১৩ (amar noyon bhulano ele)

আমার     নয়ন-ভুলানো এলে।

আমি       কী হেরিলাম হৃদয় মেলে।

                     শিউলিতলার পাশে পাশে

                     ঝরা ফুলের রাশে রাশে

                     শিশির-ভেজা ঘাসে ঘাসে

                           অরুণ-রাঙা-চরণ ফেলে

                           নয়ন-ভুলানো এলে।

 

আলোছায়ার আঁচলখানি

              লুটিয়ে পড়ে বনে বনে,

ফুলগুলি ওই মুখে চেয়ে

              কী কথা কয় মনে মনে।

                           তোমায় মোরা করব বরণ,

                           মুখের ঢাকা করো হরণ,

                           ওই টুকু ওই মেঘাবরণ

                                  দু হাত দিয়ে ফেলো ঠেলে।

                                  নয়ন-ভুলানো এলে।

 

বনদেবীর দ্বারে দ্বারে

       শুনি গভীর শঙ্খধনি,

আকাশবীণার তারে তারে

       জাগে তোমার আগমনী।

              কোথায় সোনার নূপুর বাজে,

              বুঝি আমার হিয়ার মাঝে,

              সকল ভাবে সকল কাজে

                     পাষাণ-গালা সুধা ঢেলে--

                     নয়ন-ভুলানো এলে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শেষ কথা
Verses
         এ ঘরে ফুরালো খেলা,
     এল দ্বার রুধিবার বেলা।
            বিলয়বিলীন দিনশেষে
    ফিরিয়া দাঁড়াও এসে
            যে ছিলে গোপনচর
                   জীবনের অন্তরতর।
     ক্ষণিক মুহূর্ততরে চরম আলোকে
         দেখে নিই স্বপ্নভাঙা চোখে;
     চিনে নিই, এ লীলার শেষ পরিচয়ে
কী তুমি ফেলিয়া গেলে, কী রাখিলে অন্তিম সঞ্চয়ে।
     কাছের দেখায় দেখা পূর্ণ হয় নাই,
         মনে-মনে ভাবি তাই--
     বিচ্ছেদের দূরদিগন্তের ভূমিকায়
  পরিপূর্ণ দেখা দিবে অস্তরবিরশ্মির রেখায়।
জানি না, বুঝিব কিনা প্রলয়ের সীমায় সীমায়
         শুভ্রে আর কালিমায়
     কেন এই আসা আর যাওয়া,
কেন হারাবার লাগি এতখানি পাওয়া।
     জানি না, এ আজিকার মুছে-ফেলা ছবি
আবার নূতন রঙে আঁকিবে কি তুমি, শিল্পীকবি।
আরো দেখুন
ছোটোবড়ো
Verses
এখনো তো বড়ো হই নি আমি,
          ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব'লে।
দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব
          বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে।
দাদা তখন পড়তে যদি না চায়,
পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়,
তখন তারে এমনি বকে দেব!
            বলব, "তুমি চুপটি ক'রে পড়ো।'
বলব, "তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে' --
            যখন হব বাবার মতো বড়ো।
       তখন নিয়ে দাদার খাঁচাখানা
       ভালো ভালো পুষব পাখির ছানা।
সাড়ে দশটা যখন যাবে বেজে
            নাবার জন্যে করব না তো তাড়া।
ছাতা একটা ঘাড়ে ক'রে নিয়ে
            চটি পায়ে বেড়িয়ে আসব পাড়া।
গুরুমশায় দাওয়ায় এলে পরে
চৌকি এনে দিতে বলব ঘরে,
তিনি যদি বলেন "সেলেট কোথা?
            দেরি হচ্ছে, বসে পড়া করো'
আমি বলব, "খোকা তো আর নেই,
            হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।'
     গুরুমশায় শুনে তখন কবে,
     "বাবুমশায়, আসি এখন তবে।'
খেলা করতে নিয়ে যেতে মাঠে
            ভুলু যখন আসবে বিকেল বেলা,
আমি তাকে ধমক দিয়ে কব,
            "কাজ করছি, গোল কোরো না মেলা।'
রথের দিনে খুব যদি ভিড় হয়
একলা যাব, করব না তো ভয় --
মামা যদি বলেন ছুটে এসে
            "হারিয়ে যাবে, আমার কোলে চড়ো'
বলব আমি, "দেখছ না কি মামা,
            হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।'
     দেখে দেখে মামা বলবে, "তাই তো,
     খোকা আমার সে খোকা আর নাই তো।'
আমি যেদিন প্রথম বড়ো হব
            মা সেদিনে গঙ্গাস্নানের পরে
আসবে যখন খিড়কি-দুয়োর দিয়ে
            ভাববে "কেন গোল শুনি নে ঘরে।'
তখন আমি চাবি খুলতে শিখে
যত ইচ্ছে টাকা দিচ্ছি ঝিকে,
মা দেখে তাই বলবে তাড়াতাড়ি,
            "খোকা, তোমার খেলা কেমনতরো।'
আমি বলব, "মাইনে দিচ্ছি আমি,
            হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।
     ফুরোয় যদি টাকা, ফুরোয় খাবার,
     যত চাই মা, এনে দেব আবার।'
আশ্বিনেতে পুজোর ছুটি হবে,
            মেলা বসবে গাজনতলার হাটে,
বাবার নৌকো কত দূরের থেকে
            লাগবে এসে বাবুগঞ্জের ঘাটে।
বাবা মনে ভাববে সোজাসুজি,
খোকা তেমনি খোকাই আছে বুঝি,
ছোটো ছোটো রঙিন জামা জুতো
            কিনে এনে বলবে আমায় "পরো'।
আমি বলব, "দাদা পরুক এসে,
            আমি এখন তোমার মতো বড়ো।
     দেখছ না কি যে ছোটো মাপ জামার--
     পরতে গেলে আঁট হবে যে আমার।'
আরো দেখুন
Verses

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে,
     নিমেষ গণিয়া বাঁচে,
সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে॥
The butterfly does not count years
                   but moments
and therefore has enough time.
আরো দেখুন