81 (the two separated)

THE TWO separated shores mingle their voices

in a song of unfathomed tears.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

লগ্ন
Verses
প্রথম মিলনদিন, সে কি হবে নিবিড় আষাঢ়ে,
          যেদিন গৈরিকবস্ত্র ছাড়ে
     আসন্নের আশ্বাসে সুন্দরা
              বসুন্ধরা?
     প্রাঙ্গণের চারি ধার ঢাকিয়া সজল আচ্ছাদনে
          যেদিন সে বসে প্রসাধনে
              ছায়ার আসন মেলি;
          পরি লয় নূতন সবুজরঙা চেলি,
              চক্ষুপাতে লাগায় অঞ্জন,
          বক্ষে করে কদম্বের কেশর রঞ্জন।
     দিগন্তের অভিষেকে
বাতাস অরণ্যে ফিরি নিমন্ত্রণ যায় হেঁকে হেঁকে।
          যেদিন প্রণয়ীবক্ষতলে
মিলনের পাত্রখানি ভরে অকারণ অশ্রুজলে,
     কবির সংগীত বাজে গভীর বিরহে,
              নহে নহে, সেদিন তো নহে।
          সে কি তবে ফাল্গুনের দিনে,
যেদিন বাতাস ফিরে গন্ধ চিনে চিনে
          সবিস্ময়ে বনে বনে,
শুধায় সে মল্লিকারে কাঞ্চন-রঙ্গনে,
          তুমি কবে এলে।
নাগকেশরের কুঞ্জ কেশর ধুলায় দেয় ফেলে
          ঐশ্চর্যগৌরবে।
              কলরবে
     অজস্র মিশায় বিহঙ্গম
ফুলের বর্ণের সঙ্গে ধ্বনির সংগম;
অরণ্যের শাখায় শাখায়
     প্রজাপতিসংঘ আনে পাখায় পাখায়
     চিত্রলিপি, কুসুমেরি বিচিত্র অক্ষরে;
          ধরণী যৌবনগর্বভরে
     আকাশেরে নিমন্ত্রণ করে যবে
               উদ্দাম উৎসবে;
     কবির বীণার তন্ত্র যে বসন্তে ছিঁড়ে যেতে চাহে
              প্রমত্ত উৎসাহে।
          আকাশে বাতাসে
          বর্ণের গন্ধের উচ্চহাসে
              ধৈর্য নাহি রহে,
          নহে নহে, সেদিন তো নহে।
     যেদিন আশ্বিনে শুভক্ষণে
আকাশের সমারোহ ধরণীতে পূর্ণ হয় ধনে।
          প্রাচুর্যপ্রশান্ত তট পেয়েছে সঙ্গিনী
                   তরঙ্গিণী--
          তপস্বিনী সে-যে, তার গম্ভীর প্রবাহে
              সমুদ্রবন্দনাগান গাহে।
     মুছিয়াছে নীলাম্বর বাষ্পসিক্ত চোখ
     বন্ধমুক্ত নির্মল আলোক।
              বনলক্ষ্মী শুভব্রতা
শুভ্রের ধেয়ানে তার মেলিয়াছে অম্লান শুভ্রতা
              আকাশে আকাশে
              শেফালি মালতী কুন্দে কাশে।
অপ্রগল্‌ভা ধরিত্রী-সে প্রণামে লুণ্ঠিত,
              পূজারিনী নিরবগুণ্ঠিত,
আলোকের আশীর্বাদে শিশিরের স্নানে
     দাহহীন শান্তি তার প্রাণে।
দিগন্তে পথ বাহি
                   শূন্যে চাহি
     রিক্তবিত্ত শুভ্র মেঘ সন্ন্যাসী উদাসী
গৌরীশঙ্করের তীর্থে চলিয়াছে ভাসি।
     সেই স্নিগ্ধক্ষণে, সেই স্বচ্ছ সূর্যকরে,
              পূর্ণতায় গম্ভীর অম্বরে
              মুক্তির শান্তির মাঝখানে
তাহারে দেখিব যারে চিত্ত চাহে, চক্ষু নাহি জানে।
আরো দেখুন
41
Verses
লেখন আমার ম্লান হয়ে আসে
                    অক্ষরে
এখন গোপনে ফুটিয়া উঠিছে,
                    অন্তরে।
অনাহত বাণী মনে তুলে নিয়ে
   রেখো তারে তব স্মরণে
স্থায়ী হয়ে যাবে যখন সে বাণী
   তরিয়া যাইবে মরণে।
আরো দেখুন
সাত
Verses
অনেক হাজার বছরের
মরু-যবনিকার আচ্ছাদন
যখন উৎক্ষিপ্ত হল,
দেখা দিল তারিখ-হারানো লোকালয়ের
বিরাট কঙ্কাল;--
ইতিহাসের অলক্ষ্য অন্তরালে
ছিল তার জীবনক্ষেত্র।
তার মুখরিত শতাব্দী
আপনার সমস্ত কবিগান
বাণীহীন অতলে দিয়েছে বিসর্জন।
আর, যে-সব গান তখনো ছিল অঙ্কুরে, ছিল মুকুলে,
যে বিপুল সম্ভাব্য
সেদিন অনালোকে ছিল প্রচ্ছন্ন
অপ্রকাশ থেকে অপ্রকাশেই গেল মগ্ন হয়ে--
যা ছিল অপ্রজ্বল ধোঁওয়ার গোপন আচ্ছাদনে
তাও নিবল।
যা বিকাল, আর যা বিকাল না,--
দুই-ই সংসারের হাট থেকে গেল চলে
একই মূল্যের ছাপ নিয়ে।
কোথাও রইল না তার ক্ষত,
কোথাও বাজল না তার ক্ষতি।
ঐ নির্মল নিঃশব্দ আকাশে
অসংখ্য কল্প-কল্পান্তরের
হয়েছে আবর্তন।
নূতন নূতন বিশ্ব
অন্ধকারের নাড়ি ছিঁড়ে
জন্ম নিয়েছে আলোকে,
ভেসে চলেছে আলোড়িত নক্ষত্রের ফেনপুঞ্জে;
অবশেষে যুগান্তে তারা তেমনি করেই গেছে
যেমন গেছে বর্ষণশান্ত মেঘ,
যেমন গেছে ক্ষণজীবী পতঙ্গ।
মহাকাল, সন্ন্যাসী তুমি।
তোমার অতলস্পর্শ ধ্যানের তরঙ্গ-শিখরে
উচ্ছ্রিত হয়ে উঠছে সৃষ্টি
আবার নেমে যাচ্ছে ধ্যানের তরঙ্গতলে।
প্রচণ্ড বেগে চলেছে ব্যক্ত অব্যক্তের চক্রনৃত্য,
তারি নিস্তব্ধ কেন্দ্রস্থলে
তুমি আছ অবিচলিত আনন্দে।
হে নির্মম, দাও আমাকে তোমার ঐ সন্ন্যাসের দীক্ষা।
জীবন আর মৃত্যু, পাওয়া আর হারানোর মাঝখানে
যেখানে আছে অক্ষুব্ধ শান্তি
সেই সৃষ্টি-হোমাগ্নিশিখার অন্তরতম
স্তিমিত নিভৃতে
দাও আমাকে আশ্রয়।
আরো দেখুন