95 (the tree is)

THE TREE is OF to-day, the flower is old,

it brings with it the message

of the immemorial seed.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দুদিন
Verses
       আরম্ভিছে শীতকাল,       পরিছে নীহারজাল,
          শীর্ণ বৃক্ষশাখা যত ফুলপত্রহীন,  
          মৃতপ্রায় পৃথিবীর মুখের উপরে
      বিষাদে প্রকৃতিমাতা         শুভ্র বাম্পজালে-গাঁথা
       কুজ্ঝটি-বসনখানি দেছেন টানিয়া।
          পশ্চিমে গিয়েছে রবি, স্তব্ধ সন্ধ্যাবেলা
          বিদেশে আসিনু শ্রান্ত পথিক একেলা।
                   রহিনু দুদিন।
      এখনো রয়েছে শীত,    বিহব গাহে না গীত,
          এখনো ঝরিছে পাতা, পড়িছে তুহিন।
          বসন্তের প্রাণভরা চুম্বন-পরশে
       সর্ব অঙ্গ শিহরিয়া   পুলকে-আকুল-হিয়া
          মৃত্যুশয়্যা হতে ধরা জাগে নি হরষে।
          এক দিন দুই দিন ফুরাইল শেষে,
          আবার উঠিতে হল, চলিনু বিদেশে।
  
          এই-যে ফিরানু মুখ, চলিনু পুরবে,
          আর কি রে এ জীবনে ফিরে আসা হবে।
          কত মুখ দেখিয়াছি দেখিব না আর।
       ঘটনা ঘটিবে কত,     বরষ বরষ শত
          জিবনের 'পর দিয়া হয়ে যাবে পার--
          হয়তো-বা একদিন অতি দূর দেশে,
       আছিয়াছে সন্ধ্যা হয়ে,       বাতাস যেতেছে বয়ে,
          একেলা নদীর ধারে রহিয়াছি বসে--
          হু হু  করে উঠিবেক সহসা এ হিয়া,
          সহসা এ মেঘাচ্ছন্ন স্মৃতি উজলিয়া
          একটি অস্ফুট রেখা--সহসা দিবে যে দেখা,
          একটি মুখের ছবি উঠিবে জাগিয়া,
          একটি গানের ছত্র পড়িবেক মনে,
          দু-একটি সুর তার উদিবে স্মরণে,
          অবশেষে একেবারে সহসা সবলে
    বিস্মৃতির বাঁধগুলি   ভাঙিয়া চুর্ণিয়া ফেলি
          সেদিনের কথাগুলি বন্যার মতন
          একেবারে বিপ্লাবিয়া ফেলিবে এ মন।
        শতফুলদলে গড়া সেই মুখ তার
    স্বপনেতে প্রতিনিশি   হৃদয়ে উদিবে আসি
        এলানো আকুল কেশে, আকুল নয়নে।
        সেই মুখ সঙ্গী মোর হইবে বিজনে
        নিশীথের অন্ধকার আকাশের পটে
        নক্ষত্র-গ্রহের মতো উঠবেক ফুটে
        ধীরে ধীরে রেখা রেখা সেই মুখ তার
        নিঃশব্দে মুখের পানে চাহিয়া আমার।
        চমকি উঠিব জাগি শুনি ঘুমঘোরে
        "যাবে তবে? যাবে?" সেই ভাঙা-ভাঙা স্বরে।
ফুরাল দুদিন--
        শরতে যে শাখা হয়েছিল পত্রহীন
        এ দু'দিনে      সে শাথা উঠে নি মুকুলিয়া,
   অচল শিখর-'পরি  যে তুষার ছিল পড়ি
        এ দুদিনে কণা তার যায় নি গলিয়া,
        কিন্তু এ দু'দিন তার শত বাহু দিয়া
        চিরটি জীবন মোর রহিবে বেষ্টিয়া।
        দু'দিনের পদচিহ্ন চিরদিন-তরে
        অঙ্কিত রহিবে শত বরষের শিরে।
আরো দেখুন
দেবতা
Verses
দেবতা মানবলোকে ধরা দিতে চায়
      মানবের অনিত্য লীলায়।
          মাঝে মাঝে দেখি তাই--
                আমি যেন নাই,
      ঝংকৃত বীণার তন্তুসম দেহখানা
                হয় যেন অদৃশ্য অজানা;
      আকাশের অতিদূর সূক্ষ্ম নীলিমায়
                সংগীতে হারায়ে যায়;
                   নিবিড় আনন্দরূপে
               পল্লবের স্তূপে
      আমলকীবীথিকার গাছে গাছে
    ব্যাপ্ত হয় শরতের আলোকের নাচে।
               প্রেয়সীর প্রেমে
    প্রত্যহের ধূলি-আবরণ যায় নেমে
                দৃষ্টি হতে, শ্রুতি হতে;
                   স্বর্গসুধাস্রোতে
          ধৌত হয় নিখিলগগন--
যাহা দেখি যাহা শুনি তাহা যে একান্ত অতুলন
          মর্তের অমৃতরসে দেবতার রুচি
পাই যেন আপনাতে, সীমা হতে সীমা যায় ঘুচি।
                             দেবসেনাপতি
                নিয়ে আসে আপনার দিব্যজ্যোতি
                   যখন মরণপণে হানি অমঙ্গল।
                         ত্যাগের বিপুল বল
                   কোথা হতে বক্ষে আসে;
                             অনায়াসে
               দাঁড়াই উপেক্ষা করি প্রচণ্ড অন্যায়ে
                   অকুণ্ঠিত সর্বস্বের ব্যয়ে।          
                         তখন মৃত্যুর বক্ষ হতে
               দেবতা বাহিরি আসে অমৃত-আলোতে;
                         তখন তাহার পরিচয়
          মর্তলোকে অমর্তেরে করি তোলে অক্ষুণ্ন অক্ষয়।
আরো দেখুন
বৃষ্টি রৌদ্র
Verses
ঝুঁটি-বাঁধা ডাকাত সেজে
দল বেঁধে মেঘ চলেছে যে
          আজকে সারাবেলা।
কালো ঝাঁপির মধ্যে ভরে
সুর্যিকে নেয় চুরি করে,
          ভয়-দেখাবার খেলা।
বাতাস তাদের ধরতে মিছে
হাঁপিয়ে ছোটে পিছে পিছে,
          যায় না তাদের ধরা।
আজ যেন ওই জড়োসড়ো
আকাশ জুড়ে মস্ত বড়ো
          মন-কেমন-করা।
বটের ডালে ডানা-ভিজে
কাক বসে ওই ভাবছে কী যে,
          চড়ুইগুলো চুপ।
বৃষ্টি হয়ে গেছে ভোরে
শজনেপাতায় ঝরে ঝরে
          জল পড়ে টুপটুপ।
লেজের মধ্যে মাথা থুয়ে
খ্যাঁদন কুকুর আছে শুয়ে
          কেমন একরকম।
দালানটাতে ঘুরে ঘুরে
পায়রাগুলো কাঁদন-সুরে
          ডাকছে বকবকম।
কার্তিকে ঐ ধানের খেতে
ভিজে হাওয়া উঠল মেতে
          সবুজ ঢেউয়ের 'পরে।
পরশ লেগে দিশে দিশে
হিহি করে ধানের শিষে
          শীতের কাঁপন ধরে।
ঘোষাল-পাড়ার লক্ষ্মী বুড়ী
ছেঁড়া কাঁথায় মুড়িসুড়ি
          গেছে পুকুরপাড়ে,
দেখতে ভালো পায় না চোখে
বিড়বিড়িয়ে বকে বকে
          শাক তোলে, ঘাড় নাড়ে।
ঐ ঝমাঝম বৃষ্টি নামে
মাঠের পারে দূরের গ্রামে
          ঝাপসা বাঁশের বন।
গোরুটা কার থেকে থেকে
খোঁটায়-বাঁধা উঠছে ডেকে
          ভিজছে সারাক্ষণ।
গদাই কুমোর অনেক ভোরে
সাজিয়ে নিয়ে উঁচু ক'রে
          হাঁড়ির উপর হাঁড়ি
চলছে রবিবারের হাটে
গামছা মাথায় জলের ছাঁটে
          হাঁকিয়ে গোরুর গাড়ি।
বন্ধ আমার রইল খেলা,
ছুটির দিনে সারাবেলা
          কাটবে কেমন করে?
মনে হচ্ছে এমনিতরো
ঝরবে বৃষ্টি ঝরঝর
          দিনরাত্তির ধরে!
এমন সময় পুবের কোণে
কখন যেন অন্যমনে
          ফাঁক ধরে ঐ মেঘে,
মুখের চাদর সরিয়ে ফেলে
হঠাৎ চোখের পাতা মেলে
          আকাশ ওঠে জেগে।
ছিঁড়ে-যাওয়া মেঘের থেকে
পুকুরে রোদ পড়ে বেঁকে,
          লাগায় ঝিলিমিলি।
বাঁশবাগানের মাথায় মাথায়
তেঁতুলগাছের পাতায় পাতায়
          হাসায় খিলিখিলি।
হঠাৎ কিসের মন্ত্র এসে
ভুলিয়ে দিলে একনিমেষে
          বাদলবেলার কথা।
হারিয়ে-পাওয়া আলোটিরে
নাচায় ডালে ফিরে ফিরে
          বেড়ার ঝুমকোলতা।
উপর নিচে আকাশ ভরে
এমন বদল কেমন করে
          হয়, সে-কথাই ভাবি।
উলটপালট খেলাটি এই,
সাজের তো তার সীমানা নেই,
          কার কাছে তার চাবি?
এমন যে ঘোর মন-খারাপি
বুকের মধ্যে ছিল চাপি
          সমস্ত খন আজি
হঠাৎ দেখি সবই মিছে
নাই কিছু তার আগে পিছে
          এ যেন কার বাজি।
আরো দেখুন