দুই বন্ধু (dui bandhu)

মূঢ় পশু ভাষাহীন নির্বাক্‌হৃদয়,

তার সাথে মানবের কোথা পরিচয়!

কোন্‌ আদি স্বর্গলোকে সৃষ্টির প্রভাতে

হৃদয়ে হৃদয়ে যেন নিত্য যাতায়াতে

পথচিহ্ন পড়ে গেছে, আজো চিরদিনে

লুপ্ত হয় নাই তাহা, তাই দোঁহে চিনে।

সেদিনের আত্মীয়তা গেছে বহুদূরে;

তবুও সহসা কোন্‌ কথাহীন সুরে

পরানে জাগিয়া উঠে ক্ষীণ পূর্বস্মৃতি,

অন্তরে উচ্ছলি উঠে সুধাময়ী প্রীতি,

মুগ্ধ মূঢ় স্নিগ্ধ চোখে পশু চাহে মুখে--

মানুষ তাহারে হেরে স্নেহের কৌতুকে।

যেন দুই ছদ্মবেশে দু বন্ধুর মেলা--

তার পরে দুই জীবে অপরূপ খেলা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পথ
Verses
আমি পথ, দূরে দূরে দেশে দেশে ফিরে ফিরে শেষে
                      দুয়ার-বাহিরে থামি এসে।
ভিতরেতে গাঁথা চলে নানা সূত্রে রচনার ধারা,
আমি পাই ক্ষণে ক্ষণে তারি ছিন্ন অংশ অর্থহারা,
সেথা হতে লেখে মোর ধূলিপটে দীপরশ্মিরেখা
                      অসম্পূর্ণ লেখা।
জীবনের সৌধমাঝে কত কক্ষ কত না মহলা,
                      তলার উপরে কত তলা।
আজন্মবিধবা তারি এক প্রান্তে রয়েছি একাকী,
সবার নিকটে থেকে তবুও অসীম দূরে থাকি,
লক্ষ্য নহি উপলক্ষ, দেশ নহি আমি যে উদ্দেশ--
                      মোর নাহি শেষ।
উৎসবসভায় যেতে যে পায় আহ্বান-পত্রখানি
                      তাহারে বহন করে আনি।
সে লিপির খণ্ডগুলি মোর বক্ষে উড়ে এসে পড়ে,
ধুলায় করিয়া লুপ্ত তাদের উড়ায়ে দিই ঝড়ে,
আমি মালা গেঁথে চলি শত শত জীর্ণ শতাব্দীর
                      বহু বিস্মৃতির।
কেহ যারে নাহি শোনে, সবাই যাহারে বলে "জানি',
                      আমি সেই পুরাতন বাণী।
বণিকের পণ্যযান হে তুমি রাজার জয়রথ,
আমি চলিবার পথ, সেই আমি ভুলিবার পথ,
তীব্রদুঃখ মহাদম্ভ চিহ্ন মুছে গিয়েছে সবাই--
                      কিছু নাই, নাই।
কভু সুখে কভু দুঃখে নিয়ে চলি; সুদিন দুর্দিন
                      নাহি বুঝি আমি উদাসীন।
বারবার কচি ঘাস কোথা হতে আসে মোর কোলে,
চলে যায়-- সেও যায় যে যায় তাহারে দ'লে দ'লে;
বিচিত্রের প্রয়োজনে অবিচিত্র আমি শূন্যময়--
                      কিছু নাহি রয়।
বসিতে না চাহে কেহ, কাহারো কিছু না সহে দেরি--
                      কারো নই, তাই সকলেরই।
বামে মোর শস্যক্ষেত্র, দক্ষিণে আমার লোকালয়--
প্রাণ সেথা দুই হস্তে বর্তমান আঁকড়িয়া রয়।
আমি সর্ববন্ধহীন নিত্য চলি তারি মধ্যখানে।
                      ভবিষ্যের পানে।
তাই আমি চিররিক্ত, কিছু নাহি থাকে মোর পুঁজি--
                      কিছু নাহি পাই, নাহি খুঁজি।
আমারে ভুলিবে ব'লে যাত্রীদল গান গাহে সুরে--
পারি নে রাখিতে তাহা, সে গান চলিয়া যায় দূরে।
বসন্ত আমার বুকে আসে যবে ধুলায় আকুল
                      নাহি দেয় ফুল।
পৌঁছিয়া ক্ষতির প্রান্তে বিত্তহীন একদিন শেষে
                      শয্যা পাতে মোর পাশে এসে।
পান্থের পাথেয় হতে খসে পড়ে যাহা ভাঙাচোরা
ধূলিরে বঞ্চনা করি কাড়িয়া তুলিয়া লয় ওরা;
আমি রিক্ত, ওরা রিক্ত, মোর 'পরে নাই প্রীতিলেশ--
                      মোরে করে দ্বেষ।
শুধু শিশু বোঝে মোরে, আমারে সে জানে ছুটি ব'লে--
                      ঘর ছেড়ে আসে তাই চলে
নিষেধ বা অনুমতি মোর মাঝে না দেয় পাহারা,
আবশ্যকে নাহি রচে বিবিধের বস্তুময় কারা,
বিধাতার মতো শিশু লীলা দিয়ে শূন্য দেয় ভরে--
                      শিশু বোঝে মোরে।
বিলুপ্তির ধূলি দিয়ে যাহা খুশি সৃষ্টি করে তাই,
                      এই আছে এই তাহা নাই।
ভিত্তিহীন ঘর বেঁধে আনন্দে কাটায়ে দেয় বেলা,
মূল্য যার কিছু নাই তাই দিয়ে মূল্যহীন খেলা,
ভাঙাগড়া দুই নিয়ে নৃত্য তার অখণ্ড উল্লাসে--
                      মোরে ভালোবাসে।
আরো দেখুন
গান
Verses
তুমি পড়িতেছ হেসে              তরঙ্গের মতো এসে
                   হৃদয়ে আমার।
যৌবনসমুদ্রমাঝে                   কোন্‌ পূর্ণিমায় আজি
                   এসেছে জোয়ার!
উচ্ছল পাগল নীরে                 তালে তালে ফিরে ফিরে
     এ মোর নির্জন তীরে  কী খেলা তোমার!
মোর সর্ব বক্ষ জুড়ে                কত নৃত্যে কত সুরে
     এসো কাছে যাও দূরে শতলক্ষবার।
তুমি পড়িতেছ হেসে              তরঙ্গের মতো এসে
                   হৃদয়ে আমার।
জাগরণসম তুমি          আমার ললাট চুমি
                   উদিছ নয়নে।
সুষুপ্তির প্রান্ততীরে                দেখা দাও ধীরে ধীরে
                   নবীন কিরণে।
দেখিতে দেখিতে শেষে             সকল হৃদয়ে এসে
     দাঁড়াও আকুল কেশে রাতুল চরণে--
সকল আকাশ টুটে                 তোমাতে ভরিয়া উঠে,
     সকল কানন ফুটে জীবনে যৌবনে।
জাগরণসম তুমি                    আমার ললাট চুমি
                   উদিছ নয়নে।
কুসুমের মতো শ্বসি               পড়িতেছ খসি খসি
                   মোর বক্ষ-'পরে।
গোপন শিশিরছলে                 বিন্দু বিন্দু অশ্রুজলে
                   প্রাণ সিক্ত করে।
নিঃশব্দ সৌরভরাশি                পরানে পশিছে আসি
     সুখস্বপ্ন পরকাশি  নিভৃত অন্তরে।
পরশপুলকে ভোর                 চোখে আসে ঘুমঘোর,
       তোমার চুম্বন, মোর সর্বাঙ্গে সঞ্চরে।
কুসুমের মতো শ্বসি               পড়িতেছ খসি খসি
                   মোর বক্ষ-'পরে।
আরো দেখুন
9
Verses
বিরাট সৃষ্টির ক্ষেত্রে
আতশবাজির খেলা আকাশে আকাশে,
সূর্য তারা ল'য়ে
যুগযুগান্তের পরিমাপে।
অনাদি অদৃশ্য হতে আমিও এসেছি
ক্ষুদ্র অগ্নিকণা নিয়ে
এক প্রান্তে ক্ষুদ্র দেশে কালে।
প্রস্থানের অঙ্কে আজ এসেছি যেমনি
দীপশিখা ম্লান হয়ে এল,
ছায়াতে পড়িল ধরা এ খেলার মায়ার স্বরূপ,
শ্লথ হয়ে এল ধীরে
সুখ দুঃখ নাট্যসজ্জাগুলি।
দেখিলাম, যুগে যুগে নটনটী বহু শত শত
ফেলে গেছে নানারঙা বেশ তাহাদের
রঙ্গশালা-দ্বারের বাহিরে।
দেখিলাম চাহি
শত শত নির্বাপিত নক্ষত্রের নেপথ্যপ্রাঙ্গণে
নটরাজ নিস্তব্ধ একাকী।
আরো দেখুন