বর্ষাসন্ধ্যা (borshasondhya)

  আমায়  অমনি খুশি করে রাখো

                কিছুই না দিয়ে--

            শুধু তোমার বাহুর ডোরে

                বাহু বাঁধিয়ে।

            এমনি ধূসর মাঠের পারে

            এমনি সাঁঝের অন্ধকারে

            বাজাও আমার প্রাণের তারে

                গভীর ঘা দিয়ে।

  আমায়  অমনি রাখো বন্দী করে

                কিছুই না দিয়ে।

 

  আমি    আপনাকে আজ বিছিয়ে দেব

                কিছুই না করি,

            দু হাত মেলে দিয়ে, তোমার

                চরণ পাকড়ি।

            আষাঢ়-রাতের সভায় তব

            কোনো কথাই নাহি কব,

            বুক দিয়ে সব চেপে লব

                নিখিল আঁকড়ি।

  আমি    রাতের সাথে মিশিয়ে রব

                কিছুই না করি।

 

  আজ    বাদল-হাওয়ায় কোথা রে জুঁই

                গন্ধে মেতেছে।

            লুপ্ত তারার মালা কে আজ

                 লুকিয়ে গেঁথেছে।

            আজি নীরব অভিসারে

            কে চলেছে আকাশপারে,

            কে আজি এই অন্ধকারে

                শয়ন পেতেছে।

  আজ    বাদল-হাওয়ায় জুঁই আপনার

                গন্ধে মেতেছে।

 

  ওগো,  আজকে আমি  সুখে রব

                কিছুই না নিয়ে--

            আপন হতে আপন-মনে

                সুধা ছানিয়ে।

            বনে হতে বনান্তরে

            ঘনধারায় বৃষ্টি ঝরে

            নিদ্রাবিহীন নয়ন-'পরে

                স্বপন বানিয়ে।

  ওগো,  আজকে পরান ভরে লব

                কিছুই না নিয়ে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

হাতে-কলমে
Verses
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
আরো দেখুন
ঝড়
Verses
       দেখ্‌ রে চেয়ে নামল বুঝি ঝড়,
ঘাটের পথে বাঁশের শাখা ঐ করে ধড়ফড়।
আকাশতলে বজ্রপাণির ডঙ্কা উঠল বাজি,
       শীঘ্র তরী বেয়ে চল্‌ রে মাঝি।
ঢেউয়ের গায়ে ঢেউগুলো সব গড়ায় ফুলে ফুলে,
পুবের চরে কাশের মাথা উঠছে দুলে দুলে।
ঈশান কোণে উড়তি বালি আকাশখানা ছেয়ে
       হু হু করে আসছে ছুটে ধেয়ে।
কাকগুলো তার আগে আগে উড়ছে প্রাণের ডরে,
হার মেনে শেষ আছাড় খেয়ে পড়ে মাটির 'পরে।
হাওয়ার বিষম ধাক্কা তাদের লাগছে ক্ষণে ক্ষণে
উঠছে পড়ছে, পাখার ঝাপট দিতেছে প্রাণপণে।
বিজুলি ধায় দাঁত মেলে তাঁর ডাকিনীটার মতো,
দিক্‌দিগন্ত চমকে ওঠে হঠাৎ মর্মাহত।
ওই রে মাঝি, খেপল গাঙের জল,
লগি দিয়ে ঠেকা নৌকো, চরের কোলে চল।
সেই যেখানে জলের শাখা, চখাচখির বাস,
হেথাহোথায় পলিমাটি দিয়েছে আশ্বাস
    কাঁচা সবুজ নতুন ঘাসে ঘেরা।
তলের চরে বালুতে রোদ পোহায় কচ্ছপেরা।
হোথায় জলে বাঁশ টাঙিয়ে শুকোতে দেয় জাল,
ডিঙির ছাতে বসে বসে সেলাই করে পাল।
    রাত কাটাব ওইখানেতেই করব রাঁধাবাড়া,
    এখনি আজ নেই তো যাবার তাড়া।
ভোর থাকতেই কাক ডাকতেই নৌকো দেব ছাড়ি,
ইঁটেখোলার মেলায় দেব সকাল সকাল পাড়ি।
আরো দেখুন
বাসাবাড়ি
Verses
     এই শহরে এই তো প্রথম আসা।
আড়াইটা রাত, খুঁজে বেড়াই কোন্‌ ঠিকানায় বাসা।
লণ্ঠনটা ঝুলিয়ে হাতে আন্দাজে যাই চলি,
অজগরের ভূতের মতন গলির পরে গলি।
ধাঁধাঁ ক্রমেই বেড়ে ওঠে, এক জায়গায় থেমে
দেখি পথে বাঁদিক থেকে ঘাট গিয়েছে নেমে।
আঁধার মুখোষ-পরা বাড়ি সামনে আছে খাড়া;
হাঁ-করা-মুখ দুয়ারগুলো, নাইকো শব্দসাড়া।
চৌতলাতে একটা ধারে জানলাখানার ফাঁকে
প্রদীপশিখা ছুঁচের মতো বিঁধছে আঁধারটাকে।
            বাকি মহল যত
কালো মোটা ঘোমটা-দেওয়া দৈত্যনারীর মতো।
বিদেশীর এই বাসাবাড়ি কেউবা কয়েক মাস
এইখানে সংসার পেতেছে, করছে বসবাস;
কাজকর্ম সাঙ্গ করি কেউবা কয়েকদিনে
চুকিয়ে ভাড়া কোন্‌খানে যায়, কেই বা তাদের চিনে।
শুধাই আমি, "আছ কি কেউ, জায়গা কোথায় পাই।"
মনে হল জবাব এল, "আমরা নাই নাই।"
সকল দুয়োর জানলা হতে, যেন আকাশ জুড়ে
ঝাঁকে ঝাঁকে রাতের পাখি শূন্যে চলল উড়ে।
একসঙ্গে চলার বেগে হাজার পাখা তাই
অন্ধকারে জাগায় ধ্বনি, "আমরা নাই নাই।"
আমি সুধাই, "কিসের কাজে এসেছ এইখানে।"
জবাব এল, "সেই কথাটা কেহই নাহি জানে।
যুগে যুগে বাড়িয়ে চলি নেই-হওয়াদের দল,
বিপুল হয়ে ওঠে যখন দিনের কোলাহল
সকল কথার উপরেতে চাপা দিয়ে যাই--
              নাই, নাই, নাই।"
পরের দিনে সেই বাড়িতে গেলাম সকালবেলা--
ছেলেরা সব পথে করছে লড়াই-লড়াই খেলা,
কাঠি হাতে দুই পক্ষের চলছে ঠকাঠকি।
কোণের ঘরে দুই বুড়োতে বিষম বকাবকি--
বাজিখেলায় দিনে দিনে কেবল জেতা হারা,
দেনা-পাওনা জমতে থাকে, হিসাব হয় না সারা।
গন্ধ আসছে রান্নাঘরের, শব্দ বাসন-মাজার;
শূন্য ঝুড়ি দুলিয়ে হাতে ঝি চলেছে বাজার।
একে একে এদের সবার মুখের দিকে চাই,
কানে আসে রাত্রিবেলার "আমরা নাই নাই"।
আরো দেখুন