১১ (ami je ar soite pari ne)

আমি যে আর সইতে পারি নে।

      সুরে বাজে মনের মাঝে গো

    কথা দিয়ে কইতে পারি নে।

   হৃদয়-লতা নুয়ে পড়ে

     ব্যথাভরা ফুলের ভরে গো,

     আমি সে আর বইতে পারি নে।

আজি আমার নিবিড় অন্তরে

       কী হাওয়াতে কাঁপিয়ে দিল গো

পুলক-লাগা আকুল মর্মরে।

কোন্‌ গুণী আজ উদাস প্রাতে

মীড় দিয়েছে কোন্‌ বীণাতে গো,

         ঘরে যে আর রইতে পারি নে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বিচ্ছেদ
Verses
প্রতিকূল বায়ুভরে, ঊর্মিময় সিন্ধু-'পরে
                              তরীখানি যেতেছিল ধীরি,
কম্পমান কেতু তার, চেয়েছিল কতবার
          সে দ্বীপের পানে ফিরি ফিরি।
যারে আহা ভালোবাসি, তারে যবে ছেড়ে আসি
          যত যাই দূর দেশে চলি,
সেইদিক পানে হায়, হৃদয় ফিরিয়া চায়
          যেখানে এসেছি তারে ফেলি।
বিদেশেতে দেখি যদি, উপত্যকা, দ্বীপ, নদী,
          অতিশয় মনোহর ঠাঁই,
সুরভি কুসুমে যার, শোভিত সকল ধার
          শুধু হৃদয়ের ধন নাই,
বড়ো সাধ হয় প্রাণে, থাকিতাম এইখানে,
          হেথা যদি কাটিত জীবন,
রয়েছে যে দূরবাসে, সে যদি থাকিত পাশে
          কী যে সুখ হইত তখন।
পূর্বদিক সন্ধ্যাকালে, গ্রাসে অন্ধকার জালে
          ভীত পান্থ চায় ফিরে ফিরে,
দেখিতে সে শেষজ্যোতি, সুষ্ঠুতর হয়ে অতি
          এখনো যা জ্বলিতেছে ধীরে,
তেমনি সুখের কাল, গ্রাসে গো আঁধার-জাল
          অদৃষ্টের সায়াহ্নে যখন,
ফিরে চাই বারে বারে, শেষবার দেখিবারে
          সুখের সে মুমূর্ষু কিরণ।
আরো দেখুন
প্রেমতত্ত্ব
Verses
নিঝর মিশেছে তটিনীর সাথে
          তটিনী মিশেছে সাগর-'পরে,
পবনের সাথে মিশিছে পবন
          চির-সুমধুর প্রণয়-ভরে!
জগতে কেহই নাইকো একেলা,
          সকলি বিধির নিয়ম-গুণে,
একের সহিত মিশিছে অপরে
          আমি বা কেন না তোমার সনে?
দেখো, গিরি ওই চুমিছে আকাশে,
          ঢেউ-'পরে ঢেউ পড়িছে ঢলি,
সে কুলবালারে কে বা না দোষিবে,
          ভাইটিরে যদি যায় সে ভুলি!
রবি-কর দেখো চুমিছে ধরণী,
          শশি-কর চুমে সাগর জল,
তুমি যদি মোরে না চুম', ললনা,
          এ-সব চুম্বনে কী তবে ফল?
আরো দেখুন
ছবি-আঁকিয়ে
Verses
ছবি আঁকার মানুষ ওগো পথিক চিরকেলে,
    চলছ তুমি আশেপাশে দৃষ্টির জাল ফেলে।
            পথ-চলা সেই দেখাগুলো লাইন দিয়ে এঁকে
                   পাঠিয়ে দিলে দেশ-বিদেশের থেকে।
যাহা-তাহা যেমন-তেমন আছে কতই কী যে,
    তোমার চোখে ভেদ ঘটে নাই চণ্ডালে আর দ্বিজে।
              ঐ যে গরিবপাড়া,
  আর কিছু নেই ঘেঁষাঘেঁষি কয়টা কুটীর ছাড়া।
              তার ওপারে শুধু
       চৈত্রমাসের মাঠ করছে ধু ধু।
  এদের পানে চক্ষু মেলে কেউ কভু কি দাঁড়ায়,
  ইচ্ছে ক'রে এ ঘরগুলোর ছায়া কি কেউ মাড়ায়।
  তুমি বললে, দেখার ওরা অযোগ্য নয় মোটে;
  সেই কথাটিই তুলির রেখায় তক্ষনি যায় রটে।
  হঠাৎ তখন ঝেঁকে উঠে আমরা বলি, তাই তো,
  দেখার মতোই জিনিস বটে, সন্দেহ তার নাই তো।
    ঐযে কারা পথে চলে, কেউ করে বিশ্রাম,
    নেই বললেই হয় ওরা সব, পোঁছে না কেউ নাম--
    তোমার কলম বললে, ওরা খুব আছে এই জেনো;
    অমনি বলি, তাই বটে তো, সবাই চেনো-চেনো।
    ওরাই আছে, নেইকো কেবল বাদশা কিংবা নবাব;
    এই ধরণীর মাটির কোলে থাকাই ওদের স্বভাব।
    অনেক খরচ ক'রে রাজা আপন ছবি আঁকায়,
    তার পানে কি রসিক লোকে কেউ কখনো তাকায়।
    সে-সব ছবি সাজে-সজ্জায় বোকার লাগায় ধাধাঁ,
    আর এরা সব সত্যি মানুষ সহজ রূপেই বাঁধা।
    ওগো চিত্রী, এবার তোমার কেমন খেয়াল এ যে,
    এঁকে বসলে ছাগল একটা উচ্চশ্রবা ত্যেজে।
    জন্তুটা তো পায় না খাতির হঠাৎ চোখে ঠেকলে,
    সবাই ওঠে হাঁ হাঁ ক'রে সবজি-খেতে দেখলে।
    আজ তুমি তার ছাগলামিটা ফোটালে যেই দেহে
    এক মুহূর্তে চমক লেগে বলে উঠলেম, কে হে।
    ওরে ছাগলওয়ালা, এটা তোরা ভাবিস কার--
    আমি জানি, একজনের এই প্রথম আবিষ্কার।
আরো দেখুন