বিদায় (biday)

বিভাস

 

       এবার চলিনু তবে।

সময় হয়েছে নিকট, এখন

       বাঁধন ছিঁড়িতে হবে।

উচ্ছল জল করে ছলছল,

জাগিয়া উঠেছে কলকোলাহল,

তরণীপতাকা চলচঞ্চল

       কাঁপিছে অধীর রবে।

সময় হয়েছে নিকট, এখন

       বাঁধন ছিঁড়িতে হবে।

 

আমি নিষ্ঠুর কঠিন কঠোর

       নির্মম আমি আজি

আর নাহি দেরি, ভৈরবভেরী

       বাহিরে উঠছে বাজি!

তুমি ঘুমাইছ নিমীলনয়নে,

কাঁপিয়া উঠিছ বিরহস্বপনে,

প্রভাতে জাগিয়া শূন্য শয়নে

       কাঁদিয়া চাহিয়া রবে।

সময় হয়েছে নিকট, এখন

       বাঁধন ছিঁড়িতে হবে।

 

অরুণ তোমার তরুণ অধর,

       করুণ তোমার আঁখি,

অমিয়বচন সোহাগবচন

       অনেক রয়েছে বাকি।

পাখি উড়ে যাবে সাগরের পার,

সুখময় নীড় পড়ে রবে তার--

মহাকাশ হতে ওই বারে বারে

       আমারে ডাকিছে সবে।

সময় হয়েছে নিকট, এখন

       বাঁধন ছিঁড়িতে হবে।

 

বিশ্বজগৎ আমারে মাগিলে

       কে মোর আত্মপর!

আমার বিধাতা আমাতে জাগিলে

       কোথায় আমার ঘর!

কিসেরি বা সুখ, ক'দিনের প্রাণ?

ওই উঠিয়াছে সংগ্রাম গান,

অমর মরণ রক্তচরণ

       নাচিছে সগৌরবে।

সময় হয়েছে নিকট, এখন

       বাঁধন ছিঁড়িতে হবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

৩৩
Verses
৩৩
আকাশে উঠিল বাতাস, তবুও নোঙর রহিল পাঁকে,
অধীর তরণী খুঁজিয়া না পায় কোথায় সে মুখ ঢাকে॥
আরো দেখুন
খেলা
Verses
ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা
ঘাসের 'পরে সাঁঝের বেলা।
ঘোর ঘোর গাছের তলে তলে,
     ফাঁকায় পড়েছে মলিন আলো,
কোথাও যেন সোনার ছায়া ছায়া
     কোথাও যেন আঁধার কালো কালো।
আকাশের ধারে ধারে ঘিরে,
     বসেছে রাঙা মেঘের মেলা-
শ্যামল ঘাসের 'পরে, সাঁঝে
আলো-আঁধারের মাঝে মাঝে,
     ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা।
ওরা যে কেন হেসে সারা,
          কেন যে করে অমনধারা,
              কেন যে লুটোপুটি,
              কেন যে ছুটোছুটি,
              কেন যে আহ্লাদে কুটিকুটি।
              কেহ বা ঘাসে গড়ায়,
              কেহ বা নেচে বেড়ায়,
              সাঁঝের সোনা-আকাশে
              হাসির সোনা ছড়ায়।
              আঁখি দুটি নৃত্য করে,
              নাচে চুল পিঠের 'পরে,
          হাসিগুলি চোখে মুখে লুকোচুরি খেলা করে।
যেন          মেঘের কাছে ছুটি পেয়ে
              বিদ্যুতেরা এল ধেয়ে,
          আনন্দে হল রে আপন-হারা।
ওদের        হাসি দেখে খেলা দেখে
              আকাশের এক ধারে থেকে
          মৃদু মৃদু হাসছে একটি তারা।
          ঝাউগাছে পাতাটি নড়ে না,
          কামিনীর পাপড়িটি পড়ে না।
              আঁধার কাকের দল
              সাঙ্গ করি কোলাহল
              কালো কালো গাছের ছায়,
              কে কোথায় মিশায়ে যায়--
          আকাশেতে পাখিটি ওড়ে না।
              সাড়াশব্দ কোথায় গেল,
              নিঝুম হয়ে এল এল
          গাছপালা বন গ্রামের আশেপাশে।
শুধু খেলার কোলাহল,
       শিশুকন্ঠের কলকল,
হাসির ধ্বনি উঠেছে আকাশে।
       কত আর খেলবি ও রে,
       নেচে নেচে হাতে ধ'রে
যে যায় ঘরে চলে আয় ঝাট্‌,
আঁধার হয়ে এল পথঘাট।
       সন্ধ্যাদীপ জ্বলল ঘরে,
       চেয়ে আছে তোদের তরে-
তোদের না হেরিলে মার কোলে
ঘরের প্রাণ কাঁদে সন্ধে হলে।
আরো দেখুন
৮৬
Verses
৮৬
মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা
বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥    
আরো দেখুন