ক্ষণমিলন (khonomilon)

পরম আত্মীয় বলে যারে মনে মানি

তারে আমি কতদিন কতটুকু জানি!

অসীম কালের মাঝে তিলেক মিলনে

পরশে জীবন তার আমার জীবনে।

যতটুকু লেশমাত্র চিনি দুজনায়,

তাহার অনন্তগুণ চিনি নাকো হায়।

দুজনের এক জন এক দিন যবে

বারেক ফিরাবে মুখ, এ নিখিল ভবে

আর কভু ফিরিবে না মুখোমুখি পথে,

কে কার পাইবে সাড়া অনন্ত জগতে!

এ ক্ষণমিলনে তবে, ওগো মনোহর,

তোমারে হেরিনু কেন এমন সুন্দর!

মুহূর্ত-আলোক কেন, হে অন্তরতম,

তোমারে চিনিনু চিরপরিচিত মম?

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ভীরু
Verses
কেন এ কম্পিত প্রেম, অয়ি ভীরু, এনেছ সংসারে--
                   ব্যর্থ করি রাখিবে কি তারে।
            আলোকশঙ্কিত তব হিয়া
            প্রচ্ছন্ন নিভৃত পথ দিয়া
                   থেমে যায় প্রাঙ্গণের দ্বারে।
হায়, সে যে পায় নাই আপন নিশ্চিত পরিচয়,
                   বন্দী তারে রেখেছে সংশয়।
            বাহিরে সামান্য বাধা সেও
            সে-প্রেমেরে কেন করে হেয়,
                      অন্তরেও তার পরাজয়।
ওই শোনো কেঁপে ওঠে নিশীথরাত্রির অন্ধকার,
                      আহ্বান আসিছে বারম্বার।
            থেকো না ভয়ের অন্ধ ঘেরে,
            অবজ্ঞা করিয়ো দুর্গমেরে,
                   জিনি লহো সত্যেরে তোমার।
নিষ্ঠুরকে মেনে লহো সুদুঃসহ দুঃখের উৎসাহে,
                   প্রেমের গৌরব জেনো তাহে।
            দীপ্তি দেয় রুদ্ধ অশ্রুজল,
            নষ্ট আশা হয় না নিষ্ফল,
                      সমুজ্জল করে চিত্তদাহে।
শীর্ণ ফুল রৌদ্রে পুড়ে কালো হয়, হোক-না সে কালো--
                      দীন দীপে নিবুক-না আলো।
            দুর্বল যে মিথ্যার খাঁচায়
            নিত্যকাল কে তারে বাঁচায়,
                  মরে যাহা মরা তার ভালো।
আঘাত বাঁচাতে গিয়ে বঞ্চিত হবে কি এ-জীবন,
                  শুধিবে না দুর্মূল্যের পণ।
            প্রেম সে কি কৃপণতা জানে,
            আত্মরক্ষা করে আত্মদানে--
                  ত্যাগবীর্যে লভে মুক্তিধন।
আরো দেখুন
23
Verses
'WE, THE rustling leaves, have a voice that answers the storms, but who are you so silent?'
'I am a mere flower.'
আরো দেখুন
মধ্যাহ্ন
Verses
বেলা দ্বিপ্রহর।
ক্ষুদ্র শীর্ণ নদীখানি শৈবালে জর্জর
স্থির স্রোতোহীন। অর্ধমগ্ন তরী-'পরে
মাছরাঙা বসি, তীরে দুটি গোরু চরে
শষ্যহীন মাঠে। শান্তনেত্রে মুখ তুলে
মহিষ রয়েছে জলে ডুবি। নদীকূলে
জনহীন নৌকা বাঁধা। শূন্য ঘাটতলে
রৌদ্রতপ্ত দাঁড়কাক স্নান করে জলে
পাখা ঝটপটি। শ্যামশষ্পতটে তীরে
খঞ্জন দুলায়ে পুচ্ছ নৃত্য করি ফিরে।
চিত্রবর্ণ পতঙ্গম স্বচ্ছ পক্ষভরে
আকাশে ভাসিয়া উড়ে, শৈবালের 'পরে
ক্ষণে ক্ষণে লভিয়া বিশ্রাম। রাজহাঁস
অদূরে গ্রামের ঘাটে তুলি কলভাষ
শুভ্র পক্ষ ধৌত করে সিক্ত চঞ্চুপুটে।
শুষ্কতৃণগন্ধ বহি ধেয়ে আসে ছুটে
তপ্ত সমীরণ--চলে যায় বহু দূর।
থেকে থেকে ডেকে ওঠে গ্রামের কুকুর
কলহে মাতিয়া। কভু শান্ত হাম্বাস্বর,
কভু শালিখের ডাক, কখনো মর্মর
জীর্ণ অশথের, কভু দূর শূন্য-'পরে
চিলের সুতীব্র ধ্বনি, কভু বায়ুভরে
আর্ত শব্দ বাঁধা তরণীর--মধ্যাহ্নের
অব্যক্ত করুণ একতান, অরণ্যের
স্নিগ্ধচ্ছায়া, গ্রামের সুষুপ্ত শান্তিরাশি,
মাঝখানে বসে আছি আমি পরবাসী।
প্রবাসবিরহদুঃখ মনে নাহি বাজে;
আমি মিলে গেছি যেন সকলের মাঝে;
ফিরিয়া এসেছি যেন আদি জন্মস্থলে
বহুকাল পরে--ধরণীর বক্ষতলে
পশু পাখি পতঙ্গম সকলের সাথে
ফিরে গেছি যেন কোন্‌ নবীন প্রভাতে
পূর্বজন্মে, জীবনের প্রথম উল্লাসে
আঁকড়িয়া ছিনু যবে আকাশে বাতাসে
জলে স্থলে, মাতৃস্তনে শিশুর মতন--
আদিম আনন্দরস করিয়া শোষণ।
আরো দেখুন