৩১ (nai ba dako roibo tomar dware)

নাই বা ডাক, রইব তোমার দ্বারে;

মুখ ফিরালে ফিরব না এইবারে।

                  বসব তোমার পথের ধুলার 'পরে

                  এড়িয়ে আমায় চলবে কেমন করে?

         তোমার তরে যে জন গাঁথে মালা

                            গানের কুসুম জুগিয়ে দেব তারে।

রইব তোমার ফসল-খেতের কাছে

যেথায় তোমার পায়ের চিহ্ন আছে।

জেগে রব গভীর উপবাসে

         অন্ন তোমার আপনি যেথায় আসে।

যেথায় তুমি লুকিয়ে প্রদীপ জ্বাল

               বসে রব সেথায় অন্ধকারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ঈষৎ দয়া
Verses
চক্ষে তোমার কিছু বা করুণা ভাসে,
ওষ্ঠ তোমার কিছু কৌতুকে হাসে,
          মৌনে তোমার কিছু লাগে মৃদু সুর।
আলো-আঁধারের বন্ধনে আমি বাঁধা,
আশানিরাশায় হৃদয়ে নিত্য ধাঁধা;
          সঙ্গ যা পাই তারই মাঝে রহে দূর।
                  
নির্মম হতে কুণ্ঠিত হও মনে;
অনুকম্পার কিঞ্চিত কম্পনে
          ক্ষণিকের তরে ছলকে কণিক সুধা।
ভাণ্ডার হতে কিছু এনে দাও খুঁজি,
অন্তরে তাহা ফিরাইয়া লও বুঝি,
          বাহিরের ভোজে হৃদয়ে গুমরে ক্ষুধা।
ওগো মল্লিকা, তব ফাল্গুনরাতি
অজস্র দানে আপনি উঠে যে মাতি,
          সে দাক্ষিণ্য দক্ষিণবায়ু-তরে!
তার সম্পদ সারা অরণ্য ভরি--
গন্ধের ভরে মন্থর উত্তরী
          কুঞ্জ কুঞ্জ লুণ্ঠিত ধূলি-'পরে।
উত্তরবায়ু আমি ভিক্ষুকসম
হিমনিশ্বাসে জানাই মিনতি মম
          শুষ্ক শাখার বীথিকারে চঞ্চলি।
অকিঞ্চনের রোদনে ধেয়ান টুটে,
কৃপণ দয়ায় ক্বচিৎ একটি ফুটে
          অবগুণ্ঠিত অকাল পুষ্পকলি।
যত মনে ভাবি, রাখি তারে সঞ্চিয়া,
ছিঁড়িয়া কাড়িয়া লয় মোরে বঞ্চিয়া
          প্রলয়প্রবাহে ঝ'রে-পড়া যত পাতা।
বিস্ময় লাগে আশাতীত সেই দানে,
ক্ষীণ সৌরভে ক্ষণগৌরব আনে--
          বরণমাল্য হয় না তাহাতে গাঁথা।
আরো দেখুন
Verses
স্বপ্ন আমার জোনাকি
     দীপ্ত প্রাণের মণিকা,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
     উড়িছে আলোর কণিকা॥  
My fancies are fireflies
     speaks of living light--
     twinkling in the dark.
আরো দেখুন
মাঝি
Verses
আমার যেতে ইচ্ছে করে
     নদীটির ওই পারে --
     যেথায় ধারে ধারে
বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকো
     বাঁধা সারে সারে।
কৃষাণেরা পার হয়ে যায়
     লাঙল কাঁধে ফেলে;
     জাল টেনে নেয় জেলে,
গোরু মহিষ সাঁৎরে নিয়ে
     যায় রাখালের ছেলে।
সন্ধে হলে যেখান থেকে
     সবাই ফেরে ঘরে
     শুধু রাতদুপরে
শেয়ালগুলো ডেকে ওঠে
     ঝাউডাঙাটার 'পরে।
     মা, যদি হও রাজি,
বড়ো হলে আমি হব
     খেয়াঘাটের মাঝি।
শুনেছি ওর ভিতর দিকে
     আছে জলার মতো।
     বর্ষা হলে গত
ঝাঁকে ঝাঁকে আসে সেথায়
     চখাচখী যত।
তারি ধারে ঘন হয়ে
     জন্মেছে সব শর;
     মানিক-জোড়ের ঘর,
কাদাখোঁচা পায়ের চিহ্ন
     আঁকে পাঁকের 'পর।
সন্ধ্যা হলে কত দিন মা,
     দাঁড়িয়ে ছাদের কোণে
     দেখেছি একমনে --
চাঁদের আলো লুটিয়ে পড়ে
     সাদা কাশের বনে।
     মা, যদি হও রাজি,
বড়ো হলে আমি হব
     খেয়াঘাটের মাঝি।
এ-পার ও-পার দুই পারেতেই
     যাব নৌকো বেয়ে।
     যত ছেলেমেয়ে
স্নানের ঘাটে থেকে আমায়
     দেখবে চেয়ে চেয়ে।
সূর্য যখন উঠবে মাথায়
     অনেক বেলা হলে --
     আসব তখন চলে
"বড়ো খিদে পেয়েছে গো --
     খেতে দাও মা' বলে।
আবার আমি আসব ফিরে
     আঁধার হলে সাঁঝে
     তোমার ঘরের মাঝে।
বাবার মতো যাব না মা,
     বিদেশে কোন্‌ কাজে।
     মা, যদি হও রাজি,
বড়ো হলে আমি হব
     খেয়াঘাটের মাঝি।
আরো দেখুন