঘ্যের থাল

            অরূপ ফুলে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

না-পাওয়া
Verses
ওগো মোর না-পাওয়া গো, ভোরের অরুণ-আভাসনে
ঘুমে ছুঁয়ে যাও মোর পাওয়ার পাখিরে ক্ষণে ক্ষণে।
            সহসা স্বপন টুটে
            তাই সে যে গেয়ে উঠে
                 কিছু তার বুঝি নাহি বুঝি।
            তাই সে যে পাখা মেলে
            উড়ে যায় ঘর ফেলে,
                 ফিরে আসে কারে খুঁজি খুঁজি।
ওগো মোর না-পাওয়া গো, সায়াহ্নের করুণ কিরণে
পূরবীতে ডাক দাও আমার পাওয়ারে ক্ষণে ক্ষণে।
            হিয়া তাই ওঠে কেঁদে,
            রাখিতে পারি না বেঁধে,
                 অকারণে দূরে থাকে চেয়ে--
            মলিন আকাশতলে
            যেন কোন্‌ খেয়া চলে,
                 কে যে যায় সারিগান গেয়ে।
ওগো মোর না-পাওয়া গো, বসন্তনিশীথসমীরণে
অভিসারে আসিতেছ আমার পাওয়ার কুঞ্জবনে।
            কে জানালো সে কথা যে
            গোপন হৃদয়মাঝে
                 আজও তাহা বুঝিতে পারি নি।
            মনে হল পলে পলে
            দূর পথে বেজে চলে
                 ঝিল্লিরবে তাহার কিঙ্কিণী।
ওগো মোর না-পাওয়া গো, কখন আসিয়া সংগোপনে
আমার পাওয়ার বীণা কাঁপাও অঙ্গুলিপরশনে।
            কার গানে কার সুর
            মিলে গেছে সুমধুর
                 ভাগ করে কে লইবে চিনে।
            ওরা এসে বলে, "এ কী,
            বুঝাইয়া বলো দেখি।'
                 আমি বলি বুঝাতে পারি নে।
ওগো মোর না-পাওয়া গো, শ্রাবণের অশান্ত পবনে
কদম্ববনের গন্ধে জড়িত বৃষ্টির বরিষনে
            আমার পাওয়ার কানে
            জানি নে তো মোর গানে
                 কার কথা বলি আমি কারে।
            "কী কহ' সে যবে পুছে
            তখন সন্দেহ ঘুচে--
                 আমার বন্দনা না-পাওয়ারে।
আরো দেখুন
অদৃশ্য কারণ
Verses
রজনী গোপনে বনে ডালপালা ভ'রে
কুঁড়িগুলি ফুটাইয়া নিজে যায় স'রে।
ফুল জাগি বলে, মোরা প্রভাতের ফুল--
মুখর প্রভাত বলে, নাহি তাহে ভুল।
আরো দেখুন
30
Verses
ধীরে সন্ধ্যা আসে, একে একে গ্রন্থি যত যায় স্খলি
প্রহরের কর্মজাল হতে। দিন দিল জলাঞ্জলি
খুলি পশ্চিমের সিংহদ্বার
সোনার ঐশ্বর্য তার
অন্ধকার আলোকের সাগরসংগমে।
দূর প্রভাতের পানে নত হয়ে নিঃশব্দে প্রণমে।
চক্ষু তার মুদে আসে,এসেছে সময়
গভীর ধানের তলে আপনার বাহ্য পরিচয়
করিতে মগন।
নক্ষত্রের শান্তিক্ষেত্র অসীম গগন
যেথা ঢেকে রেখে দেয় দিনশ্রীর অরূপ সত্তারে,
সেথায় করিতে লাভ সত্য আপনারে
খেয়া দেয় রাত্রি পারাবারে।
আরো দেখুন