ওকালতি ব্যবসায়ে (okaloti byabasaye kromoshoi tar)

    ওকালতি ব্যবসায়ে ক্রমশই তার

    জমেছিল একদিন মস্ত পসার।

    ভাগ্যটা ঘাটে ঘাটে কী করিয়া শেষে

    একদা জজের পদে ঠেকেছিল এসে।

    সদাই বাড়িতে তার মহা ধুমধাম,

    মুখে মুখে চারি দিকে রটে গেছে নাম।

    আজ সে তো কালীনাথ, আগে ছিল কেলে--

    কাউকে ফাঁসিতে দেয় কাউকে বা জেলে।

    ক্লাসে ছিল একদিন একেবারে নিচু,

    মাস্টার বলতেন হবে নাকো কিছু।

    সব চেয়ে বোকারাম, সব চেয়ে হাঁদা--

    দুষ্টুমি বুদ্ধিটা ছিল তার সাধা!

    ক্লাসে ছিল বিখ্যাত তারি দৃষ্টান্ত,

    সেই ইতিহাস তার সকলেই জানত।

    একদিন দেখা গেল ছুটির বিকালে

    ফলে ভরা আম গাছে একা বসি ডালে

    কামড় লাগাতেছিল পাকা পাকা আমে--

    ডাক পাড়ে মাস্টার, কিছুতে না নামে।

    আম পেড়ে খেতে তোরে করেছি বারণ,

    সে কথা শুনিস নে যে বল্‌ কী কারণ।

    কালু বলে, পেড়ে আমি খাই নে তো তাই,

    ডালে ব'সে ব'সে ফল ক'ষে কামড়াই।

    মাস্টার বলে তারে, আয় তুই নাবি--

    যত ফল খেয়েছিস তত চড় খাবি!

    কালু বলে, পালিয়াছি গুরুর আদেশ

    এই শাস্তিই যদি হয় তার শেষ,

    তা হলে তো ভালো নয় পড়াশুনা করা--

    গুরুর বচন শুনে চড় খেয়ে মরা।

     

     

    •  
    •  
    •  
    •  
    •  

    Rendition

    Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

    Related Topics

    শূন্য হৃদয়ের আকাঙক্ষা
    Verses
          আবার মোরে         পাগল করে
                    দিবে কে?
          হৃদয় যেন               পাষাণ-হেন
                বিরাগ-ভরা বিবেকে।
          আবার প্রাণে           নূতন টানে
                    প্রেমের নদী
          পাষাণ হতে          উছল স্রোতে
                    বহায় যদি।
          আবার দুটি                 নয়নে লুটি
                হৃদয় হরে নিবে কে?
          আবার মোরে          পাগল করে
                    দিবে কে?
          আবার কবে             ধরণী হবে
                    তরুণা?
          কাহার প্রেমে         আসিবে নেমে
                স্বরগ হতে করুণা?
          নিশীথনভে           শুনিব কবে
                    গভীর গান,
          যে দিকে চাব       দেখিতে পাব
                    নবীন প্রাণ,
          নূতন প্রীতি          আনিবে নিতি
                কুমারী উষা অরুণা।
          আবার কবে              ধরণী হবে
                    তরুণা?
          কোথা এ মোর        জীবন-ডোর
                    বাঁধা রে?
          প্রেমের ফুল          ফুটে' আকুল
                কোথায় কোন্‌ আঁধারে?
          গভীরতম               বাসনা মম
                    কোথায় আছে?
          আমার গান          আমার প্রাণ
                    কাহার কাছে?
          কোন গগনে            মেঘের কোণে
                লুকায়ে কোন্‌ চাঁদা রে?
          কোথায় মোর         জীবন-ডোর
                    বাঁধা রে?
          অনেক দিন           পরানহীন
                    ধরণী।
          বসনাবৃত                খাঁচার মতো
                তামসঘনবরনী।
          নাই সে শাখা,      নাই সে পাখা,
                    নাই সে পাতা,
          নাই সে ছবি,        নাই সে রবি,
                    নাই সে গাথা;
          জীবন চলে              আঁধার জলে
                আলোকহীন তরণী।
          অনেক দিন           পরানহীন
                    ধরণী।
          মায়া-কারায়          বিভোর প্রায়
                    সকলি;
          শতেক পাকে          জড়ায়ে রাখে
                ঘুমের ঘোর শিকলি।
          দানব-হেন        আছে কে যেন
                    দুয়ার আঁটি।
          কাহার কাছে      না জানি আছে
                    সোনার কাঠি?
          পরশ লেগে           উঠিবে জেগে
                হরষ-রস-কাকলি।
          মায়া-কারায়         বিভোর-প্রায়
                        সকলি।
          দিবে সে খুলি       এ ঘোর ধূলি-
                       আবরণ।
          তাহার হাতে         আঁখির পাতে
                জগত-জাগা জাগরণ।
          সে হাসিখানি        আনিবে টানি
                    সবার হাসি,
          গড়িবে গেহ,        জাগাবে স্নেহ
                    জীবনরাশি।
          প্রকৃতিবধূ             চাহিবে মধু,
                পরিবে নব আভরণ।
          সে দিবে খুলি        এ ঘোর ধূলি-
                       আবরণ।
          পাগল করে         দিবে সে মোরে
                        চাহিয়া,
          হৃদয়ে এসে           মধুর হেসে
                প্রাণের গান গাহিয়া।
          আপনা থাকি       ভাসিবে আঁখি
                    আকুল নীরে,
          ঝরনা সম                 জগৎ মম
                    ঝরিবে শিরে।
    তাহার বাণী        দিবে গো আনি
                  সকল বাণী বাহিয়া।
          পাগল করে       দিবে সে মোরে
                        চাহিয়া।
    আরো দেখুন
    বৈরাগ্য
    Verses
    কহিল গভীর রাত্রে সংসারে বিরাগী--
    "গৃহ তেয়াগিব আজি ইষ্টদেব লাগি।
    কে আমারে ভুলাইয়া রেখেছে এখানে?"
    দেবতা কহিলা, "আমি।"--শুনিল না কানে।
    সুপ্তিমগ্ন শিশুটিরে আঁকড়িয়া বুকে
    প্রেয়সী শয্যার প্রান্তে ঘুমাইছে সুখে।
    কহিল, "কে তোরা ওরে মায়ার ছলনা?"
    দেবতা কহিলা, "আমি।"--কেহ শুনিল না।
    ডাকিল শয়ন ছাড়ি, "তুমি কোথা প্রভু?"
    দেবতা কহিলা, "হেথা।"--শুনিল না তবু।
    স্বপনে কাঁদিল শিশু জননীরে টানি--
    দেবতা কহিলা, "ফির।"--শুনিল না বাণী।
    দেবতা নিশ্বাস ছাড়ি কহিলেন, "হায়,
    আমারে ছাড়িয়া ভক্ত চলিল কোথায়?"
    আরো দেখুন
    কেন গান গাই
    Verses
    গুরুভার মন লয়ে                  কত বা বেড়াবি ব'য়ে?
                       এমন কি কেহ তোর নাই,
    যাহার হৃদয়-'পরে                 মিলিবে মুহূর্ত তরে
              হৃদয়টি রাখিবার ঠাঁই?
              "কেহ না, কেহ না!'
              সংসারে যে দিকে ফিরে চাই
              এমন কি কেহ তোর নাই--
    তোর দিন শেষ হলে,             স্মৃতিখানি লয়ে কোলে,
              শোয়াইয়া বিষাদের কোমল শয়নে,
    বিমল শিশির-মাখা                 প্রেম-ফুলে দিয়ে ঢাকা
              চেয়ে রবে আনত নয়নে?
              হৃদয়েতে রেখে দিবে তুলে,
              প্রতিদিন ঢেকে দিবে ফুলে,
    মনোমাঝে প্রবেশিয়ে               বিন্দু বিন্দু অশ্রু দিয়ে
              বৃন্ত-ছিন্ন প্রেম-ফুলগুলি
              রাখিবেক জিয়াইয়া তুলি?
              এমন কি কেহ তোর নাই?
              "কেহ না, কেহ না!'
    প্রাণ তুই খুলে দিলি              ভালোবাসা বিলাইলি
              কেহ তাহা তুলে না লইল,
              ভূমিতলে পড়িয়া রহিল;
              ভালোবাসা কেন দিলি তবে
              কেহ যদি কুড়ায়ে না লবে?
                   কেন সখা কেন?
                   "জানি না, জানি না!'
    বিজনে বনের মাঝে                ফুল এক আছে ফুটে
              শুধাইতে গেনু তার কাছে,
    "ফুল, তুই এ আঁধারে  পরিমল দিস কারে,
              এ কাননে কে বা তোর আছে!
                   যখন পড়িবি তুই ঝরে,
    শুকাইয়া দলগুলি                  ধূলিতে হইবে ধূলি,
              মনে কি করিবে কেহ তোরে!
    তবে কেন পরিমল                 ঢেলে দিস অবিরল
              ছোটো মনখানি ভ'রে ভ'রে?
                   কেন, ফুল, কেন?
              সেও বলে, "জানি না। জানি না!'
              সখা, তুমি গান গাও কেন?
              কেহ যদি শুনিতে না চায়?
    ওই দেখো পথমাঝে               যে যাহার নিজ কাজে
              আপনার মনে চলে যায়।
              কেহ যদি শুনিতে না চায়
              কেন তবে, কেন গাও গান,
    আকাশে ঢালিয়া দাও প্রাণ?
    গান তব ফুরাইবে যবে,
    রাগিণী কারো কি মনে রবে?
              বাতাসেতে স্বরধার                খেলিয়াছে অনিবার,
                       বাতাসে সমাধি তার হবে।
    কাহারো মনেও নাহি রবে,
    কেন সখা গান গাও তবে?
       কেন, সখা, কেন?
          "জানি না, জানি না!'
              বিজন তরুর শাখে                 একাকি পাখিটি ডাকে,
                       শুধাইতে গেনু তার কাছে,
              "পাখি তুই এ আঁধারে            গান শুনাইবি কারে?
                       এ কাননে কে বা তোর আছে!
    যখনি ফুরাবে তোর প্রাণ,
    যখনি থামিবে তোর গান,
    বন ছিল যেমন নীরবে,
    তেমনি নীরব পুন হবে।
              যেমনি থামিবে গীত,              অমনি সে সচকিত
                       প্রতিধ্বনি আকাশে মিলাবে,
                       তোর গান তোরি সাথে যাবে!
                       আকাশে ঢালিয়া দিয়া প্রাণ,
                       তবে, পাখি, কেন গাস গান?
                            কেন, পাখি, কেন?
                       সেও বলে, "জানি না, জানি না!'
    আরো দেখুন