৫৯ (ebar nirob kore dao)

এবার  নীরব করে দাও হে তোমার

             মুখর কবিরে।

তার  হৃদয়-বাঁশি আপনি কেড়ে

             বাজাও গভীরে।

                    নিশীথরাতের নিবিড় সুরে

                    বাঁশিতে তান দাও হে পুরে

                    যে তান দিয়ে অবাক কর'

                           গ্রহশশীরে।

 

যা-কিছু মোর ছড়িয়ে আছে

       জীবন-মরণে,

গানের টানে মিলুক এসে

       তোমার চরণে।

                    বহুদিনের বাক্যরাশি

                    এক নিমেষে যাবে ভাসি,

                    একলা বসে শুনব বাঁশি

                           অকূল তিমিরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

6
Verses
    বঁধুয়া, হিয়া 'পর আও রে,
মিঠি মিঠি হাসয়ি, মৃদু মধু ভাষয়ি,
     হমার মুখ 'পর চাও রে!
যুগযুগসম কত দিবস বহয়ি গল,
      শ্যাম তু আওলি না,
চন্দ্র-উজর মধু-মধুর কুঞ্জ'পর
      মুরলি বজাওলি না!
লয়ি গলি সাথ বয়ানক হাস রে,
    লয়ি গলি নয়নআনন্দ!
শূন্য কুঞ্জবন, শূন্য হৃদয়মন,
     কঁহি তব ও মুখচন্দ?
ইথি ছিল আকুল গোপনয়নজল,
    কথি ছিল ও তব হাসি?
ইথি ছিল নীরব বংশীবটতট,
    কথি ছিল ও তব বাঁশি;
তুঝ মুখ চাহয়ি শতযুগভর দুখ
    নিমিখে ভেল অবসান।
লেশ হাসি তুঝ দূর করল রে
    সকল মান-অভিমান।
ধন্য ধন্য রে ভানু গাহিছে
    প্রেমক নাহিক ওর।
হরখে পুলকিত জগত-চরাচর
   দুঁহুক প্রেমরস ভোর।
আরো দেখুন
5
Verses
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে
বসে থাকি নিস্তব্ধ প্রহরে,
বাহিরে শ্যামল ছন্দে উঠে গান
ধরণীর প্রাণের আহ্বান;
অমৃতের উৎসস্রোতে
চিত্ত ভেসে চলে যায় দিগন্তের নীলিম আলোতে।
কার পানে পাঠাইবে স্তুতি
ব্যগ্র এই মনের আকূতি,
অমূল্যেরে মূল্য দিতে ফিরে সে খুঁজিয়া বাণীরূপ,
করে থাকে চুপ,
বলে,আমি আনন্দিত-- ছন্দ যায় থামি--
বলে, ধন্য আমি।
আরো দেখুন
খেলা
Verses
সন্ধ্যাবেলায় এ কোন্‌ খেলায় করলে নিমন্ত্রণ
             ওগো খেলার সাথি!
হঠাৎ কেন চমকে তোলে শূন্য এ প্রাঙ্গণ
             রঙিন শিখার বাতি।
কোন্‌ সে ভোরের রঙের খেয়াল কোন্‌ আলোতে ঢেকে
সমস্ত দিন বুকের তলায় লুকিয়ে দিলে রেখে,
অরুণ-আভাস ছানিয়ে নিয়ে পদ্মবনের থেকে
             রাঙিয়ে দিলে রাতি?
উদয়-ছবি শেষ হবে কি অস্ত-সোনায় এঁকে
             জ্বালিয়ে সাঁঝের বাতি।
হারিয়ে-ফেলা বাঁশি আমার পালিয়েছিল বুঝি
             লুকোচুরির ছলে?
বনের পারে আবার তারে কোথায় পেলে খুঁজি
              শুকনো পাতার তলে?
যে সুর তুমি শিখিয়েছিলে বসে আমার পাশে
সকালবেলায় বটের তলায় শিশির-ভেজা ঘাসে,
সে আজ ওঠে হঠাৎ বেজে বুকের দীর্ঘশ্বাসে,
              উছল চোখের জলে --
কাঁপত যে সুর ক্ষণে ক্ষণে দুরন্ত বাতাসে
              শুকনো পাতার তলে।
মোর প্রভাতের খেলার সাথি আনত ভরে সাজি
              সোনার চাঁপাফুলে।
অন্ধকারে গন্ধ তারি ওই যে আসে আজি
              এ কি পথের ভুলে।
বকুলবীথির তলে তলে আজ কি নতুন বেশে
সেই খেলাতেই ডাকতে এল আবার ফিরে এসে।
সেই সাজি তার দখিন হাতে, তেমনি আকুল কেশে
              চাঁপার গুচ্ছ দুলে।
সেই অজানা হতে আসে এই অজানার দেশে,
              এ কি পথের ভুলে।
আমার কাছে কী চাও তুমি, ওগো খেলার গুরু,
              কেমন খেলার ধারা।
চাও কি তুমি যেমন করে হল দিনের শুরু
              তেমনি হবে সারা।
সেদিন ভোরে দেখেছিলাম প্রথম জেগে উঠে
নিরুদ্দেশের পাগল হাওয়ায় আগল গেছে টুটে,
কাজ-ভোলা সব খ্যাপার দলে তেমনি আবার জুটে
              করবে দিশেহারা।
স্বপন-মৃগ ছুটিয়ে দিয়ে পিছনে তার ছুটে
              তেমনি হব সারা।
বাঁধা পথের বাঁধন মেনে চলতি কাজের স্রোতে
              চলতে দেবে নাকো?
সন্ধ্যাবেলায় জোনাক-জ্বালা বনের আঁধার হতে
              তাই কি আমায় ডাকো?
সকল চিন্তা উধাও করে অকারণের টানে
অবুঝ ব্যথার চঞ্চলতা জাগিয়ে দিয়ে প্রাণে
থর্‌থরিয়ে কাঁপিয়ে বাতাস ছুটির গানে গানে
              দাঁড়িয়ে কোথায় থাকো।
না জেনে পথ পড়ব তোমার বুকেরই মাঝখানে,
              তাই আমারে ডাকো।
জানি জানি, তুমি আমার চাও না পূজার মালা
              ওগো খেলার সাথি।
এই জনহীন অঙ্গনেতে গন্ধপ্রদীপ জ্বালা,
              নয় আরতির বাতি।
তোমার খেলায় আমার খেলা মিলিয়ে দেব তবে
নিশীথিনীর স্তব্ধ সভায় তারার মহোৎসবে,
তোমার বীণার ধ্বনির সাথে আমার বাঁশির রবে
              পূর্ণ হবে রাতি।
তোমার আলোয় আমার আলো মিলিয়ে খেলা হবে,
              নয় আরতির বাতি।
আরো দেখুন