১৩ (srishti lila prangoner prante)

সৃষ্টিলীলাপ্রাঙ্গণের প্রান্তে দাঁড়াইয়া

দেখি ক্ষণে ক্ষণে

তমসের পরপার,

যেথা মহা-অব্যক্তের অসীম চৈতন্যে ছিনু লীন।

আজি এ প্রভাতকালে ঋষিবাক্য জাগে মোর মনে।

করো করো অপাবৃত হে সূর্য,আলোক-আবরণ,

তোমার অন্তরতম পরম জ্যোতির মধ্যে দেখি

আপনার আত্মার স্বরূপ।

যে আমি দিনের শেষে বায়ুতে মিশায় প্রাণবায়ু,

ভস্মে যার দেহ অন্ত হবে,

যাত্রাপথে সে আপন না ফেলুক ছায়া

সত্যের ধরিয়া ছদ্মবেশ।

এ মর্তের লীলাক্ষেত্রে সুখে দুঃখে অমৃতের স্বাদ

পেয়েছি তো ক্ষণে ক্ষণে,

বারে বারে  অসীমেরে দেখেছি সীমার অন্তরালে।

বুঝিয়াছি,এ জন্মের শেষ অর্থ ছিল সেইখানে,

সেই সুন্দরের রূপে,

সে সংগীতে অনির্বচনীয়।

খেলাঘরে আজ যবে খুলে যাবে দ্বার

ধরণীর দেবালয়ে রেখে যাব আমার প্রণাম,

দিয়ে যাব জীবনের সে নৈবেদ্যগুলি

মূল্য যার মৃত্যুর অতীত।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নিরুদ্দেশ যাত্রা
Verses
আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
        হে সুন্দরী?
বলো  কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার
        সোনার তরী।
যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী--
বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে
        তোমার মনে।
নীরবে দেখাও অঙ্গুলি তুলি
অকূল সিন্ধু উঠিছে আকুলি,
দূরে পশ্চিমে ডুবিছে তপন
        গগনকোণে।
কী আছে হোথায়-- চলেছি কিসের
        অম্বেষণে?
বলো দেখি মোরে, শুধাই তোমায়
         অপরিচিতা--
ওই যেথা জ্বলে সন্ধ্যার কূলে
         দিনের চিতা,
ঝলিতেছে জল তরল অনল,
গলিয়া পড়িছে অম্বরতল,
দিক্‌বধূ যেন ছলছল-আঁখি
         অশ্রুজলে,
হোথায় কি আছে আলয় তোমার
ঊর্মিমুখর সাগরের পার,
মেঘচুম্বিত অস্তগিরির
         চরণতলে?
তুমি হাস শুধু মুখপানে চেয়ে
         কথা না ব'লে।
হু হুক'রে বায়ু ফেলিছে সতত
         দীর্ঘশ্বাস।
অন্ধ আবেগে করে গর্জন
         জলোচ্ছ্বাস।
সংশয়ময় ঘননীল নীর,
কোনো দিকে চেয়ে নাহি হেরি তীর,
অসীম রোদন জগৎ প্লাবিয়া
         দুলিছে যেন।
তারি 'পরে ভাসে তরণী হিরণ,
তারি 'পরে পড়ে সন্ধ্যাকিরণ,
তারি মাঝে বসি এ নীরব হাসি
         হাসিছ কেন?
আমি তো বুঝি না কী লাগি তোমার
         বিলাস হেন।
যখন প্রথম ডেকেছিলে তুমি
          "কে যাবে সাথে'
চাহিনু বারেক তোমার নয়নে
          নবীন প্রাতে।
দেখালে সমুখে প্রসারিয়া কর
পশ্চিম-পানে অসীম সাগর,
চঞ্চল আলো আশার মতন
          কাঁপিছে জলে।
তরীতে উঠিয়া শুধানু তখন
আছে কি হোথায় নবীন জীবন,
আশার স্বপন ফলে কি হোথায়
          সোনার ফলে?
মুখপানে চেয়ে হাসিলে কেবল
          কথা না ব'লে।
তার পরে কভু উঠিয়াছে মেঘ
          কখনো রবি--
কখনো ক্ষুব্ধ সাগর, কখনো
          শান্ত ছবি।
বেলা বহে যায়, পালে লাগে বায়--
সোনার তরণী কোথা চলে যায়,
পশ্চিমে হেরি নামিছে তপন
          অস্তাচলে।
এখন বারেক শুধাই তোমায়,
স্নিগ্ধ মরণ আছে কি হোথায়,
আছে কি শান্তি, আছে কি সুপ্তি
          তিমির-তলে?
হাসিতেছ তুমি তুলিয়া নয়ন
          কথা না ব'লে।
আঁধার রজনী আসিবে এখনি
          মেলিয়া পাখা,
সন্ধ্যা-আকাশে স্বর্ণ-আলোক
          পড়িবে ঢাকা।
শুধু ভাসে তব দেহসৌরভ,
শুধু কানে আসে জল-কলরব,
গায়ে উড়ে পড়ে বায়ুভরে তব
          কেশের রাশি।
বিকল হৃদয় বিবশ শরীর
ডাকিয়া তোমারে কহিব অধীর,
"কোথা আছ  ওগো  করহ পরশ
          নিকটে আসি।'
কহিবে না কথা, দেখিতে পাব না
          নীরব হাসি।
আরো দেখুন
বৈশাখে
Verses
   তপ্ত হাওয়া দিয়েছে আজ
              আমলাগাছের কচি পাতায়,
   কোথা থেকে ক্ষণে ক্ষণে
              নিমের ফুলে গন্ধে মাতায়।
   কেউ কোথা নেই মাঠের 'পরে,
   কেউ কোথা নেই শূন্য ঘরে,
   আজ দুপুরে আকাশতলে
              রিমিঝিমি নূপুর বাজে।
   বারে বারে ঘুরে ঘুরে
   মৌমাছিদের গুঞ্জসুরে
   কার চরণের নৃত্য যেন
              ফিরে আমার বুকের মাঝে।
   রক্তে আমার তালে তালে
              রিমিঝিমি নূপুর বাজে।
   ঘন মহুল-শাখার মতো
              নিশ্বসিয়া উঠিছে প্রাণ,
   গায়ে আমার লেগেছে কার
              এলোচুলের সুদূর ঘ্রাণ।
আজি রোদের প্রখর তাপে
   বাঁধের জলে আলো কাঁপে,
   বাতাস বাজে মর্মরিয়া
              সারি-বাঁধা তালের বনে।
   আমার মনের মরীচিকা
   আকাশপারে পড়ল লিখা,
   লক্ষ্যবিহীন দূরের 'পরে
              চেয়ে আছি আপন-মনে।
   অলস ধেনু চরে বেড়ায়
              সারি-বাঁধা তালের বনে।
   আজিকার এই তপ্ত দিনে
              কাটল বেলা এমনি করে,
   গ্রামের ধারে ঘাটের পথে
              এল গভীর ছায়া পড়ে।
   সন্ধ্যা এখন পড়ছে হেলে
   শালবনেতে আঁচল মেলে,
   আঁধার-ঢালা দিঘির ঘাটে
              হয়েছে শেষ কলস ভরা।
   মনের কথা কুড়িয়ে নিয়ে
   ভাবি মাঠের মধ্যে গিয়ে--
   সারা দিনের অকাজে আজ
              কেউ কি মোরে দেয় নি ধরা।
   আমার কি মন শূন্য, যখন
              হল বধূর কলস ভরা।
আরো দেখুন
162
Verses
LOVE! WHEN you come with the burning lamp of pain in your hand, I can see your face and know you as bliss.
আরো দেখুন