দূত (dut)

ছিনু আমি বিষাদে মগনা

                   অন্যমনা

            তোমার বিচ্ছেদ-অন্ধকারে।

            হেনকালে নির্জন কুটিরদ্বারে

                   অকস্মাৎ

               কে করিল করাঘাত,

কহিল গম্ভীর কণ্ঠে, অতিথি এসেছি, দ্বার-খোলো।

                   মনে হল

            ওই যেন তোমারি স্বর শুনি,

            ওই যেন দক্ষিণবায়ু দূরে ফেলি মদির ফাল্‌গুনী

                   দিগন্তে আসিল পূর্বদ্বারে,

            পাঠালো নির্ঘোষ তার বজ্রধ্বনিমন্দ্রিত মল্লারে।

                   কেঁপেছিল বক্ষতল

                 বিলম্ব করি নি তবু অর্ধ পল।

                 মুহূর্তে মুছিনু অশ্রুবারি,

                   বিরহিণী নারী,

ছাড়িনু ধেয়ান তব তোমারি সম্মানে,

                   ছুটে গেনু দ্বার-পানে।

            শুধালেম, তুমি দূত কার।

          সে কহিল, আমি তো সবার।

যে ঘরে তোমার শয্যা একদিন পেতেছি আদরে

            ডাকিলাম তারে সেই ঘরে।

                   আনিলাম অর্ঘ্যথালি,

                             দীপ দিনু জ্বালি।

     দেখিলাম বাঁধা তারি ভালে

                   যে মালা পরায়েছিনু তোমারেই বিদায়ের কালে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রতীক্ষা
Verses
অসীম আকাশে মহাতপস্বী                
          মহাকাল আছে জাগি।
আজিও যাহারে কেহ নাহি জানে,
দেয় নি যে দেখা আজো কোনোখানে,
সেই অভাবিত কল্পনাতীত
          আবির্ভাবের লাগি
          মহাকাল আছে জাগি।
বাতাসে আকাশে যে নবরাগিণী
জগতে কোথাও কখনো জাগে নি
রহস্যলোকে তারি গান সাধা
          চলে অনাহত রবে।
ভেঙে যাবে বাঁধ স্বর্গপুরের,
প্লাবন বহিবে নূতন সুরের,
বধির যুগের প্রাচীন প্রাচীর
          ভেসে চলে যাবে তবে।
যার পরিচয় কারো মনে নাই,
যার নাম কভু কেহ শোনে নাই,
না জেনে নিখিল পড়ে আছে পথে
          যার দরশন মাগি--
তারি সত্যের অপরূপ রসে
চমকিবে মন অভূত পরশে,
মৃত পুরাতন জড় আবরণ
          মুহূর্তে যাবে ভাগি,
যুগ যুগ ধরি তাহার আশায়
          মহাকাল আছে জাগি।    
আরো দেখুন
226
Verses
THOSE WHO have everything but thee, my God, laugh at those who have nothing but thyself.
আরো দেখুন
মুক্তি
Verses
                        জয় করেছিনু মন তাহা বুঝে নাই,
                             চলে গেনু তাই
                                  নতশিরে।
মনে ক্ষীণ আশা ছিল ডাকিবে সে ফিরে।
          মানিল না হার,
         আমারে করিল অস্বীকার।
                             বাহিরে রহিনু খাড়া
                           কিছুকাল, না পেলেম সাড়া।
                             তোরণদ্বারের কাছে
                                  চাঁপাগাছে
                             দক্ষিণে বাতাস থরথরি
                       অন্ধকারে পাতাগুলি উঠিল মর্মরি।
                             দাঁড়ালেম পথপাশে,
          ঊর্ধ্বে বাতায়ন-পানে তাকালেম ব্যর্থ কী আশ্বাসে।
                        দেখিনু নিবানো বাতি--
                             আত্মগুপ্ত অহংকৃত রাতি
                        কক্ষ হতে পথিকেরে হানিছে ভ্রূকুটি।
          এ কথা ভাবি নি মনে, অন্ধকারে ভূমিতলে লুটি
               হয়তো সে করিতেছে খান্‌ খান্‌
                   তীব্রঘাতে আপনার অভিমান।
                        দূর হতে দূরে গেনু সরে
          প্রত্যাখ্যানলাঞ্ছনার বোঝা বক্ষে ধরে।
                   চরের বালুকা ঠেকা
               পরিত্যক্ত তরীসম রহিল সে একা।
আশ্বিনের ভোরবেলা চেয়ে দেখি পথে যেতে যেতে
          ক্ষীণ কুয়াশায় ঢাকা কচিধানখেতে
                   দাঁড়িয়ে রয়েছে বক,
দিগন্তে মেঘের গুচ্ছে দুলিয়াছে উষার অলক।
     সহসা উঠিল বলি হৃদয় আমার,
          দেখিলাম যাহা দেখিবার
                   নির্মল আলোকে
                             মোহমুক্ত চোখে।
    কামনার যে পিঞ্জরে শান্তিহীন
          অবরুদ্ধ ছিনু এতদিন
                   নিষ্ঠুর আঘাতে তার
                             ভেঙে গেছে দ্বার--
               নিরন্তর আকাঙক্ষার এসেছি বাহিরে
                   সীমাহীন বৈরাগ্যের তীরে।
                        আপনারে শীর্ণ করি
                             দিবসশর্বরী
                                 ছিনু জাগি
                             মুষ্টিভিক্ষা লাগি।
                   উন্মুক্ত বাতাসে
          খাঁচার পাখির গান ছাড়া আজি পেয়েছে আকাশে।
                   সহসা দেখিনু প্রাতে
          যে আমারে মুক্তি দিল আপনার হাতে
                   সে আজও রয়েছে পড়ি
          আমারি সে ভেঙে-পড়া পিঞ্জর আঁকড়ি।
আরো দেখুন