লেখন (111)

১১১

১১১

অজানা ফুলের গন্ধের মতো

তোমার হাসিটি, প্রিয়,

সরল, মধুর, কী অনির্বচনীয়॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

44
Verses
আমাদের এই পল্লিখানি পাহাড় দিয়ে ঘেরা,
দেবদারুর কুঞ্জে ধেনু চরায় রাখালেরা।
কোথা হতে চৈত্রমাসে             হাঁসের শ্রেণী উড়ে আসে,
অঘ্রানেতে আকাশপথে যায় যে তারা কোথা
আমরা কিছুই জানি নেকো সেই সুদূরের কথা।
আমরা জানি গ্রাম ক'খানি, চিনি দশটি গিরি--
মা ধরণী রাখেন মোদের কোলের মধ্যে ঘিরি।
সে ছিল ওই বনের ধারে ভুট্টাখেতের পাশে
যেখানে ওই ছায়ার তলে জলটি ঝ'রে আসে।
ঝর্না হতে আনতে বারি           জুটত হোথা অনেক নারী,
উঠত কত হাসির ধ্বনি তারি ঘরের দ্বারে--
সকাল-সাঁঝে আনাগোনা তারি পথের ধারে।
মিশত কুলুকুলুধ্বনি তারি দিনের কাজে,
ওই রাগিনী পথ হারাত তারি ঘুমের মাঝে।
সন্ধ্যাবেলায় সন্ন্যাসী এক, বিপুল জটা শিরে,
মেঘে-ঢাকা শিখর হতে নেমে এলেন ধীরে।
বিস্ময়েতে আমরা সবে       শুধাই, "তুমি কে গো হবে।'
বসল যোগী নিরুত্তরে নির্ঝরিণীর কূলে
নীরবে সেই ঘরের পানে স্থির নয়ন তুলে।
অজানা কোন্‌ অমঙ্গলে বক্ষ কাঁপে ডরে--
রাত্রি হল, ফিরে এলেম যে যার আপন ঘরে।
পরদিনে প্রভাত হল দেবদারুর বনে,
ঝর্নাতলায় আনতে বারি জুটল নারীগণে।
দুয়ার খোলা দেখে আসি--       নাই সে খুশি, নাই সে হাসি,
জলশূন্য কলসখানি গড়ায় গৃহতলে,
নিব-নিব প্রদীপটি সেই ঘরের কোণে জ্বলে।      
কোথায় সে যে চলে গেল রাত না পোহাতেই,
শূন্য ঘরের দ্বারের কাছে সন্ন্যাসীও নেই।
চৈত্রমাসে রৌদ্র বাড়ে, বরফ গ'লে পড়ে--
ঝর্নাতলায় বসে মোরা কাঁদি তাহার তরে।
আজিকে এই তৃষার দিনে       কোথায় ফিরে নিঝর বিনে,
শুষ্ক কলস ভরে নিতে কোথায় পাবে ধারা।
কে জানে সে নিরুদ্দেশে কোথায় হল হারা।
কোথাও কিছু আছে কি গো, শুধাই যারে তারে--
আমাদের এই আকাশ-ঢাকা দশ পাহাড়ের পারে।
গ্রীষ্মরাতে বাতায়নে বাতাস হু হু করে,
বসে আছি প্রদীপ-নেবা তাহার শূন্য ঘরে।
শুনি বসে দ্বারের কাছে           ঝর্না যেন তারেই যাচে--
বলে, "ওগো, আজকে তোমার নাই কি কোনো তৃষা।
জলে তোমার নাই প্রয়োজন, এমন গ্রীষ্মনিশা?'
আমিও কেঁদে কেঁদে বলি, "হে অজ্ঞাতচারী,
তৃষ্ণা যদি হারাও তবু ভুলো না এই বারি।'
হেনকালে হঠাৎ যেন লাগল চোখে ধাঁধা,
চারি দিকে চেয়ে  দেখি নাই পাহাড়ের বাধা।
ওই-যে আসে, কারে দেখি--   আমাদের যে ছিল সে কি।
ওগো, তুমি কেমন আছ, আছ মনের সুখে?
খোলা আকাশতলে হেথা ঘর কোথা কোন্‌ মুখে?
নাইকো পাহাড়, কোনোখানে ঝর্না নাহি ঝরে,
তৃষ্ণা পেলে কোথায় যাবে বারিপানের তরে?
সে কহিল, "যে ঝর্না বয় সেথা মোদের দ্বারে,
নদী হয়ে সে'ই চলেছে হেথা উদার ধারে।
সে আকাশ সেই পাহাড় ছেড়ে              অসীম-পানে গেছে বেড়ে
সেই ধরারেই নাইকো হেথা পাষাণ-বাঁধা বেঁধে।'
"সবই আছে, আমরা তো নেই' কইনু তারে কেঁদে।
সে কহিল করুণ হেসে, "আছ হৃদয়মূলে।'
স্বপন ভেঙে চেয়ে দেখি আছি ঝর্নাকূলে।
আরো দেখুন
বিচিত্রা
Verses
         ছিলাম যবে মায়ের কোলে,
         বাঁশি বাজানো শিখাবে ব'লে
চোরাই করে এনেছ মোরে তুমি,
                  বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
যেখানে তব রঙের রঙ্গভূমি।
          আকাশতলে এলায়ে কেশ
                   বাজালে বাঁশি চুপে,
          সে মায়াসুরে স্বপ্নছবি
                  জাগিল কত রূপে;
          লক্ষ্যহারা মিলিল তারা
                  রূপকথার বাটে,
         পারায়ে গেল ধূলির সীমা
                   তেপান্তরী মাঠে।
         নারিকেলের ডালের আগে
         দুপুরবেলা কাঁপন লাগে,
ইশারা তারি লাগিত মোর প্রাণে,
                    বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
কী বলে তারা কে বলো তাহা জানে।
          অর্থহারা সুরের দেশে
                    ফিরালে দিনে দিনে,
          ঝলিত মনে অবাক বাণী,
                    শিশির যেন তৃণে।
          প্রভাত-আলো উঠিত কেঁপে
                    পুলকে কাঁপা বুকে,
          বারণহীন নাচিত হিয়া
                     কারণহীন সুখে।
          
          জীবনধারা অকূলে ছোটে,
          দুঃখে সুখে তুফান ওঠে,
আমারে নিয়ে দিয়েছ তাহে খেয়া,
          বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
কালো গগনে ডেকেছে ঘন দেয়া।
          প্রাণের সেই ঢেউয়ের তালে
                    বাজালে তুমি বীণ,
          ব্যথায় মোর জাগায়ে নিয়ে
                    তারের রিনিরিন।
          পালের 'পরে দিয়েছ বেগে
                   সুরের হাওয়া তুলে,
          সহসা বেয়ে নিয়েছ তরী
                   অপূর্বেরি কূলে।
    
          চৈত্রমাসে শুক্ল নিশা
          জুঁহিবেলির গন্ধে মিশা;
জলের ধ্বনি তটের কোলে কোলে
          বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
অনিদ্রারে আকুল করি তোলে।
         যৌবনে সে উতল রাতে
         করুণ কার চোখে
সোহিনী রাগে মিলাতে মিড়
      চাঁদের ক্ষীণালোকে।
কাহার ভীরু হাসির 'পরে
          মধুর দ্বিধা ভরি
শরমে-ছোঁওয়া নয়নজল
         কাঁপাতে থরথরি।
         হঠাৎ কভু জাগিয়া উঠি
         ছিন্ন করি ফেলেছে টুটি
নিশীথিনীর মৌন যবনিকা,
          বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
হেনেছ তারে বজ্রানলশিখা।
     গভীর রবে হাঁকিয়া গেছ,
                 "অলস থেকো না গো।'
      নিবিড় রাতে দিয়েছ নাড়া,
                 বলেছ, "জাগো জাগো।'
    বাসরঘরে নিবালে দীপ,
           ঘুচালে ফুলহার,
    ধূলি-আঁচল দুলায়ে ধরা
           করিল হাহাকার।
          বুকের শিরা ছিন্ন করে
          ভীষণ পূজা করেছি তোরে,
কখনো পূজা শোভন শতদলে,-
                    বিচিত্রা হে, বিচিত্রা,
          হাসিতে কভু, কখনো আঁখিজলে।
          ফসল যত উঠেছে ফলি
                   বক্ষ বিভেদিয়া
          কণাকণায় তোমারি পায়
                   দিয়েছি নিবেদিয়া।
          তবুও কেন এনেছ ডালি
                   দিনের অবসানে;
          নিঃশেষিয়া নিবে কি ভরি
                   নিঃস্ব-করা দানে।
আরো দেখুন
নাম্নী - নন্দিনী
Verses
প্রথম সৃষ্টির ছন্দখানি
অঙ্গে তার নক্ষত্রের নৃত্য দিল আনি।
          বর্ষা-অন্তে ইন্দ্রধনু
          মর্তে নিল তনু।
দিগ্‌বধূর মায়াবী অঙ্গুলি
চঞ্চল চিন্তায় তার বুলায়েছে বর্ণ-আঁকা তুলি।
সরল তাহার হাসি, সুকুমার মুঠি
          যেন শুভ্র কমলকলিকা;
              আঁখিদুটি
যেন কালো আলোকের সচকিত শিখা।
অবসাদবন্ধভাঙা মুক্তির সে ছবি,
          সে আনিয়া দেয় চিত্তে
             কলনৃত্যে
দুস্তর-প্রস্তর-ঠেলা ফেনোচ্ছল আনন্দজাহ্নবী।
বীণার তন্ত্রের মতো গতি তার সংগীতস্পন্দিনী--
              নাম কি নন্দিনী।
আরো দেখুন