যেন শেষ গানে মোর সব রাগিণী পূরে-- আমার সব আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দে মাটির ধরা হাসে অধীর হয়ে তরুলতায় ঘাসে, যে আনন্দে দুই পাগলের মতো জীবন-মরণ বেড়ায় ভুবন ঘুরে-- সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে। যে আনন্দ আসে ঝড়ের বেশে, ঘুমন্ত প্রাণ জাগায় অট্ট হেসে। যে আনন্দ দাঁড়ায় আঁখিজলে দুঃখ-ব্যথার রক্তশতদলে, যা আছে সব ধুলায় ফেলে দিয়ে যে আনন্দে বচন নাহি ফুরে সেই আনন্দ মেলে তাহার সুরে।
বহু লক্ষ বর্ষ ধরে জ্বলে তারা, ধাবমান অন্ধকার কালস্রোতে অগ্নির আবর্ত ঘুরে ওঠে। সেই স্রোতে এ ধরণী মাটির বুদ্বুদ্; তারি মধ্যে এই প্রাণ অণুতম কালে কণাতম শিখা লয়ে অসীমের করে সে আরতি। সে না হলে বিরাটের নিখিলমন্দিরে উঠত না শঙ্খধ্বনি, মিলত না যাত্রী কোনোজন, আলোকের সামমন্ত্র ভাষাহীন হয়ে রইত নীরব।