পাষাণ-হৃদয়ে কেন সঁপিনু হৃদয় (pashan hridaye keno)

পাষাণ-হৃদয়ে কেন সঁপিনু হৃদয়?

মর্মভেদী যন্ত্রণায়, ফিরেও যে নাহি  চায়

          বুক ফেটে গেলেও যে কথা নাহি কয়

প্রাণ দিয়ে সাধিলেও, পায়ে ধরে কাঁদিলেও

          এক তিল এক বিন্দু দয়া নাহি হয়

হেরিলে গো অশ্রুরাশি, বরষে ঘৃণার হাসি,

          বিরক্তির তিরস্কার তীব্র বিষময়।

এত যদি ছিল মনে, তবে বলো কী কারণে

          একদিন তুলেছিল স্বর্গের আলয়

একদিন স্নেহভরে, মাথা রাখি কোল -'পরে

          কেন নিয়েছিল হরে পরাণ-হৃদয়

ভগ্নবুকে কেন আর, বজ্র হানে বার বার

          মনখানা নিয়ে যেন করে ছেলেখেলা --

গিয়াছে যা ভেঙেচুরে, আর কেন তার পরে

          মিছামিছি বিঁধে আহা বাণ বিষময়!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

6
Verses
মুক্তি এই-- সহজে ফিরিয়া আসা সহজের মাঝে,
নহে কৃচ্ছ্রসাধনায় ক্লিষ্ট কৃশ বঞ্চিত প্রাণের
আত্ম-অস্বীকারে। রিক্ততায় নিঃস্বতায়, পূর্ণতার
প্রেতচ্ছবি ধ্যান করা অসম্মান জগৎলক্ষ্মীর।
আজ আমি দেখিতেছি, সম্মুখে মুক্তির পূর্ণরূপ
ওই বনস্পতিমাঝে, ঊর্ধ্বে তুলি ব্যগ্র শাখা তার
শরৎপ্রভাতে আজি স্পর্শিছে সে মহা-অলক্ষ্যেরে
কম্পমান পল্লবে পল্লবে; লভিল মজ্জার মাঝে
সে মহা-আনন্দ যাহা পরিব্যাপ্ত লোকে লোকান্তরে,
বিচ্ছুরিত সমীরিত আকাশে আকাশে, স্ফুটোন্মুখ
পুষ্পে পুষ্পে, পাখিদের কণ্ঠে কণ্ঠে স্বত-উৎসারিত।
সন্ন্যাসীর গৈরিক বসন লুকায়েছে তৃণতলে
সর্ব-আবর্জনা-গ্রাসী বিরাট ধুলায়, জপমন্ত্র
মিলে গেছে পতঙ্গগুঞ্জনে। অনিঃশেষ যে তপস্যা
প্রাণরসে উচ্ছ্বসিত, সব দিতে সব নিতে
যে বাড়ালো কমণ্ডলু দ্যুলোকে ভূলোকে, তারি বর
পেয়েছি অন্তরে মোর, তাই সর্ব দেহ মন প্রাণ
সূক্ষ্ম হয়ে প্রসারিল আজি ওই নিঃশব্দ প্রান্তরে
ছায়ারৌদ্রে হেথাহোথা যেথায় রোমন্থরত ধেনু
আলস্যে শিথিল-অঙ্গ, তৃপ্তিরসসম্ভোগ তাদের
সঞ্চারিছে ধীরে মোর পুলকিত সত্তার গভীরে।
দলে দলে প্রজাপতি রৌদ্র হতে নিতেছে কাঁপায়ে
নীরব আকাশবাণী শেফালির কানে কানে বলা,
তাহারি বীজন আজি শিরায় শিরায় রক্তে মোর
মৃদু স্পর্শে শিহরিত তুলিছে হিল্লোল।
                              হে সংসার,
আমাকে বারেক ফিরে চাও; পশ্চিমে যাবার মুখে
বর্জন কোরো না মোরে উপেক্ষিত ভিক্ষুকের মতো।
জীবনের শেষপাত্র উচ্ছলিয়া দাও পূর্ণ করি,
দিনান্তের সর্বদানযজ্ঞে যথা মেঘের অঞ্জলি
পূর্ণ করি দেয় সন্ধ্যা, দান করি' চরম আলোর
অজস্র ঐশ্বর্যরাশি সমুজ্জ্বল সহস্ররশ্মির--
সর্বহর আঁধারের দস্যুবৃত্তি-ঘোষণার আগে।
আরো দেখুন
নির্লিপ্ত
Verses
     বাছা রে মোর বাছা,
ধূলির 'পরে হরষভরে
     লইয়া তৃণগাছা
আপন মনে খেলিছ কোণে,
     কাটিছে সারা বেলা।
হাসি গো দেখে এ ধূলি মেখে
     এ তৃণ লয়ে খেলা।
     আমি যে কাজে রত,
লইয়া খাতা ঘুরাই মাথা
     হিসাব কষি কত,
আঁকের সারি হতেছে ভারী
     কাটিয়া যায় বেলা --
ভাবিছ দেখি মিথ্যা একি
     সময় নিয়ে খেলা।
     বাছা রে মোর বাছা,
খেলিতে ধূলি গিয়েছি ভুলি
     লইয়ে তৃণগাছা।
কোথায় গেলে খেলেনা মেলে
     ভাবিয়া কাটে বেলা,
বেড়াই খুঁজি করিতে পুঁজি
     সোনারূপার ঢেলা।
     যা পাও চারি দিকে
তাহাই ধরি তুলিছ গড়ি
     মনের সুখটিকে।
না পাই যারে চাহিয়া তারে
     আমার কাটে বেলা,
আশাতীতেরই আশায় ফিরি
     ভাসাই মোর ভেলা।
আরো দেখুন
111
Verses
শকতিহীনের দাপনি
            আপনারে মারে আপনি।
আরো দেখুন