৯৪ (pothe pothei basa badhi)

পথে পথেই বাসা বাঁধি,

মনে ভাবি পথ ফুরালো--

কোন্‌ অনাদি কালের আশা

হেথায় বুঝি সব পুরালো।

কখন দেখি আঁধার ছুটে

স্বপ্ন আবার যায় যে টুটে,

পূর্বদিকের তোরণ খুলে

নাম ডেকে যায় প্রভাত-আলো।

আবার কবে নবীন ফুলে

ভরে নূতন দিনের সাজি,

পথের ধারে তরুমূলে

প্রভাতী সুর ওঠে বাজি।

কেমন করে নূতন সাথি

জোটে আবার রাতারাতি,

দেখি রথের চূড়ার 'পরে

নূতন ধ্বজা কে উড়ালো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নতুনকাল
Verses
কোন্‌-সে কালের কন্ঠ হতে এসেছে এই স্বর--
          "এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা', মধ্যিখানে চর।'
          অনেক বাণীর বদল হল, অনেক বাণী চুপ,
          নতুন কালের নটরাজা নিল নতুন রূপ।
          তখন যে-সব ছেলেমেয়ে শুনেছে এই ছড়া
                   তারা ছিল আর-এক ছাঁদে-গড়া।
          প্রদীপ তারা ভাসিয়ে দিত পূজা আনত তীরে,
কী জানি কোন্‌ চোখে দেখত মকরবাহিনীরে।
                   তখন ছিল নিত্য অনিশ্চয়,
          ইহকালের পরকালের হাজার-রকম ভয়।
          জাগত রাজার দারুণ খেয়াল, বর্গি নামত দেশে,
          ভাগ্যে লাগত ভূমিকম্প হঠাৎ এক নিমেষে।
          ঘরের থেকে খিড়কিঘাটে চলতে হত ডর,
                   লুকিয়ে কোথায় রাজদস্যুর চর।
                   আঙিনাতে শুনত পালাগান,
          বিনা দোষে দেবীর কোপে সাধুর অসম্মান।
                             সামান্য ছুতায়
                   ঘরের বিবাদ গ্রামের শত্রুতায়
          গুপ্ত চালের লড়াই যেত লেগে,
          শক্তিমানের উঠত গুমর জেগে।
          হারত যে তার ঘুচত পাড়ায় বাস,
                   ভিটেয় চলত চাষ।
ধর্ম ছাড়া কারো নামে পাড়বে যে দোহাই
                   ছিল না সেই ঠাঁই।
ফিস্‌ফিসিয়ে কথা কওয়া, সংকোচে মন ঘেরা,
গৃহস্থবউ, জিব কেটে তার হঠাৎ পিছন-ফেরা--
আলতা পায়ে, কাজল চোখে, কপালে তার টিপ,
          ঘরের কোণে জ্বালে মাটির দীপ।
মিনতি তার জলে স্থলে, দোহাই-পাড়া মন,
          অকল্যাণের শঙ্কা সারাক্ষণ।
                   আয়ুলাভের তরে
বলির পশুর রক্ত লাগায় শিশুর ললাট-'পরে।
                   রাত্রিদিবস সাবধানে তার চলা,
অশুচিতার ছোঁয়াচ কোথায় যায় না কিছুই বলা।
          ও দিকেতে মাঠে বাটে দস্যুরা দেয় হানা,
          এ দিকে সংসারের পথে অপদেব্‌তা নানা।
জানা কিম্বা না-জানা সব অপরাধের বোঝা,
                   ভয়ে তারই হয় না মাথা সোজা।
এরই মধ্যে গুন্‌গুনিয়ে উঠল কাহার স্বর--
          "এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা, মধ্যিখানে চর।'
সেদিনও সেই বইতেছিল উদার নদীর ধারা,
ছায়া-ভাসান দিতেছিল সাঁজ-সকালের তারা।
হাটের ঘাটে জমেছিল নৌকো মহাজনি,
রাত না যেতে উঠেছিল দাঁড়-চালানো ধ্বনি।
          শান্ত প্রভাতকালে
সোনার রৌদ্র পড়েছিল জেলেডিঙির পালে।
          সন্ধেবেলায় বন্ধ আসা-যাওয়া,
হাঁস-বলাকার পাখার ঘায়ে চমকেছিল হাওয়া।
          ডাঙায় উনুন পেতে
রান্না চড়েছিল মাঝির বনের কিনারেতে।
          শেয়াল ক্ষণে ক্ষণে
উঠতেছিল ডেকে ডেকে ঝাউয়ের বনে বনে।
কোথায় গেল সেই নবাবের কাল,
          কাজির বিচার, শহর-কোতোয়াল।
          পুরাকালের শিক্ষা এখন চলে উজান-পথে,
          ভয়ে-কাঁপা যাত্রা সে নেই বলদ-টানা রথে।
ইতিহাসের গ্রন্থে আরো খুলবে নতুন পাতা,
নতুন রীতির সূত্রে হবে নতুন জীবন গাঁথা।
যে হোক রাজা যে হোক মন্ত্রী কেউ রবে না তারা,
          বইবে নদীর ধারা--
জেলেডিঙি চিরকালের নৌকো মহাজনি,
          উঠবে দাঁড়ের ধ্বনি।
প্রাচীন অশথ আধা ডাঙায় জলের 'পরে আধা,
সারারাত্রি গুঁড়িতে তার পান্‌সি রইবে বাঁধা।
তখনো সেই বাজবে কানে যখন যুগান্তর--
"এপার গঙ্গা ওপার গঙ্গা ', মধ্যিখানে চর।'
আরো দেখুন
অপেক্ষা
Verses
    সকল বেলা কাটিয়া গেল
         বিকাল নাহি যায়।
    দিনের শেষে শ্রান্তছবি
    কিছুতে যেতে চায় না রবি,
    চাহিয়া থাকে ধরণী-পানে
         বিদায় নাহি চায়।
    মেঘেতে দিন জড়ায়ে থাকে
         মিলায়ে থাকে মাঠে,
    পড়িয়া থাকে তরুর শিরে,
    কাঁপিতে থাকে নদীর নীরে
    দাঁড়ায়ে থেকে দীর্ঘ ছায়া
         মেলিয়া ঘাটে বাটে।
    এখনো ঘুঘু ডাকিছে ডালে
         করুণ একতানে।
    অলস দুখে দীর্ঘ দিন
    ছিল সে বসে মিলনহীন,
    এখনো তার বিরহগাথা
         বিরাম নাহি মানে।
    বধূরা দেখো আইল ঘাটে,
         এল না ছায়া তবু।
    কলস-ঘায়ে ঊর্মি টুটে,
    রশ্মিরাশি চূর্ণি উঠে,
    শ্রান্ত বায়ু প্রান্তনীর
         চুম্বি যায় কভু।
দিবসশেষে বাহিরে এসে
         সেও কি এতখনে
    নীলাম্বরে অঙ্গ ঘিরে
    নেমেছে সেই নিভৃত নীরে,
    প্রাচীরে-ঘেরা ছায়াতে-ঢাকা
         বিজন ফুলবনে?
    স্নিগ্ধ জল মুগ্ধভাবে
         ধরেছে তনুখানি।
    মধুর দুটি বাহুর ঘায়
    অগাধ জল টুটিয়া যায়,
    গ্রীবার কাছে নাচিয়া উঠি
         করিছে কানাকানি।
    কপোলে তার কিরণ প'ড়ে
         তুলেছে রাঙা করি।
    মুখের ছায়া পড়িয়া জলে
    নিজেরে যেন খুঁজিছে ছলে,
    জলের 'পরে ছড়ায়ে পড়ে
         আঁচল খসি পড়ি।
    জলের 'পরে এলায়ে দিয়ে
         আপন রূপখানি
    শরমহীন আরামসুখে
    হাসিটি ভাসে মধুর মুখে,
    বনের ছায়া ধরার চোখে
         দিয়েছে পাতা টানি।
সলিলতলে সোপান-'পরে
         উদাস বেশবাস।
    আধেক কায়া আধেক ছায়া
    জলের 'পরে রচিছে মায়া,
    দেহেরে যেন দেহের ছায়া
         করিছে পরিহাস।
    আম্রবন মুকুলে ভরা
         গন্ধ দেয় তীরে।
    গোপন শাখে বিরহী পাখি,
    আপন মনে উঠিছে ডাকি,
    বিবশ হয়ে বকুল ফুল
         খসিয়া পড়ে নীরে।
    দিবস ক্রমে মুদিয়া আসে
         মিলায়ে আসে আলো।
    নিবিড় ঘন বনের রেখা
    আকাশশেষে যেতেছে দেখা,
    নিদ্রালস আঁখির 'পরে
         ভুরুর মতো কালো।
    বুঝি বা তীরে উঠিয়াছে সে,
         জলের কোল ছেড়ে।
    ত্বরিত পদে চলেছে গেহে,
    সিক্ত বাস লিপ্ত দেহে--
    যৌবনলাবণ্য যেন
         লইতে চাহে কেড়ে।
মাজিয়া তনু যতন ক'রে
         পরিবে নব বাস।
    কাঁচল পরি আঁচল টানি
    আঁটিয়া লয়ে কাঁকনখানি
    নিপুণ করে রচিয়া বেণী
         বাঁধিবে কেশপাশ।
    উরসে পরি যূথীর হার
         বসনে মাথা ঢাকি
    বনের পথে নদীর তীরে
    অন্ধকারে বেড়াবে ধীরে
    গন্ধটুকু সন্ধ্যাবায়ে
         রেখার মতো রাখি।
    বাজিবে তার চরণধ্বনি
         বুকের শিরে শিরে।
    কখন, কাছে না আসিতে সে
    পরশ যেন লাগিবে এসে,
    যেমন করে দখিন বায়ু
         জাগায় ধরণীরে।
    যেমনি কাছে দাঁড়াব গিয়ে
         আর কি হবে কথা?
    ক্ষণেক শুধু অবশ কায়
    থমকি রবে ছবির প্রায়,
    মুখের পানে চাহিয়া শুধু
         সুখের আকুলতা।
দোঁহার মাঝে ঘুচিয়া যাবে
         আলোর ব্যবধান।
    আঁধারতলে গুপ্ত হয়ে
    বিশ্ব যাবে লুপ্ত হয়ে,
    আসিবে মুদে লক্ষকোটি
         জাগ্রত নয়ান।
    অন্ধকারে নিকট করে
         আলোতে করে দূর।
    যেমন, দুটি ব্যথিত প্রাণে
    দুঃখনিশি নিকটে টানে,
    সুখের প্রাতে যাহারা রহে
         আপনা-ভরপুর।
    আঁধারে যেন দুজনে আর
         দুজন নাহি থাকে।
    হৃদয়-মাঝে যতটা চাই
    ততটা যেন পুরিয়া পাই,
    প্রলয়ে যেন সকল যায়--
         হৃদয় বাকি রাখে।
    হৃদয় দেহ আঁধারে যেন
         হয়েছে একাকার।
    মরণ যেন অকালে আসি
    দিয়েছে সবে বাঁধন নাশি,
    ত্বরিত যেন গিয়েছি দোঁহে
         জগৎ-পরপার।
দু দিক হতে দুজনে যেন
         বহিয়া খরধারে
    আসিতেছিল দোঁহার পানে
    ব্যাকুলগতি ব্যগ্রপ্রাণে,
    সহসা এসে মিশিয়া গেল
         নিশীথপারাবারে।
    থামিয়া গেল অধীর স্রোত
         থামিল কলতান,
    মৌন এক মিলনরাশি
    তিমিরে সব ফেলিল গ্রাসি,
    প্রলয়তলে দোঁহার মাঝে
         দোঁহার অবসান।
আরো দেখুন
106
Verses
তুমি যে তুমিই, ওগো
     সেই তব ঋণ
আমি মোর প্রেম দিয়ে
     শুধি চিরদিন।
আরো দেখুন