লেখন (130)

১৩০

১৩০

ধরার মাটির তলে  বন্দী হয়ে যে-আনন্দ আছে

কচিপাতা হয়ে এল দলে দলে অশথের গাছে ।

বাতাসে মুক্তির দোলে ছুটি পেল ক্ষণিক বাঁচিতে,

নিস্তব্ধ অন্ধের স্বপ্ন দেহ নিল আলোয় নাচিতে ॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ
Verses
জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,
পরাণ সঁপিবে বিধবা-বালা।
জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,
জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা॥
শোন্‌ রে যবন!-- শোন্‌ রে তোরা,
যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে,
সাক্ষী র'লেন দেবতা তার
এর প্রতিফল ভুগিতে হবে॥
ওই যে সবাই পশিল চিতায়,
একে একে একে অনলশিখায়,
আমরাও আয় আছি যে কজন,
পৃথিবীর কাছে বিদায় লই।
সতীত্ব রাখিব করি প্রাণপণ,
চিতানলে আজ সঁপিব জীবন--
ওই যবনের শোন্‌ কোলাহল,
আয় লো চিতায় আয় লো সই!
জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,
অনলে আহুতি দিব এ প্রাণ।
জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,
পশিব চিতায় রাখিতে মান।
দেখ্‌ রে যবন! দেখ্‌ রে তোরা!
কেমনে এড়াই কলঙ্ক-ফাঁসি;
জ্বলন্ত অনলে হইব ছাই,
তবু না হইব তোদের দাসী॥
আয় আয় বোন! আয় সখি আয়!
জ্বলন্ত অনলে সঁপিবারে কায়,
সতীত্ব লুকাতে জ্বলন্ত চিতায়,
জ্বলন্ত চিতায় সঁপিতে প্রাণ!
দেখ্‌ রে জগৎ, মেলিয়ে নয়ন,
দেখ্‌ রে চন্দ্রমা দেখ্‌ রে গগন!
স্বর্গ হতে সব দেখ্‌ দেবগণ,
জলদ-অক্ষরে রাখ্‌ গো লিখে।
স্পর্ধিত যবন, তোরাও দেখ্‌ রে,
সতীত্ব-রতন, করিতে রক্ষণ,
রাজপুত সতী আজিকে কেমন,
সঁপিছে পরান অনল-শিখে॥
আরো দেখুন
মাটি
Verses
বাঁখারির বেড়া দেওয়া ভূমি; হেথা করি ঘোরাফেরা
          সারাক্ষণ আমি-দিয়ে ঘেরা
               বর্তমানে।
                    মন জানে
                    এ মাটি আমারি,
                   যেমন এ শালতরুসারি
বাঁধে নিজ তলবীথি শিকড়ের গভীর বিস্তারে
          দূর শতাব্দীর অধিকারে।
   হেথা কৃষ্ণচূড়াশাখে ঝরে শ্রাবণের বারি
          সে যেন আমারি--
   ভোরে ঘুমভাঙা আলো, রাত্রে তারাজ্বলা অন্ধকার,
          যেন সে আমারি আপনার
             এ মাটির সীমাটুকু মাঝে।
          আমার সকল খেলা, সব কাজে,
               এ ভূমি জড়িত আছে শাশ্বতের যেন সে লিখন।
                   হঠাৎ চমক ভাঙে নিশীথে যখন
সপ্তর্ষির চিরন্তন দৃষ্টিতলে,
     ধ্যানে দেখি, কালের যাত্রীর দল চলে
                   যুগে যুগান্তরে।
                 এই ভূমিখণ্ড-'পরে
                   তারা এল, তারা গেল কত।
             তারাও আমারি মতো
                 এ মাটি নিয়েছে ঘেরি--
             জেনেছিল, একান্ত এ তাহাদেরি।
                 কেহ আর্য কেহ বা অনার্য তারা,
             কত জাতি নামহীন, ইতিহাসহারা।
          কেহ হোমাগ্নিতে হেথা দিয়েছিল হবির অঞ্জলি,
                কেহ বা দিয়েছে নরবলি।
          এ মাটিতে একদিন যাহাদের সুপ্তচোখে
             জাগরণ এনেছিল অরুণ-আলোকে
                   বিলুপ্ত তাদের ভাষা।
          পরে পরে যারা বেঁধেছিল বাসা,
               সুখে দুঃখে জীবনের রসধারা
          মাটির পাত্রের মতো প্রতি ক্ষণে ভরেছিল যারা
                   এ ভূমিতে,
             এরে তারা পারিল না কোনো চিহ্ন দিতে।
               আসে যায়
                   ঋতুর পর্যায়,
               আবর্তিত অন্তহীন
                   রাত্রি আর দিন;
               মেঘরৌদ্র এর 'পরে
          ছায়ার খেলেনা নিয়ে খেলা করে
               আদিকাল হতে।
                   কালস্রোতে
          আগন্তুক এসেছি হেথায়
               সত্য কিম্বা দ্বাপরে ত্রেতায়
                   যেখানে পড়ে নি লেখা
          রাজকীয় স্বাক্ষরের একটিও স্থায়ী রেখা।
                   হায় আমি,
                        হায় রে ভূস্বামী,
          এখানে তুলিছ বেড়া--উপাড়িছ হেথা যেই তৃণ
               এই মাটিতে সে-ই রবে লীন
          পুনঃ পুনঃ বৎসরে বৎসরে। তারপরে!--
               এই ধূলি রবে পড়ি আমি-শূন্য চিরকাল-তরে।
আরো দেখুন
বিচ্ছেদ
Verses
প্রতিকূল বায়ুভরে, ঊর্মিময় সিন্ধু-'পরে
                              তরীখানি যেতেছিল ধীরি,
কম্পমান কেতু তার, চেয়েছিল কতবার
          সে দ্বীপের পানে ফিরি ফিরি।
যারে আহা ভালোবাসি, তারে যবে ছেড়ে আসি
          যত যাই দূর দেশে চলি,
সেইদিক পানে হায়, হৃদয় ফিরিয়া চায়
          যেখানে এসেছি তারে ফেলি।
বিদেশেতে দেখি যদি, উপত্যকা, দ্বীপ, নদী,
          অতিশয় মনোহর ঠাঁই,
সুরভি কুসুমে যার, শোভিত সকল ধার
          শুধু হৃদয়ের ধন নাই,
বড়ো সাধ হয় প্রাণে, থাকিতাম এইখানে,
          হেথা যদি কাটিত জীবন,
রয়েছে যে দূরবাসে, সে যদি থাকিত পাশে
          কী যে সুখ হইত তখন।
পূর্বদিক সন্ধ্যাকালে, গ্রাসে অন্ধকার জালে
          ভীত পান্থ চায় ফিরে ফিরে,
দেখিতে সে শেষজ্যোতি, সুষ্ঠুতর হয়ে অতি
          এখনো যা জ্বলিতেছে ধীরে,
তেমনি সুখের কাল, গ্রাসে গো আঁধার-জাল
          অদৃষ্টের সায়াহ্নে যখন,
ফিরে চাই বারে বারে, শেষবার দেখিবারে
          সুখের সে মুমূর্ষু কিরণ।
আরো দেখুন