হৃদয়ধর্ম (hridoydharmo)

হৃদয় পাষাণভেদী নির্ঝরের প্রায়,

জড়জন্তু সবাপানে নামিবারে চায়।

মাঝে মাঝে ভেদচিহ্ন আছে যত যার

সে চাহে করিতে মগ্ন লুপ্ত একাকার।

মধ্যদিনে  দগ্ধদেহে ঝাঁপ দিয়ে নীরে

মা ব'লে সে ডেকে ওঠে স্নিগ্ধ তটিনীরে।

যে চাঁদ ঘরের মাঝে হেসে দেয় উঁকি

সে যেন ঘরেরই মেয়ে শিশু সুধামুখী।

যে-সকল তরুলতা রচি উপবন

গৃহপার্শ্বে বাড়িয়াছে, তারা ভাইবোন।

যে পশুরে জন্ম হতে আপনার জানি,

হৃদয় আপনি তারে ডাকে "পুঁটুরানী'।

বুদ্ধি শুনে হেসে ওঠে, বলে--কী মূঢ়তা!

হৃদয় লজ্জায় ঢাকে হৃদয়ের কথা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রকাশ
Verses
            আচ্ছাদন হতে
ডেকে লহো মোরে তব চক্ষুর আলোতে।
       অজ্ঞাত ছিলাম এতদিন
            পরিচয়হীন--
       সেই অগোচরদুঃখভার
বহিয়া চলেছি পথে; শুধু আমি অংশ জনতার।
       উদ্ধার করিয়া আনো,
       আমারে সম্পূর্ণ করি জানো।
            যেথা আমি একা
       সেথায় নামুক তব দেখা।
সে মহানির্জন
            যে গহনে অন্তর্যামী পাতেন আসন,
                 সেইখানে আনো আলো,
            দেখো মোর সব মন্দ ভালো,
                 যাক লজ্জা ভয়,
            আমার সমস্ত হোক তব দৃষ্টিময়।
       ছায়া আমি সবা-কাছে, অস্ফুট আমি-যে,
                 তাই আমি নিজে
                 তাহাদের মাঝে
            নিজেরে খুঁজিয়া পাই না-যে।
       তারা মোর নাম জানে, নাহি জানে মান,
       তারা মোর কর্ম জানে, নাহি জানে মর্মগত প্রাণ।
            সত্য যদি হই তোমা-কাছে
            তবে মোর মূল্য বাঁচে,
                 তোমার মাঝারে
            বিধির স্বতন্ত্র সৃষ্টি জানিব আমারে।
                 প্রেম তব ঘোষিবে তখন
            অসংখ্য যুগের আমি একান্ত সাধন।
                 তুমি মোরে করো আবিষ্কার,
       পূর্ণ ফল দেহো মোরে আমার আজন্ম প্রতীক্ষার।
            বহিতেছি অজ্ঞাতির বন্ধন সদাই,
                 মুক্তি চাই
              তোমার জানার মাঝে
            সত্য তব যেথায় বিরাজে।
আরো দেখুন
41
Verses
এখনো অঙ্কুর যাহা
      তারি পথপানে
প্রত্যহ প্রভাতে রবি
      আর্শীবাদ আনে।
আরো দেখুন
সতেরো
Verses
শ্রীমান ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কল্যাণীয়েষু
আমার কাছে শুনতে চেয়েছ
গানের কথা;
বলতে ভয় লাগে,
তবু কিছু বলব।
মানুষের জ্ঞান বানিয়ে নিয়েছে
আপন সার্থক ভাষা।
মানুষের বোধ অবুঝ, সে বোবা,
যেমন বোবা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।
সেই বিরাট বোবা
আপনাকে প্রকাশ করে ইঙ্গিতে,
ব্যাখ্যা করে না।
বোবা বিশ্বের আছে ভঙ্গি, আছে ছন্দ,
আছে নৃত্য আকাশে আকাশে।
অণুপরমাণু অসীম দেশে কালে
বানিয়েছে আপন আপন নাচের চক্র,
নাচছে সেই সীমায় সীমায়;
গড়ে তুলছে অসংখ্য রূপ।
তার অন্তরে আছে বহ্নিতেজের দুর্দাম বোধ
সেই বোধ খুঁজছে আপন ব্যঞ্জনা,
ঘাসের ফুল থেকে শুরু ক'রে
আকাশের তারা পর্যন্ত।
মানুষের বোধের বেগ যখন বাঁধ মানে না,
বাহন করতে চায় কথাকে,--
তখন তার কথা হয়ে যায় বোবা,
সেই কথাটা খোঁজে ভঙ্গি, খোঁজে ইশারা,
খোঁজে নাচ, খোঁজে সুর,
দেয় আপনার অর্থকে উলটিয়ে,
নিয়মকে দেয় বাঁকা ক'রে।
মানুষ কাব্যে রচে বোবার বাণী।
মানুষের বোধ যখন বাহন করে সুরকে
তখন বিদ্যুচ্চঞ্চল পরমাণুপুঞ্জের মতোই
সুরসংঘকে বাঁধে সীমায়,
ভঙ্গি দেয় তাকে,
নাচায় তাকে বিচিত্র আবর্তনে।
সেই সীমায়-বন্দী নাচন
পায় গানে-গড়া রূপ।
সেই বোবা রূপের দল মিলতে থাকে।
সৃষ্টির অন্দরমহলে,
সেখানে যত রূপের নটী আছে
ছন্দ মেলায় সকলের সঙ্গে
নূপুর-বাঁধা চাঞ্চল্যের
দোলযাত্রায়।
আমি যে জানি
এ-কথা যে-মানুষ জানায়
বাক্যে হোক সুরে হোক, রেখায় হোক,
সে পণ্ডিত।
আমি যে রস পাই, ব্যথা পাই,
রূপ দেখি,
এ-কথা যার প্রাণ বলে
গান তারি জন্যে,
শাস্ত্রে সে আনাড়ি হলেও
তার নাড়িতে বাজে সুর।
যদি সুযোগ পাও
কথাটা নারদমুনিকে শুধিয়ো,
ঝগড়া বাধাবার জন্যে নয়,
তত্ত্বের পার পাবার জন্যে সংজ্ঞার অতীতে।
আরো দেখুন