৮৮ (chai go ami tomare chai)

       চাই গো আমি তোমারে চাই

              তোমায় আমি চাই--

       এই কথাটি সদাই মনে

              বলতে যেন পাই।

       আর যা-কিছু বাসনাতে

              ঘুরে বেড়াই দিনে রাতে

       মিথ্যা সে-সব মিথ্যা ওগো

              তোমায় আমি চাই।

 

                           রাত্রি যেমন লুকিয়ে রাখে

                                  আলোর প্রার্থনাই--

                           তেমনি গভীর মোহের মাঝে

                                  তোমায় আমি চাই।

                           শান্তিরে ঝড় যখন হানে

                           শান্তি তবু চায় সে প্রাণে,

                           তেমনি তোমায় আঘাত করি

                                  তবু তোমায় চাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ভূমিকা
Verses
জগৎ-পারাবারের তীরে
      ছেলেরা করে মেলা।
অন্তহীন গগনতল
মাথার 'পরে অচঞ্চল,
ফেনিল ওই সুনীল জল
      নাচিছে সারা বেলা।
উঠিছে তটে কী কোলাহল--
      ছেলেরা করে মেলা।
বালুকা দিয়ে বাঁধিছে ঘর,
      ঝিনুক নিয়ে খেলা।
বিপুল নীল সলিল-'পরি
ভাসায় তারা খেলার তরী
আপন হাতে হেলায় গড়ি
      পাতায়-গাঁথা ভেলা।
জগৎ-পারাবারের তীরে
      ছেলেরা করে খেলা।
জানে না তারা সাঁতার দেওয়া,
      জানে না জাল ফেলা।
ডুবারি ডুবে মুকুতা চেয়ে,
বণিক ধায় তরণী বেয়ে,
ছেলেরা নুড়ি কুড়ায়ে পেয়ে
      সাজায় বসি ঢেলা।
রতন ধন খোঁজে না তারা,
      জানে না জাল ফেলা।
ফেনিয়ে উঠে সাগর হাসে,
      হাসে সাগর-বেলা।
ভীষণ ঢেউ শিশুর কানে
রচিছে গাথা তরল তানে,
দোলনা ধরি যেমন গানে
      জননী দেয় ঠেলা।
সাগর খেলে শিশুর সাথে,
      হাসে সাগর-বেলা।
জগৎ-পারাবারের তীরে
      ছেলেরা করে মেলা।
ঝঞ্ঝা ফিরে গগনতলে,
তরণী ডুবে সুদূর জলে,
মরণ-দূত উড়িয়া চলে,
      ছেলেরা করে খেলা।
জগৎ-পারাবারের তীরে
      শিশুর মহামেলা।
আরো দেখুন
85
Verses
I HAVE PLAYED my flute along the path,
I have sung at thy gate.
I have offered my tunes before thy temple's outer screen
decorated with endless forms and colours.
Today have come to me from everywhere
the words that speak of the End.
They ask me to break the bond of the road,
to come to the farther shore of the pilgrimage
by crossing the endless refrain
of meetings and partings.
আরো দেখুন
জাগরণ
Verses
  কৃষ্ণপক্ষে আধখানা চাঁদ
            উঠল অনেক রাতে,
  খানিক কালো খানিক আলো
            পড়ল আঙিনাতে।
  ওরে আমার নয়ন, আমার
            নয়ন নিদ্রাহারা,
  আকাশ-পানে চেয়ে চেয়ে
            কত গুনবি তারা।
  সাড়া কারো নাই রে, সবাই
            ঘুমায় অকাতরে।
  প্রদীপগুলি নিবে গেল
        দুয়ার-দেওয়া ঘরে।
  তুই কেন আজ বেড়াস ফিরি
        আলোয় অন্ধকারে।
  তুই কেন আজ দেখিস চেয়ে
        বনপথের পারে।
  শব্দ কোথাও শুনতে কি পাস
        মাঠে তেপান্তরে।
  মাটি কোথাও উঠছে কেঁপে
        ঘোড়ার পদভরে?
  কোথাও ধুলো উড়ছে কি রে
        কোনো আকাশ-কোণে।
  আগুনশিখা যায় কি দেখা
        দূরের আম্রবনে।
  সন্ধ্যাবেলা তুই কি কারো
        লিখন পেয়েছিলি।
  বুকের কাছে লুকিয়ে রেখে
        শান্তি হারাইলি?
  নাচে রে তাই রক্ত নাচে
        সকল দেহ-মাঝে,
  বাজে রে তাই কী কথা তোর
        পাঁজর জুড়ে বাজে।
  আজিকে এই খণ্ড চাঁদের
        ক্ষীণ আলোকের 'পরে
  ব্যাকুল হয়ে অশান্ত প্রাণ
        আঘাত করে মরে।
  কী লুকিয়ে আছে ওরে,
        কী রেখেছে ঢেকে--
  কিসের কাঁপন কিসের আভাস
        পাই যে থেকে থেকে।
  ওরে, কোথাও নাই রে হাওয়া,
        স্তব্ধ বাঁশের শাখা--
  বালুতটের পাশে নদী
        কালির বর্ণে আঁকা।
  বনের 'পরে চেপে আছে
        কাহার অভিশাপ--
  ধরণীতল মূর্ছা গেছে
        লয়ে আপন তাপ।
  ওরে, হেথায় আনন্দ নেই--
        পুরানো তোর বাড়ি,
  ভাঙা দুয়ার বাদুড়কে ওই
        দিয়েছে পথ ছাড়ি।
  সন্ধ্যা হতে ঘুমিয়ে পড়ে
        যে যেথা পায় স্থান--
  জাগে না কেউ বীণা হাতে,
        গাহে না কেউ গান।
  হেথা কি তোর দুয়ারে কেউ
        পৌঁছোবে আজ রাতে--
  এক হাতে তার ধ্বজা তুলে,
        আলো আর-এক হাতে?
  হঠাৎ কিসের চঞ্চলতা
        ছুটে আসবে বেগে,
  গ্রামের পথে পাখিরা সব
        গেয়ে উঠবে জেগে।
উঠবে মৃদঙ বেজে বেজে
        গর্জি গুরুগুরু,
  অঙ্গে হঠাৎ দেবে কাঁটা,
        বক্ষ দুরুদুরু।
  ওরে নিদ্রাবিহীন আঁখি,
        ওরে শান্তিহারা,
  আঁধার পথে চেয়ে চেয়ে
        কার পেয়েছিস সাড়া।
আরো দেখুন