৩৮ (shesh nahi je)

          শেষ নাহি যে

                    শেষ কথা কে বলবে।

আঘাত হয়ে দেখা দিল,

                    আগুন হয়ে জ্বলবে।

          সাঙ্গ হলে মেঘের পালা

          শুরু হবে বৃষ্টি ঢালা,

          বরফ জমা সারা হলে

                     নদী হয়ে গলবে।

          ফুরায় যা, তা

                     ফুরায় শুধু চোখে--

অন্ধকারের পেরিয়ে দুয়ার

                     যায় চলে আলোকে।

          পুরাতনের হৃদয় টুটে

          আপনি নূতন উঠবে ফুটে,

          জীবনে ফুল ফোটা হলে

                      মরণে ফল ফলবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পণরক্ষা
Verses
"মারাঠা দস্যু আসিছে রে ওই,
          করো করো সবে সাজ'
আজমীর গড়ে কহিলা হাঁকিয়া
          দুর্গেশ দুমরাজ।
বেলা দু'পহরে যে যাহার ঘরে
          সেঁকিছে জোয়ারি রুটি,
দুর্গতোরণে নাকাড়া বাজিছে                
          বাহিরে আসিল ছুটি।
প্রাকারে চড়িয়া দেখিল চাহিয়া
          দক্ষিণে বহু দূরে
আকাশ জুড়িয়া উড়িয়াছে ধুলা
          মারাঠি অশ্বখুরে।
"মারাঠার যত পতঙ্গপাল
          কৃপাণ-অনলে আজ
ঝাঁপ দিয়া পড়ি ফিরে নাকো যেন'
          গর্জিলা দুমরাজ।
মাড়োয়ার হতে দূত আসি বলে,
          "বৃথা এ সৈন্যসাজ,
হেরো এ প্রভুর আদেশপত্র
          দুর্গেশ দুমরাজ!
সিন্দে আসিছে, সঙ্গে তাঁহার
          ফিরিঙ্গি সেনাপতি--
সাদরে তাঁদের ছাড়িবে দুর্গ
          আজ্ঞা তোমার প্রতি।
বিজয়লক্ষ্মী হয়েছে বিমুখ
          বিজয়সিংহ-'পরে--
বিনা সংগ্রামে আজমীর গড়
          দিবে মারাঠার করে।'
"প্রভুর আদেশে বীরের ধর্মে
          বিরোধ বাধিল আজ'
নিশ্বাস ফেলি কহিলা কাতরে
          দুর্গেশ দুমরাজ।
মাড়োয়ার-দূত করিল ঘোষণা,
          "ছাড়ো ছাড়ো রণসাজ।'
রহিল পাষাণ-মুরতি-সমান
          দুর্গেশ দুমরাজ।
বেলা যায় যায়, ধূ ধূ করে মাঠ,
          দূরে দূরে চরে ধেনু--
তরুতলছায়ে সকরুণ রবে
          বাজে রাখালের বেণু।
"আজমীর গড় দিলা যবে মোরে
          পণ করিলাম মনে,
প্রভুর দুর্গ শত্রুর করে
          ছাড়িব না এ জীবনে।
প্রভুর আদেশে সে সত্য হায়
          ভাঙিতে হবে কি আজ!'
এতেক ভাবিয়া ফেলে নিশ্বাস
          দুর্গেশ দুমরাজ।
রাজপুত সেনা সরোষে শরমে
          ছাড়িল সমর-সাজ।
নীরবে দাঁড়ায়ে রহিল তোরণে
          দুর্গেশ দুমরাজ।
গেরুয়া-বসনা সন্ধ্যা নামিল
          পশ্চিম মাঠ-পারে;
মারাঠি সৈন্য ধুলা উড়াইয়া      
          থামিল দুর্গদ্বারে।
"দুয়ারের কাছে কে ওই শয়ান,
          ওঠো ওঠো, খোলো দ্বার।'
নাহি শোনে কেহ--প্রাণহীন দেহ
          সাড়া নাহি দিল আর।
প্রভুর কর্মে বীরের ধর্মে
          বিরোধ মিটাতে আজ
দুর্গদুয়ারে ত্যজিয়াছে প্রাণ
          দুর্গেশ দুমরাজ।
আরো দেখুন
59
Verses
YES, I know, this is nothing but thy love, O beloved of my heart-this golden light that dances upon the leaves, these idle clouds sailing across the sky, this passing breeze leaving its coolness upon my forehead.
The morning light has flooded my eyes-this is thy message to my heart. Thy face is bent from above, thy eyes look down on my eyes, and my heart has touched thy feet.
আরো দেখুন
ঋতু-অবসান
Verses
   একদা বসন্তে মোর বনশাখে যবে
                 মুকুলে পল্লবে
            উদ্‌বারিত আনন্দের আমন্ত্রণ
  গন্ধে বর্ণে দিল ব্যাপি ফাল্গুনের পবন গগন,
            সেদিন এসেছে যারা বীথিকায়--
                 কেহ এল কুণ্ঠিত দ্বিধায়;
  চটুল চরণ কারো তৃণে তৃণে বাঁকিয়া বাঁকিয়া
            নির্দয় দলনচিহ্ন গিয়েছে আঁকিয়া
  অসংকোচ নূপুরঝংকারে,
            কটাক্ষের খরধারে
                 উচ্চহাস্য করেছে শাণিত;
            কেহ বা করেছে ম্লান অমানিত
  অকারণ সংশয়েতে আপনারে
            অবগুণ্ঠনের অন্ধকারে;
       কেহ তারা নিয়েছিল তুলি
গোপনে ছায়ায় ফিরি তরুতলে ঝরা ফুলগুলি;
            কেহ ছিন্ন করি
                        তুলেছিল মাধবীমঞ্জরী,
                   কিছু তার পথে পথে ফেলেছে ছড়ায়ে,
                        কিছু তার বেণীতে জড়ায়ে
  অন্যমনে গেছে চলে গুন্‌গুন্‌ গানে।
  আজি এ ঋতুর অবসানে
            ছায়াঘন বীথি মোর নিস্তব্ধ নির্জন;
                     মৌমাছির মধু-আহরণ
                          হল সারা;
                     সমীরণ গন্ধহারা
            তৃণে তৃণে ফেলিছে নিশ্বাস।
  পাতার আড়াল ভরি একে একে পেতেছে প্রকাশ
            অচঞ্চল ফলগুচ্ছ যত,
                 শাখা অবনত।
                     নিয়ে সাজি
                কোথা তারা গেল আজি--
            গোধূলি ছায়াতে হল লীন
                 যারা এসেছিল একদিন
                    কলরবে কান্না ও হাসিতে
                     দিতে আর নিতে।
  আজি লয়ে মোর দানভার
       ভরিয়াছি নিভৃত অন্তর আপনার--
            অপ্রগল্‌ভ গূঢ় সার্থকতা
                 নাহি জানে কথা।
       নিশীথ যেমন স্তব্ধ নিষুপ্ত ভুবনে
                 আপনার মনে
            আপনার তারাগুলি
  কোন্‌ বিরাটের পায়ে ধরিয়াছে তুলি
       নাহি জানে আপনি সে--
  সুদূর প্রভাত-পানে চাহিয়া রয়েছে নির্নিমেষে।
আরো দেখুন