লেখন (169)

১৬৯

১৬৯

সমস্ত-আকাশ-ভরা আলোর মহিমা

তৃণের শিশিরমাঝে খোঁজে নিজ সীমা॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বালক
Verses
বয়স তখন ছিল কাঁচা; হালকা দেহখানা
ছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।
উড়ত পাশের ছাদের থেকে পায়রাগুলোর ঝাঁক,
বারান্দাটার রেলিং-'পরে ডাকত এসে কাক।
ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ওপার থেকে,
তপসিমাছের ঝুড়ি নিত গামছা দিয়ে ঢেকে।
বেহালাটা হেলিয়ে কাঁধে ছাদের 'পরে দাদা,
সন্ধ্যাতারার সুরে যেন সুর হত তাঁর সাধা।
জুটেছি বৌদিদির কাছে ইংরেজি পাঠ ছেড়ে,
মুখখানিতে-ঘের-দেওয়া তাঁর শাড়িটি লালপেড়ে।
চুরি ক'রে চাবির গোছা লুকিয়ে ফুলের টবে
স্নেহের রাগে রাগিয়ে দিতেম নানান উপদ্রবে।
কঙ্কালী চাটুজ্জে হঠাৎ জুটত সন্ধ্যা হলে;
বাঁ হাতে তার থেলো হুঁকো, চাদর কাঁধে ঝোলে।
দ্রুত লয়ে আউড়ে যেত লবকুশের ছড়া;
থাকত আমার খাতা লেখা, পড়ে থাকত পড়া--
মনে মনে ইচ্ছে হত, যদিই কোনো ছলে
ভর্তি হওয়া সহজ হত এই পাঁচালির দলে
ভাব্‌না মাথায় চাপত নাকো ক্লাসে ওঠার দায়ে,
গান শুনিয়ে চলে যেতুম নতুন নতুন গাঁয়ে।
স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসে
হঠাৎ দেখি, মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে।
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, রাস্তা ভাসে জলে,
ঐরাবতের শুঁড় দেখা দেয় জল-ঢালা সব নলে।
অন্ধকারে শোনা যেত রিম্‌ঝিমিনি ধারা,
রাজপুত্র তেপান্তরে কোথা সে পথহারা।
ম্যাপে যে-সব পাহাড় জানি, জানি যে-সব গাঙ
কুয়েন্‌লুন আর মিসিসিপি ইয়াংসিকিয়াং,
জানার সঙ্গে আধেক-জানা, দূরের থেকে শোনা,
নানা রঙের নানা সুতোয় সব দিয়ে জাল-বোনা,
নানারকম ধ্বনির সঙ্গে নানান চলাফেরা
সব দিয়ে এক হালকা জগৎ মন দিয়ে মোর ঘেরা,
ভাব্‌নাগুলো তারই মধ্যে ফিরত থাকি থাকি,
বানের জলে শ্যাওলা যেমন, মেঘের তলে পাখি।
                
আরো দেখুন
উৎসব
Verses
মোর      অঙ্গে অঙ্গে যেন আজি বসন্ত-উদয়
          কত        পত্রপুষ্পময়।
               যেন মধুপের মেলা
               গুঞ্জরিছে সারাবেলা,
               হেলাভরে করে খেলা
                      অলস মলয়।
               ছায়া আলো অশ্রু হাসি
               নৃত্য গীত বীণা বাঁশি,
               যেন মোর অঙ্গে আসি
                      বসন্ত-উদয়
          কত           পত্রপুষ্পময়।
তাই      মনে হয় আমি পরম সুন্দর,
          আমি         অমৃতনির্ঝর।
               সুখসিক্ত নেত্র মম
               শিশিরিত পুষ্পসম,
               ওষ্ঠে হাসি নিরুপম
                     মাধুরীমন্থর।
               মোর পুলকিত হিয়া
               সর্বদেহে বিলসিয়া
               বক্ষে উঠে বিকশিয়া
                     পরম সুন্দর,
          নব            অমৃতনির্ঝর।
ওগো,      যে তুমি আমার মাঝে নূতন নবীন
          সদা       আছ নিশিদিন,
            তুমি কি বসেছ আজি
               নব বরবেশে সাজি,
               কুন্তলে কুসুমরাজি,
                      অঙ্কে লয়ে বীন,
               ভরিয়া আরতিথালা
               জ্বালায়েছ দীপমালা,
               সাজায়েছ পুষ্পডালা
                      নূতন নবীন--
          আজি        বসন্তের দিন।
ওগো      তুমি কি উতলাসম  বেড়াইছ ফিরে
             মোর        হৃদয়ের তীরে?
               তোমারি কি চারিপাশ
               কাঁপে শত অভিলাষ,
               তোমারি কি পট্টবাস
                      উড়িছে সমীরে?
               নব গান তব মুখে
               ধ্বনিছে আমার বুকে,
               উচ্ছ্বসিয়া সুখে দুখে
                      হৃদয়ের  তীরে
     তুমি           বেড়াইছ ফিরে।
আজি      তুমি কি দেখিছ এই শোভা রাশি রাশি
              ওগো           মনোবনবাসী।
                    আমার নিশ্বাসবায়
                    লাগিছে কি তব গায়,
                    বাসনার পুষ্প পায়
                         পড়িছে কি আসি।
                    উঠিছে কি কলতান
                    মর্মরগুঞ্জরগান,
                    তুমি কি করিছ পান
                          মোর সুধারাশি
                    ওগো মনোবনবাসী।
আজি      এ উৎসবকলরব কেহ নাহি জানে,
              শুধু           আছে তাহা প্রাণে।
                      শুধু এ বক্ষের কাছে
                    কী জানি কাহারা নাচে,
                    সর্বদেহ মাতিয়াছে
                           শব্দহীন গানে।
                    যৌবনলাবণ্যধারা
                    অঙ্গে অঙ্গে পথহারা,
                    এ আনন্দ তুমি ছাড়া
                           কেহ নাহি জানে--
               তুমি        আছ মোর প্রাণে।
আরো দেখুন
দ্বারে
Verses
    একা তুমি নিঃসঙ্গ প্রভাতে,
অতীতের দ্বার রুদ্ধ তোমার পশ্চাতে।
        সেথা হল অবসান
        বসন্তের সব দান,
উৎসবের সব বাতি নিবে গেল রাতে।
    সেতারের তার হল চুপ,
শুষ্কমালা, ভষ্মশেষ দগ্ধ গন্ধধূপ।
        কবরীর ফুলগুলি
        ধূলিতে হইল ধূলি,
লজ্জিত সকল সজ্জা বিরস বিরূপ।
    সম্মুখে উদাস বর্ণহীন
ক্ষীণছন্দ মন্দগতি তব রাত্রিদিন।
        সম্মুখে আকাশ খোলা,
        নিস্তব্ধ, সকল-ভোলা--
মত্ততার কলরব শান্তিতে বিলীন।
    আভরণহারা তব বেশ,
কজ্জলবিহীন আঁখি, রুক্ষ তব কেশ।
        শরতের শেষ মেঘে
        দীপ্তি জ্বলে রৌদ্র লেগে,
সেইমতো শোকশুভ্র স্মৃতি-অবশেষ।
    তবু কেন হয় যেন বোধ
অদৃষ্ট পশ্চাৎ হতে করে পথরোধ।
        ছুটি হল যার কাছে
        কিছু তার প্রাপ্য আছে,
নিঃশেষে কি হয় নাই সব পরিশোধ।
    সূক্ষ্মতম সেই আচ্ছাদন,
ভাষাহারা অশ্রুহারা অজ্ঞাত কাঁদন।
        দুর্লঙ্ঘ্য-যে সেই মানা
        স্পষ্ট যারে নেই জানা,
সবচেয়ে সুকঠিন অবন্ধ বাঁধন।
    যদি বা ঘুচিল ঘুমঘোর,
অসাড় পাখায় তবু লাগে নাই জোর।
        যদি বা দূরের ডাকে
        মন সাড়া দিতে থাকে,
তবুও বারণে বাঁধে নিকটের ডোর।
    মুক্তিবন্ধনের সীমানায়
এমনি সংশয়ে তব দিন চলে যায়।
        পিছে রুদ্ধ হল দ্বার,
        মায়া রচে ছায়া তার,
কবে সে মিলাবে আছ সেই প্রতীক্ষায়।
আরো দেখুন