সীমা (seema)

            সেটুকু তোর অনেক আছে

                   যেটুকু তোর আছে খাঁটি,

            তার চেয়ে লোভ করিস যদি

                   সকলি তোর হবে মাটি।

                   একমনে তোর একতারাতে

                   একটি যে তার সেইটে বাজা,

            ফুলবনে তোর একটি কুসুম

                   তাই নিয়ে তোর ডালি সাজা।

            যেখানে তোর বেড়া সেথায়

                   আনন্দে তুই থামিস এসে,

            যে কড়ি তোর প্রভুর দেওয়া

                   সেই কড়ি তুই নিস রে হেসে।

            লোকের কথা নিস নে কানে,

                   ফিরিস নে আর হাজার টানে,

            যেন রে তোর হৃদয় জানে

                   হৃদয়ে তোর আছেন রাজা--

            একতারাতে একটি যে তার

                   আপন মনে সেইটি বাজা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ঝড়
Verses
       দেখ্‌ রে চেয়ে নামল বুঝি ঝড়,
ঘাটের পথে বাঁশের শাখা ঐ করে ধড়ফড়।
আকাশতলে বজ্রপাণির ডঙ্কা উঠল বাজি,
       শীঘ্র তরী বেয়ে চল্‌ রে মাঝি।
ঢেউয়ের গায়ে ঢেউগুলো সব গড়ায় ফুলে ফুলে,
পুবের চরে কাশের মাথা উঠছে দুলে দুলে।
ঈশান কোণে উড়তি বালি আকাশখানা ছেয়ে
       হু হু করে আসছে ছুটে ধেয়ে।
কাকগুলো তার আগে আগে উড়ছে প্রাণের ডরে,
হার মেনে শেষ আছাড় খেয়ে পড়ে মাটির 'পরে।
হাওয়ার বিষম ধাক্কা তাদের লাগছে ক্ষণে ক্ষণে
উঠছে পড়ছে, পাখার ঝাপট দিতেছে প্রাণপণে।
বিজুলি ধায় দাঁত মেলে তাঁর ডাকিনীটার মতো,
দিক্‌দিগন্ত চমকে ওঠে হঠাৎ মর্মাহত।
ওই রে মাঝি, খেপল গাঙের জল,
লগি দিয়ে ঠেকা নৌকো, চরের কোলে চল।
সেই যেখানে জলের শাখা, চখাচখির বাস,
হেথাহোথায় পলিমাটি দিয়েছে আশ্বাস
    কাঁচা সবুজ নতুন ঘাসে ঘেরা।
তলের চরে বালুতে রোদ পোহায় কচ্ছপেরা।
হোথায় জলে বাঁশ টাঙিয়ে শুকোতে দেয় জাল,
ডিঙির ছাতে বসে বসে সেলাই করে পাল।
    রাত কাটাব ওইখানেতেই করব রাঁধাবাড়া,
    এখনি আজ নেই তো যাবার তাড়া।
ভোর থাকতেই কাক ডাকতেই নৌকো দেব ছাড়ি,
ইঁটেখোলার মেলায় দেব সকাল সকাল পাড়ি।
আরো দেখুন
102
Verses
DO NOT linger to gather flowers to keep them, but walk on, for flowers will keep themselves blooming all your way.
আরো দেখুন
ক্ষণিক মিলন
Verses
        একদা এলোচুলে    কোন্‌ ভুলে    ভুলিয়া
        আসিল সে আমার ভাঙা দ্বার   খুলিয়া।
        জ্যোৎস্না অনিমিখ,    চারি দিক    সুবিজন,
        চাহিল একবার    আঁখি তার    তুলিয়া।
        দখিনবায়ুভরে    থরথরে    কাঁপে বন,
        উঠিল প্রাণ মম    তারি সম   দুলিয়া।
        আবার ধীরে ধীরে   গেল ফিরে    আলসে,
        আমার সব হিয়া    মাড়াইয়া   গেল সে।
        আমার যাহা ছিল    সব নিল    আপনায়,
        হরিল আমাদের    আকাশের    আলো সে।
        সহসা এ জগৎ    ছায়াবৎ    হয়ে যায়,
        তাহারি চরণের    শরণের    লালসে।
        যে জন চলিয়াছে    তারি পাছে    সবে ধায়,
        নিখিলে যত প্রাণ    যত গান    ঘিরে তায়।
        সকল রূপহার    উপহার    চরণে,
        ধায় গো উদাসিয়া    যত হিয়া    পায় পায়।
        যে জন পড়ে থাকে    একা ডাকে    মরণে,
        সুদূর হতে হাসি    আর বাঁশি    শোনা যায়।
        শবদ নাহি আর,    চারি ধার    প্রাণহীন,
        কেবল ধুক্‌ ধুক্‌  করে বুক  নিশিদিন।
        যেন গো ধ্বনি এই    তারি সেই    চরণের,
        কেবলি বাজে শুনি,   তাই গুনি    দুই তিন।
        কুড়ায়ে সব-শেষ    অবশেষ   স্মরণের
        বসিয়া একজন    আনমন    উদাসীন।
আরো দেখুন