৬২ (tora shunish ni ki)

       তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি,

                    ওই যে      আসে, আসে, আসে।

       যুগে যুগে পলে পলে দিনরজনী

                    সে যে             আসে, আসে, আসে।

                                         গেয়েছি গান যখন যত

                                         আপন-মনে খ্যাপার মতো

                                         সকল সুরে বেজেছে তার

                                                আগমনী-

সে যে       আসে, আসে, আসে।

 

       কত কালের ফাগুন-দিনে বনের পথে

                     সে যে       আসে, আসে, আসে।

কত শ্রাবণ অন্ধকারে মেঘের রথে

সে যে              আসে, আসে, আসে।

 

                                            দুখের পরে পরম দুখে,

                                            তারি চরণ বাজে বুকে,

                                            সুখে কখন্‌ বুলিয়ে সে দেয়

                                                    পরশমণি।

                             সে যে              আসে, আসে, আসে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

8
Verses
গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে
মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে
সজনি, আও আও লো।
অঙ্গে চারু নীল বাস,
হৃদয়ে প্রণয়কুসুমরাশ,
হরিণনেত্রে বিমল হাস,
কুঞ্জবনমে আও লো॥
ঢালে কুসুম সুরভভার,
ঢালে বিহগ সুরবসার,
ঢালে ইন্দু অমৃতধার
বিমল রজত ভাতি রে।
মন্দ মন্দ ভৃঙ্গ গুঞ্জে,
অযুত কুসুম কুঞ্জে কুঞ্জে,
ফুটল সজনি, পুঞ্জে পুঞ্জে
বকুল যূথি জাতি রে॥
দেখ সজনি, শ্যামরায়
নয়নে প্রেম উথল যায়,
মধুর বদন অমৃতসদন
চন্দ্রমায় নিন্দিছে।
আও আও সজনিবৃন্দ,
হেরব সখি শ্রীগোবিন্দ
শ্যামকো পদারবিন্দ
ভানুসিংহ বন্দিছে॥
আরো দেখুন
5
Verses
সজনি সজনি রাধিকা লো
দেখ অবহুঁ চাহিয়া,
মৃদুলগম শ্যাম আওয়ে
মৃদুল গান গাহিয়া।
পিনহ ঝটিত কুসুমহার,
পিনহ নীল আঙিয়া।
সুন্দরী সিন্দূর দেকে
সীঁথি করহ রাঙিয়া।
সহচরি সব নাচ নাচ
মিলন-গীতি গাও রে,
চঞ্চল মঞ্জীর-রাব
কুঞ্জগগন ছাও রে।
সজনি অব উজার মঁদির
কনকদীপ জ্বালিয়া,
সুরভি করহ কুঞ্জভবন
গন্ধসলিল ঢালিয়া।
মল্লিকা চমেলী বেলি
কুসুম তুলহ বালিকা,
গাঁথ যূথি, গাঁথ জাতি,
গাঁথ বকুল-মালিকা।
তৃষিতনয়ন ভানুসিংহ
কুঞ্জপথম চাহিয়া
মৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে,
মৃদুল গান গাহিয়া।
আরো দেখুন
বাঁশি
Verses
কিনু গোয়ালার গলি।
                   দোতলা বাড়ির
               লোহার-গরাদে-দেওয়া একতলা ঘর
                       পথের ধারেই।
        লোনা-ধরা দেওয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি,
               মাঝে মাঝে স্যাঁতা-পড়া দাগ।
মার্কিন থানের মার্কা একখানা ছবি
           সিদ্ধিদাতা গণেশের
                   দরজার 'পরে আঁটা।
           আমি ছাড়া ঘরে থাকে আরেকটা জীব
                   এক ভাড়াতেই,
                       সেটা টিকটিকি।
                   তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু,
                       নেই তার অন্নের অভাব।
বেতন পঁচিশ টাকা,
    সদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি।
        খেতে পাই দত্তদের বাড়ি
               ছেলেকে পড়িয়ে।
        শেয়ালদা ইস্টিশনে যাই,
           সন্ধেটা কাটিয়ে আসি,
        আলো জ্বালাবার দায় বাঁচে।
এঞ্জিনের ধস্‌ ধস্‌,
        বাঁশির আওয়াজ,
           যাত্রীর ব্যস্ততা,
               কুলি-হাঁকাহাঁকি।
                   সাড়ে দশ বেজে যায়,
           তার পরে ঘরে এসে নিরালা নিঃঝুম অন্ধকার।
ধলেশ্বরীনদীতীরে পিসিদের গ্রাম।
        তাঁর দেওরের মেয়ে,
অভাগার সাথে তার বিবাহের ছিল ঠিকঠাক।
           লগ্ন শুভ, নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেল--
        সেই লগ্নে এসেছি পালিয়ে।
    মেয়েটা তো রক্ষে পেলে,
           আমি তথৈবচ।
ঘরেতে এল না সে তো, মনে তার নিত্য আসাযাওয়া--
           পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।
        বর্ষা ঘন ঘোর।
    ট্রামের খরচা বাড়ে,
মাঝে মাঝে মাইনেও কাটা যায়।
           গলিটার কোণে কোণে
        জমে ওঠে পচে ওঠে
               আমের খোসা ও আঁঠি, কাঁঠালের ভূতি,
                          মাছের কান্‌কা,
মরা বেড়ালের ছানা,
        ছাইপাঁশ আরো কত কী যে!
    ছাতার অবস্থাখানা জরিমানা-দেওয়া
               মাইনের মতো,
                   বহু ছিদ্র তার।
           আপিসের সাজ
    গোপীকান্ত গোঁসাইয়ের মনটা যেমন,
               সর্বদাই রসসিক্ত থাকে।
                   বাদলের কালো ছায়া
               স্যাঁৎসেঁতে ঘরটাতে ঢুকে
                   কলে-পড়া জন্তুর মতন
                       মূর্ছায় অসাড়।
    দিন রাত মনে হয়, কোন্‌ আধমরা
জগতের সঙ্গে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছি।
    গলির মোড়েই থাকে কান্তবাবু,
        যত্নে-পাট-করা লম্বা চুল,
           বড়ো বড়ো চোখ,
               শৌখিন মেজাজ।
           কর্নেট বাজানো তার শখ।
    মাঝে মাঝে সুর জেগে ওঠে
           এ গলির বীভৎস বাতাসে--
    কখনো গভীর রাতে,
        ভোরবেলা আধো অন্ধকারে,
    কখনো বৈকালে
        ঝিকিমিকি আলোয় ছায়ায়।
    হঠাৎ সন্ধ্যায়
সিন্ধু-বারোয়াঁয় লাগে তান,
        সমস্ত আকাশে বাজে
           অনাদি কালের বিরহবেদনা।
               তখনি মুহূর্তে ধরা পড়ে
                   এ গলিটা ঘোর মিছে,
            দুর্বিষহ, মাতালের প্রলাপের মতো।
                   হঠাৎ খবর পাই মনে
           আকবর বাদশার সঙ্গে
               হরিপদ কেরানির কোনো ভেদ নেই।
                   বাঁশির করুণ ডাক বেয়ে
           ছেঁড়াছাতা রাজছত্র মিলে চলে গেছে
                          এক বৈকুণ্ঠের দিকে।
    এ গান যেখানে সত্য
অনন্ত গোধূলিলগ্নে
        সেইখানে
           বহি চলে ধলেশ্বরী;
        তীরে তমালের ঘন ছায়া;
               আঙিনাতে
        যে আছে অপেক্ষা ক'রে, তার
           পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর।
আরো দেখুন