উৎসর্গ (utsargo)

      আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে

      গুচ্ছ গুচ্ছ ধরিয়াছে ফল।

পরিপূর্ণ বেদনার ভরে

মুহূর্তেই বুঝি ফেটে পড়ে,

বসন্তের দুরন্ত বাতাসে

নুয়ে বুঝি নমিবে ভূতল--

রসভরে অসহ উচ্ছ্বাসে

থরে থরে ফলিয়াছে ফল।

 

      তুমি এসো নিকুঞ্জনিবাসে,

      এসো মোর সার্থকসাধন।

লুটে লও ভরিয়া অঞ্চল

জীবনের সকল সম্বল,

নীরবে নিতান্ত অবনত

বসন্তের সর্ব-সমর্পণ--

হাসি মুখে নিয়ে যাও যত

বনের বেদননিবেদন।

 

      শুক্তিরক্ত নখরে বিক্ষত

      ছিন্ন করি ফেলো বৃন্তগুলি।

          সুখাবেশে বসি লতামূলে

          সারাবেলা অলস অঙ্গুলে

বৃথা কাজে যেন অন্যমনে

খেলাচ্ছলে লহো তুলি তুলি--

তব ওষ্ঠে দশনদংশনে

টুটে যাক পূর্ণ ফলগুলি।

 

      আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে

      গুঞ্জরিছে ভ্রমর চঞ্চল।

          সারাদিন অশান্ত বাতাস

          ফেলিতেছে মর্মরনিশ্বাস,

বনের বুকের আন্দোলনে

কাঁপিতেছে পল্লব-অঞ্চল--

আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে

পুঞ্জ পুঞ্জ ধরিয়াছে ফল।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মহাস্বপ্ন
Verses
পূর্ণ করি মহাকাল পূর্ণ করি অনন্ত গগন,
নিদ্রামগ্ন মহাদেব দেখিছেন মহান্‌ স্বপন্‌।
          বিশাল জগৎ এই
          প্রকাণ্ড স্বপন সেই,
হৃদয়সমুদ্রে তাঁর উঠিতেছে বিম্বের মতন।
উঠিতেছে চন্দ্র সূর্য, উঠিতেছে আলোক আঁধার,
উঠিতেছে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের জ্যোতি-পরিবার।
উঠিতেছে, ছুটিতেছে গ্রহ উপগ্রহ দলে দলে,
উঠিতেছে ডুবিতেছে রাত্রি দিন, আকাশের তলে ।
একা বসি মহাসিন্ধু চিরদিন গাইতেছে গান,
ছুটিয়া সহস্র নদী পদতলে মিলাইছে প্রাণ।
তটিনীর কলরব, লক্ষ নির্ঝরের ঝর ঝর,
সিন্ধুর গম্ভীর গীত, মেঘের গম্ভীর কণ্ঠস্বর,
ঝটিকা করিছে হা হা আশ্রয়-আলয় তার ছাড়ি
বাজায়ে অরণ্যবীণা ভীমবল শত বাহু নাড়ি,
রুদ্র রাগ আলাপিয়া গড়ায়ে পড়িছে হিমরাশ
পর্বতদৈত্যের যেন ঘনীভূত ঘোর অট্টহাস,
ধীরে ধীরে মহারণ্য নাড়িতেছে জটাময় মাথা--
ঝর ঝর মর মর উঠিতেছে সুগম্ভীর গাথা।
চেতনার কোলাহলে দিবস পুরিছে দশ দিশি,
ঝিল্লিরবে একমন্ত্র জপিতেছে তাপসিনী নিশি,
সমস্ত একত্রে মিলি ধ্বনিয়া ধ্বনিয়া চারি ভিত
উঠাইছে মহা-হৃদে মহা এক স্বপনসংগীত।
স্বপনের রাজ্য এই স্বপন-রাজ্যের জীবগণ
দেহ ধরিতেছে কত মুহুর্মুহু নূতন নূতন।
ফুল হয়ে যায় ফল, ফুল ফল বীজ হয় শেষে,
নব নব বৃক্ষ হয়ে বেঁচে থাকে কানন-প্রদেশে।
বাষ্প হয়, মেঘ হয়, বিন্দু বিন্দু বৃষ্টিবারিধারা
নির্ঝর তটিনী হয়, ভাঙি ফেলে শিলাময় কারা।
নিদাঘ মরিয়া যায়, বরষা শ্মশানে আসি তার
নিবায় জলন্ত চিতা বরষিয়া অশ্রুবারিধার।
বরষা হইয়া বৃদ্ধ শ্বেতকেশ শীত হয়ে যায়,
যযাতির মতো পুন বসন্তযৌবন ফিরে পায়।
এক শুধু পুরাতন, আর সব নূতন নূতন
এক পুরাতন হৃদে উঠতেছে নূতন স্বপন।
অপূর্ণ স্বপনসৃষ্ট মানুষেরা অভাবের দাস,
জাগ্রত পূর্ণতা-তরে পাইতেছে কত না প্রয়াস।
চেতনা ছিঁড়িতে চাহে আধো-অচেতন আবরণ--
দিনরাত্রি এই আশা, এই তার একমাত্র পণ।
পূর্ণ আত্মা জাগিবেন, কভু কি আসিবে হেন দিন?
অপূর্ণ জগৎ-স্বপ্ন ধীরে ধীরে হইবে বিলীন?
চন্দ্র-সূর্য-তারকার অন্ধকার স্বপ্নময়ী ছায়া
জ্যোতির্ময় সে হৃদয়ে ধীরে ধীরে মিলাইবে কায়া।
পৃথিবী ভাঙিয়া যাবে, একে একে গ্রহতারাগণ
ভেঙে ভেঙে মিলে যাবে একেকটি বিস্বের মতন।
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ চেয়ে জ্যোতির্ময় মহান্‌ বৃহৎ
জীব-আত্মা মিলাইবে একেকটি জলবিম্ববৎ।
কভু কি আসিবে, দেব, সেই মহাস্বপ্ন-ভাঙা দিন
সত্যের সমুদ্র-মাঝে আধো সত্য হয়ে যাবে লীন?
আধেক প্রলয়জলে ডুবে আছে তোমার হৃদয়--
বলো, দেব, কবে হেন প্রলয়ের হইবে প্রলয়।
আরো দেখুন
আসা-যাওয়া
Verses
ভালোবাসা এসেছিল
                             এমন সে নিঃশব্দ চরণে
                        তারে স্বপ্ন হয়েছিল মনে,
                   দিই নি আসন বসিবার।
               বিদায় সে নিল যবে, খুলিতেই দ্বার
                        শব্দ তার পেয়ে,
                   ফিরায়ে ডাকিতে গেনু ধেয়ে।
               তখন সে স্বপ্ন কায়াহীন,
                             নিশীথে বিলীন,
                   দূরপথে তার দীপশিখা
                             একটি রক্তিম মরীচিকা।
আরো দেখুন
একা আমি ফিরব না আর
Verses
       একা আমি ফিরব না আর
              এমন করে--
       নিজের মনে কোণে কোণে
              মোহের ঘোরে।
তোমায়       একলা বাহুর বাঁধন দিয়ে
                  ছোটো করে ঘিরতে গিয়ে
                  আপনাকে যে বাঁধি কেবল
                    আপন ডোরে।
                           যখন আমি পাব তোমায়
                                  নিখিলমাঝে
                           সেইখনে হৃদয় পাব
                                  হৃদয়রাজে।
                    এই   চিত্ত আমার বৃন্ত কেবল
                           তারি 'পরে বিশ্বকমল;
                           তারি 'পরে পূর্ণ প্রকাশ
                                  দেখাও মোরে।
আরো দেখুন