২০ (boliyachhinu mamare)

              বলিয়াছিনু মামারে--

  তোমারি ঐ চেহারাখানি কেন গো দিলে আমারে।

তখনো আমি জন্মিনি তো,       নেহাত ছিনু অপরিচিত,

  আগেভাগেই শাস্তি এমন, এ কথা মনে ঘা মারে।

  হাড় ক'খানা চামড়া দিয়ে ঢেকেছে যেন চামারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সিয়াম
Verses
প্রথম দর্শনে
                       ত্রিশরণ মহামন্ত্র যবে
                             বজ্রমন্দ্ররবে
           আকাশে ধ্বনিতেছিল পশ্চিমে পুরবে,
           মরুপারে, শৈলতটে, সমুদ্রের কূলে উপকূলে,
           দেশে দেশে চিত্তদ্বার দিল যবে খুলে
                 আনন্দমুখর উদ্‌বোধন, --
           উদ্দাম ভাবের ভার ধরিতে নারিল যবে মন,
                 বেগ তার ব্যাপ্ত হল চারিভিতে,
           দুঃসাধ্য কীর্তিতে, কর্মে চিত্রপটে মন্দিরে মূর্তিতে,
                 আত্মদানসাধনস্ফূর্তিতে
                       উচ্ছ্বসিত উদার উক্তিতে,
           স্বার্থধন দীনতার বন্ধনমুক্তিতে, --
           সে-মন্ত্র অমৃতবাণী হে সিয়াম, তব কানে
                   কবে এল কেহ নাহি জানে
           অভাবিত অলক্ষিত আপনাবিস্মৃত শুভক্ষণে
                   দূরাগত পান্থসমীরণে।
                 সে-মন্ত্র তোমার প্রাণে লভি প্রাণ
           বহুশাখাপ্রসারিত কল্যাণে করেছে ছায়াদান।
                       সে-মন্ত্রভারতী
                     দিল অস্খলিত গতি
           কত শত শতাব্দীর সংসারযাত্রারে --
                       শুভ আকর্ষণে বাঁধি তারে
                       এক ধ্রুব কেন্দ্র-সাথে
                       চরম মুক্তির সাধনাতে, --
           সর্বজনগণে তব এক করি একাগ্র ভক্তিতে,
                 এক ধর্ম, এক সংঘ, এক মহাগুরুর শক্তিতে।
           সে বাণীর সৃষ্টিক্রিয়া নাহি জানে শেষ,
           নবযুগ-যাত্রাপথে দিবে নিত্য নূতন উদ্দেশ;
                 সে বাণীর ধ্যান
           দীপ্যমান করি দিবে নব নব জ্ঞান
                 দীপ্তির ছটায় আপনার,
           এক সূত্রে গাঁথি দিবে তোমার মানসরত্নহার।
                 হৃদয়ে হৃদয়ে মিল করি
                       বহু যুগ ধরি
           রচিয়া তুলেছ তুমি সুমহৎ জীবনমন্দির,-
                       পদ্মাসন আছে স্থির,
           ভগবান বুদ্ধ সেথা সমাসীন
                   চিরদিন --
           মৌন যাঁর শান্তি অন্তহারা,
           বাণী যাঁর সকরুণ সান্ত্বনার ধারা।
      আমি সেথা হতে এনু যেথা ভগ্নস্তূপে
      বুদ্ধের বচন রুদ্ধ দীর্ণকীর্ণ মূক শিলারূপে,
           ছিল যেথা সমাচ্ছন্ন করি
                 বহু যুগ ধরি
                       বিস্মৃতকুয়াশা
           ভক্তির বিজয়স্তম্ভে সমুৎকীর্ণ অর্চনার ভাষা|
                 সে-অর্চনা সেই বাণী
                       আপন সজীব মূর্তিখানি
           রাখিয়াছে ধ্রুব করি শ্যামল সরস বক্ষে তব,-
                 আজি আমি তারে দেখি লব, --
                       ভারতের যে মহিমা
           ত্যাগ করি আসিয়াছে আপন অঙ্গনসীমা
                 অর্ঘ্য দিব তারে
           ভারত-বাহিরে তব দ্বারে।
                 স্নিগ্ধ করি প্রাণ
               তীর্থ জলে করি যাব স্নান
                     তোমার জীবনধারাস্রোতে,
               যে নদী এসেছে বহি ভারতের পুণ্যযুগ হতে --
                      যে যুগের গিরিশৃঙ্গ-'পর
                 একদা উদিয়াছিল প্রেমের মঙ্গলদিনকর।
আরো দেখুন
সত্যরূপ
Verses
অন্ধকারে জানি না কে এল কোথা হতে--
          মনে হল তুমি;
রাতের লতা-বিতান তারার আলোতে
          উঠিল কুসুমি।
সাক্ষ্য আর কিছু নাই, আছে শুধু একটি স্বাক্ষর,
প্রভাত-আলোক তলে মগ্ন হলে প্রসুপ্ত প্রহর
          পড়িব তখন।
ততক্ষণ পূর্ণ করি থাক মোর নিস্তব্ধ অন্তর
          তোমার স্মরণ।
কত লোক ভিড় করে জীবনের পথে
          উড়াইয়া ধূলি;
কত যে পতাকা ওড়ে কত রাজপথে
          আকাশ আকুলি।
প্রহরে প্রহরে যাত্রী ধেয়ে চলে খেয়ার উদ্দেশে--
অতিথি আশ্রয় মাগে শ্রান্তদেহে মোর দ্বারে এসে
          দিন-অবসানে,
দূরের কাহিনী বলে, তার পরে রজনীর শেষে
          যায় দূর-পানে।
মায়ার আবর্তে রচে আসায় যাওয়ায়
          চঞ্চল সংসারে।
ছায়ার তরঙ্গ যেন ধাইছে হাওয়ায়
          ভাঁটায় জোয়ারে।
ঊর্ধ্বকণ্ঠে ডাকে কেহ, স্তব্ধ কেহ ঘরে এসে বসে--
প্রত্যহের জানাশোনা, তবু তারা দিবসে দিবসে
          পরিচয়হীন।
এই কুজ্ঝটিকালোকে লুপ্ত হয়ে স্বপ্নের তামসে
          কাটে জীর্ণ দিন।
সন্ধ্যার নৈঃশব্দ্য উঠে সহসা শিহরি;
          না কহিয়া কথা
কখন যে আস কাছে, দাও ছিন্ন করি
          মোর অস্পষ্টতা।
তখন বুঝিতে পারি, আছি আমি একান্তই আছি
মহাকালদেবতার অন্তরের অতি কাছাকাছি
          মহেন্দ্রমন্দিরে;
জাগ্রত জীবনলক্ষ্মী পরায় আপন মাল্যগাছি
          উন্নমিত শিরে।
তখনই বুঝিতে পারি, বিশ্বের মহিমা
উচ্ছ্বসিয়া উঠি
রাখিল সত্তায় মোর রচি নিজ সীমা
          আপন দেউটি।
সৃষ্টির প্রাঙ্গণতলে চেতনার দীপশ্রেণী-মাঝে
সে দীপে জ্বলেছে শিখা উৎসবের ঘোষণার কাজে;
          সেই তো বাগানে,
অনির্বচনীয় প্রেম অন্তহীন বিস্ময়ে বিরাজে
          দেহে মনে প্রাণে।
আরো দেখুন
১৬৬
Verses
১৬৬
লেখনী জানে না কোন্‌ অঙ্গুলি লিখিছে
লেখে যাহা তাও তার কাছে সবি মিছে॥  
আরো দেখুন