153 (to the blind pen)

TO THE BLIND pen the hand that writes is unreal,

its writing unmeaning.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ভারতলক্ষ্মী
Verses
ভৈরবী
      অয়ি ভুবনমনমোহিনী,
অয়ি নির্মলসূর্যকরোজ্জ্বল ধরণী,
      জনকজননী-জননী!
নীলসিন্ধুজল-ধৌত চরণতল,
অনিলবিকম্পিত শ্যামল অঞ্চল,
অম্বরচুম্বিত ভাল হিমাচল,
      শুভ্রতুষারকিরীটিনী!
প্রথম প্রভাত উদয় তব গগনে,
প্রথম সামরব তব তপোবনে,
প্রথম প্রচারিত তব বনভবনে
      জ্ঞানধর্ম কত কাব্যকাহিনী!
চিরকল্যাণময়ী তুমি ধন্য,
দেশ বিদেশে বিতরিছ অন্ন,
জাহ্নবীযমুনা বিগলিত করুণা
      পুণ্যপীযূষস্তন্যবাহিনী!
আরো দেখুন
পুনর্মিলন
Verses
        কিসের হরষ কোলাহল
       শুধাই তোদের, তোরা বল্‌।
আনন্দ-মাঝারে সব উঠিতেছে ভেসে ভেসে
        আনন্দে হতেছে কভু লীন--
চাহিয়া ধরণী-পানে নব আনন্দের গানে
        মনে পড়ে আর-এক দিন।
সে তখন ছেলেবেলা--রজনী প্রভাত হলে,
তাড়াতাড়ি শয্যা ছাড়ি ছুটিয়া যেতেম চলে;
সারি সারি নারিকেল বাগানের এক পাশে,
বাতাস আকুল করে আম্রমুকুলের বাসে।
          পথপাশে দুই ধারে
          বেলফুল ভারে ভারে
ফুটে আছে, শিশুমুখে প্রথম হাসির প্রায়--
          বাগানে পা দিতে দিতে
          গন্ধ আসে আচম্বিতে,
নর্‌গেস্‌ কোথা ফুটে খুঁজে তারে পাওয়া দায়।
মাঝেতে বাঁধানো বেদী, জুঁইগাছ চারি ধারে--
সূর্যোদয় দেখা দিত প্রাচীরের পরপারে।
          নবীন রবির আলো
         সে যে কী লাগিত ভালো
সর্বাঙ্গে সুবর্ণসুধা অজস্র পড়িত ঝরে--
প্রভাত ফুলের মতো ফুটায়ে তুলিত মোরে।
           এখনো সে মনে আছে
           সেই জানালার কাছে
বসে থাকিতাম একা জনহীন দ্বিপ্রহরে।
           অনন্ত আকাশ নীল,
           ডেকে চলে যেত চিল
জানায়ে সুতীব্র তৃষা সুতীক্ষ্ন করুণ স্বরে।
           পুকুর গলির ধারে,
          বাঁধা ঘাট এক পারে--
কত লোক যায় আসে, স্নান করে, তোলে জল--
রাজহাঁস তীরে তীরে
সারাদিন ভেসে ফিরে,
ডানা দুটি ধুয়ে ধুয়ে করিতেছে নিরমল।
পূর্ব ধারে বৃদ্ধ বট
মাথায় নিবিড় জট,
ফেলিয়া প্রকাণ্ড ছায়া দাঁড়ায়ে রহস্যময়।
আঁকড়ি শিকড়-মুঠে
প্রাচীর ফেলেছে টুটে,
খোপেখাপে ঝোপেঝাপে কত-না বিস্ময় ভয়।
বসি শাখে পাখি ডাকে সারাদিন একতান-
চারিদিক স্তব্ধ হেরি কী যেন করিত প্রাণ।
মৃদু তপ্ত সমীরণ গায়ে লাগিত এসে,
সেই সমীরণস্রোতে কত কি আসিত ভেসে
কোন্‌ সমুদ্রের কাছে
মায়াময় রাজ্য আছে,
সেথা হতে উড়ে আসে পাখির ঝাঁকের মতো
কত মায়া, কত পরী, রূপকথা কত শত।
আরেকটি ছোটো ঘর মনে পড়ে নদীকূলে,
সম্মুখে পেয়ারাগাছ ভরে আছে ফলে ফুলে।
বসিয়া ছায়াতে তারি ভুলিয়া শৈশবখেলা,
জাহ্নবীপ্রবাহ-পানে চেয়ে আছি সারাবেলা।
ছায়া কাঁপে, আলো কাঁপে, ঝুরু ঝুরু বহে বায়--
ঝর ঝর মর মর পাতা ঝরে পড়ে যায়।
সাধ যেত যাই ভেসে
কত রাজ্যে কত দেশে,
দুলায়ে দুলায়ে ঢেউ নিয়ে যাবে কত দূর--
কত ছোটো ছোটো গ্রাম
নূতন নূতন নাম,
অভ্রভেদী শুভ্র সৌধ, কত নব রাজপুর।
কত গাছ, কত ছায়া জটিল বটের মূল--
তীরে বালুকার 'পরে,
ছেলেমেয়ে খেলা করে,
সন্ধ্যায় ভাসায় দীপ, প্রভাতে ভাসায় ফুল।
ভাসিতে ভাসিতে শুধু দেখিতে দেখিতে যাব
কত দেশ, কত মুখ, কত-কী দেখিতে পাব।
কোথা বালকের হাসি,
কোথা রাখালের বাঁশি,
সহসা সুদূর হতে অচেনা পাখির গান।
         কোথাও বা দাঁড় বেয়ে
         মাঝি গেল গান গেয়ে,
কোথাও বা তীরে বসে পথিক ধরিল তান।
শুনিতে শুনিতে যাই আকাশেতে তুলে আঁখি
আকাশেতে ভাসে মেঘ, আকাশেতে ওড়ে পাখি।
হয়তো বরষা কাল-- ঝর ঝর বারি ঝরে,
পুলকরোমাঞ্চ ফুটে জাহ্নবীর কলেবরে--
          থেকে  থেকে ঝন্‌ ঝন্‌
          ঘন বাজ-বরিষন,
থেকে থেকে বিজলীর চমকিত চকমকি।
           বহিছে পুরব বায়,
           শীতে শিহরিছে কায়,
গহন জলদে দিবা হয়েছে আঁধারমুখী।
           সেই, সেই ছেলেবেলা
           আনন্দে করেছি খেলা
প্রকৃতি গো, জননী গো, কেবলি তোমারি কোলে।
তার পরে কী যে হল-- কোথা যে গেলেম চলে।
হৃদয় নামেতে এক বিশাল অরণ্য আছে,
          দিশে দিশে নাহিকো কিনারা,
          তারি মাঝে হ'নু, পথহারা।
          সে বন আঁধারে ঢাকা
           গাছের জটিল শাখা
           সহস্র স্নেহের বাহু দিয়ে
           আঁধার পালিছে  বুকে নিয়ে।
নাহি রবি, নাহি শশী, নাহি গ্রহ, নাহি তারা,
          কে জানে কোথায় দিগ্‌বিদিক।
          আমি শুধু একেলা পথিক।
          তোমারে গেলেম ফেলে,
          অরণ্যে গেলেম চলে,
          কাটালেম কত শত দিন
          ম্রিয়মাণ সুখশান্তিহীন।
আজিকে একটি পাখি পথ দেখাইয়া  মোরে
         আনিল এ অরণ্য-বাহিরে
         আনন্দের সমুদ্রের তীরে।
         সহসা দেখিনু রবিকর,
         সহসা শুনিনু কত গান।
         সহসা পাইনু পরিমল,
         সহসা খুলিয়া গেল প্রাণ।
দেখিনু ফুটিছে ফুল, দেখিনু উড়িছে পাখি,
         আকাশ পুরেছে কলস্বরে।
জীবনের ঢেউগুলি ওঠে পড়ে চারিদিকে,
         রবিকর নাচে তার 'পরে।
চারি দিকে বহে বায়ু, চারিদিকে ফুটে আলো,
         চারিদিকে অনন্ত আকাশ
চারিদিক পানে চাই--চারিদিকে প্রাণ ধায়,
        জগতের অসীম বিকাশ।
কেহ এসে বসে কোলে, কেহ ডাকে সখা ব'লে,
       কাছে এসে কেহ করে খেলা।
কেহ হাসে, কেহ গায়, কেহ আসে, কেহ যায়--
       এ কী হেরি আনন্দের মেলা!
যুবক যুবতি হাসে, বালক বালিকা নাচে
       দেখে যে রে জুড়ায় নয়ন।
ও কে হোথা গান গায়, প্রাণ কেড়ে নিয়ে যায়,
        ও কী শুনি অমিয়-বচন।
        তাই আজি শুধাই তোমারে
       কেন এ আনন্দ চারিধারে!
বুঝেছি গো বুঝেছি গো, এতদিন পরে বুঝি
       ফিরে পেলে হারানো সন্তান।
তাই বুঝি দুই হাতে জড়ায়ে লয়েছ বুকে,
        তাই বুঝি গাহিতেছ গান।
ভালোবাসা খুঁজিবারে গেছিনু অরণ্যমাঝে,
        হৃদয়ে হইনু পথহারা,
        বরষিনু অশ্রুবারিধারা।
ভ্রমিলাম দূরে দূরে--কে জানিত বল্‌ দেখি
        হেথা এত ভালোবাসা আছে।
যেদিকেই চেয়ে দেখি সেইদিকে ভালোবাসা
          ভাসিতেছে নয়নের কাছে।
মা আমার,  আজ আমি কত শত দিন পরে
          যখনি রে দাঁড়ানু সম্মুখে,
অমনি চুমিলি মুখ, কিছু নাই অভিমান,
         অমনি লইলি তুলে বুকে।
ছাড়িব না তোর কোল, রব হেথা অবিরাম,
        তোর কাছে শিখিব রে স্নেহ,
সবারে বাসিব ভালো--কেহ না নিরাশ হবে
         মোরে ভালো বাসিবে যে কেহ।
আরো দেখুন
ব্যক্ত প্রেম
Verses
      কেন তবে কেড়ে নিলে লাজ-আবরণ?
      হৃদয়ের দ্বার হেনে               বাহিরে আনিলে টেনে,
            শেষে কি পথের মাঝে করিবে বর্জন?
            আপন অন্তরে আমি ছিলাম আপনি,
      সংসারের শত কাজে              ছিলাম সবার মাঝে,
            সকলে যেমন ছিল আমিও তেমনি।
            তুলিতে পূজার ফুল যেতেম যখন
      সেই পথ ছায়া-করা,            সেই বেড়া লতা-ভরা,
            সেই সরসীর তীরে করবীর বন--
            সেই কুহরিত পিক শিরীষের ডালে,
      প্রভাতে সখীর মেলা,        কত হাসি কত খেলা--
            কে জানিত কী ছিল এ প্রাণের আড়ালে।
বসন্তে উঠিত ফুটে বনে বেলফুল,
      কেহ বা পরিত মালা,        কেহ বা ভরিত ডালা,
            করিত দক্ষিণবায়ু অঞ্চল আকুল।
            বরষায় ঘনঘটা, বিজুলি খেলায়--
      প্রান্তরের প্রান্তদিশে          মেঘে বনে যেত মিশে,
            জুঁইগুলি বিকশিত বিকাল বেলায়।
            বর্ষ আসে বর্ষ যায়, গৃহকাজ করি--
      সুখদুঃখ ভাগ লয়ে               প্রতিদিন যায় বয়ে,
            গোপন স্বপন লয়ে কাটে বিভাবরী।
            লুকানো প্রাণের প্রেম পবিত্র সে কত!
      আঁধার হৃদয়তলে            মানিকের মতো জ্বলে,
            আলোতে দেখায় কালো কলঙ্কের মতো।
            ভাঙিয়া দেখিলে ছিছি নারীর হৃদয়!
      লাজে ভয়ে থর্‌থর্‌            ভালোবাসা-সকাতর
            তার লুকাবার ঠাঁই কাড়িলে নিদয়!
            আজিও তো সেই আসে বসন্ত শরৎ।
      বাঁকা সেই চাঁপা-শাখে      সোনা-ফুল ফুটে থাকে,
            সেই তারা তোলে এসে-- সেই ছায়াপথ।
            সবাই যেমন ছিল, আছে অবিকল--
      সেই তারা কাঁদে হাসে,    কাজ করে, ভালোবাসে,
            করে পূজা, জ্বালে দীপ, তুলে আনে জল।
            কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে--
      ভাঙিয়া দেখে নি কেহ             হৃদয় গোপন গেহ,
            আপন মরম তারা আপনি না জানে।
আমি আজ ছিন্ন ফুল রাজপথে পড়ি,
      পল্লবের সুচিকন                  ছায়াস্নিগ্ধ আবরণ
            তেয়াগি ধুলায় হায় যাই গড়াগড়ি।
            নিতান্ত ব্যথায় ব্যথী ভালোবাসা দিয়ে
      সযতনে চিরকাল                রচি দিবে অন্তরাল,
            নগ্ন করেছিনু প্রাণ সেই আশা নিয়ে।
            মুখ ফিরাতেছ সখা, আজ কী বলিয়া!
      ভুল করে এসেছিলে?     ভুলে ভালোবেসেছিলে?
            ভুল ভেঙে গেছে, তাই যেতেছ চলিয়া?
            তুমি তো ফিরিয়া যাবে আজ বই কাল--
      আমার যে ফিরিবার            পথ রাখ নাই আর,
            ধূলিসাৎ করেছ যে প্রাণের আড়াল।
            একি নিদারুণ ভুল! নিখিলনিলয়ে
      এত শত প্রাণ ফেলে          ভুল করে কেন এলে
            অভাগিনী রমণীর গোপন হৃদয়ে!
            ভেবে দেখো আনিয়াছ মোরে কোন্‌খানে--
      লত লক্ষ আঁখিভরা             কৌতুককঠিন ধরা
            চেয়ে রবে অনাবৃত কলঙ্কের পানে।
            ভালোবাসা তাও যদি ফিরে নেবে শেষে,
      কেন লজ্জা কেড়ে নিলে,   একাকিনী ছেড়ে দিলে
            বিশাল ভবের মাঝে বিবসনা-বেশে!
আরো দেখুন