চালক (chalok)

অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে

অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?

সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি

সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

82
Verses
তব প্রেমে ধন্য তুমি করেছ আমারে
প্রিয়তম। তবু শুধু মাধুর্য-মাঝারে
চাহি না নিমগ্ন করে রাখিতে হৃদয়।
আপনি যেথায় ধরা দিলে, স্নেহময়,
বিচিত্র সৌন্দর্যডোরে কত স্নেহে প্রেমে,
কত রূপে--সেথা আমি রহিব না থেমে
তোমার প্রণয়-অভিমানে। চিত্তে মোর
জড়ায়ে বাঁধিব নাকো সন্তোষের ডোর।
আমার অতীত তুমি যেথা, সেইখানে
অন্তরাত্মা ধায় নিত্য অনন্তের টানে
সকল বন্ধন-মাঝে-- যেথায় উদার
অন্তহীন শক্তি আর মুক্তির বিস্তার।
তোমার মাধুর্য যেন বেঁধে নাহি রাখে,
তব ঐশ্বর্যের পানে টানে সে আমাকে।
আরো দেখুন
পুষ্পচয়িনী
Verses
          হে পুষ্পচয়িনী,
ছেড়ে আসিয়াছ তুমি কবে উজ্জয়িনী
                   মালিনীছন্দের বন্ধ টুটে।
    বকুল উৎফুল্ল হয়ে উঠে
        আজো বুঝি তব মুখমদে।
               নূপুররণিত পদে।
আজো বুঝি অশোকের ভাঙাইবে ঘুম।
               কী সেই কুসুম
যা দিয়ে অতীত জন্মে গণেছিলে বিরহের দিন।
       বুঝি সে-ফুলের নাম বিস্মৃতিবিলীন
    ভর্তৃপ্রসাদন ব্রতে যা দিয়ে গাঁথিতে মালা
                 সাজাইতে বরণের ডালা।
মনে হয় যেন তুমি ভুলে-যাওয়া তুমি--
                 মর্ত্যভূমি
    তোমারে যা ব'লে জানে সেই পরিচয়
           সম্পূর্ণ তো নয়।
তুমি আজ
         করেছ যে-অঙ্গসাজ
               নহে সদ্য আজিকার।
       কালোয় রাঙায় তার
           যে ভঙ্গীটি পেয়েছে প্রকাশ
              দেয় বহুদূরের আভাস।
       মনে হয় যেন অজানিতে
                       রয়েছ অতীতে।
    মনে হয় যে-প্রিয়ের লাগি
        অবন্তীনগরসৌধে ছিলে জাগি,
               তাহারি উদ্দেশে
    না জেনে সেজেছ বুঝি সে-যুগের বেশে।
           মালতীশাখার 'পরে
       এই-যে তুলেছ হাত ভঙ্গীভরে
           নহে ফুল তুলিবার প্রয়োজনে,
                     বুঝি আছে মনে
               যুগ-অন্তরাল হতে বিস্মৃত বল্লভ
           লুকায়ে দেখিছে তব সুকোমল ও-করপল্লব।
       অশরীরী মুগ্ধনেত্র যেন গগনে সে
                   হেরে অনিমেষে
       দেহভঙ্গিমার মিল লতিকার সাথে
               আজি মাঘীপূর্ণিমার রাতে।
    বাতাসেতে অলক্ষিতে যেন কার ব্যাপ্ত ভালোবাসা
              তোমার যৌবনে দিল নৃত্যময়ী ভাষা।
আরো দেখুন
20
Verses
তোমার পতাকা যারে দাও, তারে
     বহিবারে দাও শকতি।
তোমার সেবায়ে মহৎ প্রয়াস
     সহিবারে দাও ভকতি।
আমি তাই চাই  ভরিয়া পরান
দুঃখেরি সাথে দুঃখেরি ত্রাণ
তোমার হাতের বেদনার দান
     এড়িয়ে চাহি না মুকতি।
দুখ হবে মোর মাথার মানিক
     সাথে যদি দাও ভকতি।
যত দিতে চাও কাজ দিয়ো,যদি
     তোমারে না দাও ভুলিতে--
অন্তর যদি জড়াতে না দাও
     জালজঞ্জালগুলিতে।
বাঁধিয়ো আমায় যত খুশি ডোরে
মুক্ত রাখিয়ো তোমা-পানে মোরে,
ধুলায় রাখিয়ো পবিত্র ক'রে
     তোমার চরণধূলিতে।
ভুলায় রাখিয়ো সংসারতলে,
     তোমারে দিয়ো না ভুলিতে।
যে পথে ঘুরিতে দিয়েছ ঘুরিব,
     যাই যেন তব চরণে।
সব শ্রম যেন বহি লয় মোরে
     সকল-শ্রান্তি-হরণে।
দুর্গমপথ এ ভবগহন,
     কত ত্যাগ শোক বিরহদহন--
জীবনে মরণ করিয়া বহন
     প্রাণ পাই যেন মরণে।
সন্ধ্যাবেলায় লভি গো কুলায়
     নিখিলশরণ চরণে।
আরো দেখুন