২৭ (ajike ei sokalbelate)

আজিকে এই সকালবেলাতে

       বসে আছি আমার প্রাণের

                 সুরটি মেলাতে।

আকাশে ওই অরুণরাগে

মধুর তান করুণ লাগে,

বাতাস মাতে আলোছায়ার

            মায়ার খেলাতে।

 

নীলিমা এই নিলীন হল

            আমার চেতনায়।

সোনার আভা জড়িয়ে গেল

              মনের কামনায়।

লোকান্তরের ওপার হতে

কে উদাসী বায়ুর স্রোতে

ভেসে বেড়ায় দিগন্তে ওই

              মেঘের ভেলাতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

33
Verses
বহুকাল আগে তুমি দিয়েছিলে একগুচ্ছ ধূপ,
আজি তার ধোঁয়া হতে বাহিরিল অপরূপ রূপ;
যেন কোন্‌ পুরানী আখ্যানে
স্তব্ধ মোর ধ্যানে
ধীরপদে এল কোন্‌ মালবিকা
লয়ে দীপশিখা
মহাকালমন্দিরের দ্বারে
যুগান্তের কোন্‌ পারে।
সদ্যস্নান-পরে
সিক্ত বেণী গ্রীবা তার জড়াইয়া ধরে,
চন্দনের মৃদু গন্ধ আসে
অঙ্গের বাতাসে।
মনে হয়, এই পূজারিনী--
এরে আমি বার বার চিনি,
আসে মৃদুমন্দ পদে
চিরদিবসের বেদিতলে
তুলি ফুল শুচিশুভ্র বসন-অঞ্চলে।
শান্ত স্নিগ্ধ চোখের দৃষ্টিতে
সেই বাণী নিয়ে আসে এ যুগের ভাষার সৃষ্টিতে।
সুললিত বাহুর কঙ্কণে
প্রিয়জন-কল্যাণের কামনা বহিছে সযতনে।
প্রীতি আত্মহারা
আদি সূর্যোদয় হতে
বহি আনে আলোকের ধারা।
দূর কাল হতে তারি
হস্ত দুটি লয়ে সেবারস
আতপ্ত ললাট মোর আজও ধীরে করিছে পরশ।
আরো দেখুন
50
Verses
গাব তোমার সুরে
            দাও সে বীণাযন্ত্র।
শুনব তোমার বাণী
            দাও সে অমর মন্ত্র॥
করব তোমার সেবা
            দাও সে পরম শক্তি,
চাইব তোমার মুখে
            দাও সে অচল ভক্তি॥
সইব তোমার আঘাত
            দাও সে বিপুল ধৈর্য।
বইব তোমার ধ্বজা
            দাও সে অটল স্থৈর্য॥
নেব সকল বিশ্ব
            দাও সে প্রবল প্রাণ,
করব আমায় নিঃস্ব
            দাও সে প্রেমের দান॥
যাব তোমার সাথে
            দাও সে দখিন হস্ত,
লড়ব তোমার রণে
            দাও সে তোমার অস্ত্র॥
জাগব তোমার সত্যে
            দাও সে আহ্বান।
ছাড়ব সুখের দাস্য
            দাও দাও কল্যাণ॥
আরো দেখুন
বিজয়ী
Verses
               তখন তারা দৃপ্ত বেগের বিজয়-রথে
      ছুটছিল বীর মত্ত অধীর, রক্তধূলির পথবিপথে।
     তখন তাদের চতুর্দিকেই রাত্রিবেলার প্রহর যত
              স্বপ্নে-চলার পথিক-মতো,
     মন্দগমন ছন্দে লুটায় মন্থর কোন্‌ ক্লান্ত বায়ে;
     বিহঙ্গগান শান্ত তখন অন্ধ রাতের পক্ষছায়ে।
          মশাল তাদের রুদ্রজ্বালায় উঠল জ্বলে--
              অন্ধকারের ঊর্ধ্বতলে
     বহ্নিদলের রক্তকমল ফুটল প্রবল দম্ভভরে;
     দূর-গগনের স্তব্ধ তারা মুগ্ধ ভ্রমর তাহার 'পরে।
          ভাবল পথিক-- এই যে তাদের মশাল-শিখা,
              নয় সে কেবল দণ্ডপলের মরীচিকা।
     ভাবল তারা-- এই শিখাটাই ধ্রুবজ্যোতির তারার সাথে
                   মৃত্যুহীনের দখিন হাতে
                          জ্বলবে বিপুল বিশ্বতলে।
          ভাবল তারা এই শিখারই ভীষণ বলে
               রাত্রি-রানীর দুর্গ-প্রাচীর দগ্ধ হবে,
        অন্ধকারের রুদ্ধ কপাট দীর্ণ করে ছিনিয়ে লবে
                           নিত্যকালের বিত্তরাশি;
               ধরিত্রীকে করবে আপন ভোগের দাসী।
                       ওই বাজে রে ঘণ্টা বাজে।
        চমকে উঠেই হঠাৎ দেখে অন্ধ ছিল তন্দ্রামাঝে।
        আপ্‌নাকে হায় দেখছিল কোন্‌ স্বপ্নাবেশে
        যক্ষপুরীর সিংহাসনে লক্ষমণির রাজার বেশে;
        মহেশ্বরের বিশ্ব যেন লুঠ করেছে অট্ট হেসে।
                        শূন্যে নবীন সূর্য জাগে
                ওই যে তাহার বিশ্ব-চেতন কেতন-আগে
        জ্বলছে নূতন দীপ্তিরতন তিমির-মথন শুভ্ররাগে;
        মশাল-ভস্ম লুপ্তি-ধুলায় নিত্যদিনের সুপ্তি মাগে।
        আনন্দলোক দ্বার খুলেছে, আকাশ পুলক-ময়--
        জয় ভূলোকের, জয় দ্যুলোকের, জয় আলোকের জয়।
আরো দেখুন