গান-রচনা (gan rochona)

এ শুধু অলস মায়া, এ শুধু মেঘের খেলা,

এ শুধু মনের সাধ বাতাসেতে বিসর্জন;

এ শুধু আপন মনে মালা গেঁথে ছিঁড়ে ফেলা

নিমেষের হাসিকান্না গান গেয়ে সমাপন।

শ্যামল পল্লবপাতে রবিকরে সারাবেলা

আপনার ছায়া লয়ে খেলা করে ফুলগুলি,

এও সেই ছায়া-খেলা বসন্তের সমীরণে।

কুহকের দেশে যেন সাধ ক'রে পথ ভুলি।

হেথা হোথা ঘুরি ফিরি সারাদিন আনমনে।

কারে যেন দেব ব'লে কোথা যেন ফুল তুলি,

সন্ধ্যায় মলিন ফুল উড়ে যায় বনে বনে।

এ খেলা খেলিবে হায় খেলার সাথি কে আছে?

ভুলে ভুলে গান গাই--কে শোনে, কে নাই শোনে--

যদি কিছু মনে পড়ে, যদি কেহ আসে কাছে॥

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পরিচয়
Verses
একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে,
         বসন্তের নূতন হাওয়ার বেগে।
      তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি
         পরিচয় কোনো আছে নাকি,
                   যাবে কোন্‌খানে।
         আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
নদীতে লাগিল দোলা, বাঁধনে পড়িল টান,
         একা বসে গাহিলাম যৌবনের বেদনার গান।
                   সেই গান শুনি
         কুসুমিত তরুতলে তরুণতরুণী
                   তুলিল অশোক,
মোর হাতে দিয়ে তারা কহিল, "এ আমাদেরই লোক।'
                   আর কিছু নয়,
         সে মোর প্রথম পরিচয়।
          
         তার পরে জোয়ারের বেলা
সাঙ্গ হল, সাঙ্গ হল তরঙ্গের খেলা;
         কোকিলের ক্লান্ত গানে
বিস্মৃত দিনের কথা অকস্মাৎ যেন মনে আনে;
         কনকচাঁপার দল পড়ে ঝুরে,
                   ভেসে যায় দূরে--
         ফাল্গুনের উৎসবরাতির
                   নিমন্ত্রণলিখন-পাঁতির
                            ছিন্ন অংশ তারা
                                  অর্থহারা।
         ভাঁটার গভীর টানে
তরীখানা ভেসে যায় সমুদ্রের পানে।
         নূতন কালের নব যাত্রী ছেলেমেয়ে
                   শুধাইছে দূর হতে চেয়ে,
         "সন্ধ্যার তারার দিকে
                   বহিয়া চলেছে তরণী কে।'
         সেতারেতে বাঁধিলাম তার,
                   গাহিলাম আরবার--
         মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
                   আমি তোমাদেরই লোক
                            আর কিছু নয়,
                        এই হোক শেষ পরিচয়।
আরো দেখুন
আমার আর হবে না দেরি
Verses
আমার     আর হবে না দেরি--
আমি       শুনেছি ওই বাজে তোমার ভেরী।
    তুমি কি নাথ, দাঁড়িয়ে আছ আমার যাবার পথে।
    মনে হয় যে ক্ষণে ক্ষণে মোর বাতায়ন হতে
                    তোমায় যেন হেরি--
আমার     আর হবে না দেরি।
আমার     কাজ হয়েছে সারা,
এখন       প্রাণে বাঁশি বাজায় সন্ধ্যাতারা।
    দেবার মতো যা ছিল মোর নাই কিছু আর হাতে,
    তোমার আশীর্বাদের মালা নেব কেবল মাথে
                   আমার ললাট ঘেরি--
এখন       আর হবে না দেরি।
আরো দেখুন
94
Verses
হে ভারত, নৃপতিরে শিখায়েছ তুমি
ত্যজিতে মুকট দণ্ড সিংহাসন ভূমি,
ধরিতে দরিদ্রবেশ; শিখায়েছ বীরে
ধর্মযুদ্ধে পদে পদে ক্ষমিতে অরিরে,
ভুলি জয়-পরাজয় শর সংহরিতে।
কর্মীরে শিখালে তুমি যোগযুক্ত চিতে
সর্বফলস্পৃহা ব্রহ্মে দিতে উপহার।
গৃহীরে শিখালে গৃহ করিতে বিস্তার
প্রতিবেশী আত্মবন্ধু অতিথি অনাথে।
ভোগেরে বেঁধেছ তুমি সংযমের সাথে,
নির্মল বৈরাগ্যে দৈন্য করেছ উজ্জ্বল,
সম্পদের পুণ্যকর্মে করেছ মঙ্গল,
শিখায়েছ স্বার্থ ত্যজি সর্ব দুঃখে সুখে
সংসার রাখিতে নিত্য ব্রহ্মের সম্মুখে।
আরো দেখুন