উদাসীন (udasin)

তোমারে ডাকিনু যবে কুঞ্জবনে

                   তখনো আমের বনে গন্ধ ছিল।

জানি না কী লাগি ছিলে অন্যমনে,

          তোমার দুয়ার কেন বন্ধ ছিল।

                   একদিন শাখাভরি এল ফলগুচ্ছ,

                   ভরা অঞ্জলি মোর করি গেলে তুচ্ছ,

                             পূর্ণতা-পানে আঁখি অন্ধ ছিল।

বৈশাখে অকরুণ দারুণ ঝড়ে

সোনার বরন ফল খসিয়া পড়ে।

          কহিনু, "ধুলায় লোটে মোর যত অর্ঘ্য,

          তব করতলে যেন পায় তার স্বর্গ।'

                   হায় রে, তখনো মনে দ্বন্দ্ব ছিল।

তোমার সন্ধ্যা ছিল প্রদীপহীনা,

আঁধারে দুয়ারে তব বাজানু বীণা।

                   তারার আলোক-সাথে মিলি মোর চিত্ত

                   ঝংকৃত তারে তারে করেছিল নৃত্য,

                             তোমার হৃদয় নিস্পন্দ ছিল।

          

তন্দ্রাবিহীন নীড়ে ব্যাকুল পাখি

হারায়ে কাহারে বৃথা মরিল ডাকি।        

          প্রহর অতীত হল, কেটে গেল লগ্ন,

          একা ঘরে তুমি ঔদাস্যে নিমগ্ন,

                   তখনো দিগঞ্চলে চন্দ্র ছিল।

কে বোঝে কাহার মন! অবোধ হিয়া

দিতে চেয়েছিল বাণী নিঃশেষিয়া।

          আশা ছিল, কিছু বুঝি আছে অতিরিক্ত

          অতীতের স্মৃতিখানি অশ্রুতে সিক্ত--

                   বুঝিবা নূপুরে কিছু ছন্দ ছিল।

উষার চরণতলে মলিন শশী

রজনীর হার হতে পড়িল খসি।

          বীণার বিলাপ কিছু দিয়েছে কি সঙ্গ,

          নিদ্রার তটতলে তুলেছে তরঙ্গ,

                   স্বপ্নেও কিছু কি আনন্দ ছিল।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

তত্ত্ব ও সৌন্দর্য
Verses
শুনিয়াছি নিম্নে তব, হে বিশ্বপাথার,
নাহি অন্ত মহামূল্য মণিমুকুতার।
নিশিদিন দেশে দেশে পন্ডিত ডুবারি
রত রহিয়াছে কত অন্বেষণে তারি।
তাহে মোর নাহি লোভ মহাপারাবার!
যে আলোক জ্বলিতেছে উপরে তোমার,
যে রহস্য দুলিতেছে তব বক্ষতলে,
যে মহিমা প্রসারিত তব নীল জলে,
যে সংগীত উঠে তব নিয়ত আঘাতে,
যে বিচিত্র লীলা তব মহানৃত্যে মাতে,
এ জগতে কভু তার অন্ত যদি জানি,
চিরদিনে কভু তাহে শ্রান্তি যদি মানি,
তোমার অতলমাঝে ডুবিব তখন
যেথায় রতন আছে অথবা মরণ।
আরো দেখুন
কাপুরুষ
Verses
নিবেদনম্‌ অধ্যাপকিনিসু--
কর্তা তোমার নিতান্ত নন শিশু,
জানিয়ো তো সেই সংখ্যাতত্ত্বনিধিকে,
ব্যর্থ যদি করেন তিনি বিধিকে,
পুরুষজাতির মুখ্যবিজয়কেতু
গুম্ফশ্মশ্রু ত্যজেন বিনা হেতু,
গণ্ডদেশে পাবেন ক্ষুরের শাস্তি
একটুমাত্র সংশয় তায় নাস্তি।
সিংহ যদি কেশর আপন মুড়োয়
সিংহী তারে হেসেই তবে উড়োয়।
কৃষ্ণসার সে বদ্‌খেয়ালে হঠাৎ
শিং জোড়াটা কাটে যদি পটাৎ
কৃষ্ণসারনি সইতে সে কি পারবে--
ছী ছি ব'লে কোন্‌ দেশে দৌড় মারবে।
উলটো দেখি অধ্যাপকের বেলায়--
গোঁফদাড়ি সে অসংকোচে ফেলায়,
কামানো মুখ দেখেন যখন ঘরনি
বলেন না তো "দ্বিধা হও, মা ধরণী'।
আরো দেখুন
পুণ্যের হিসাব
Verses
সাধু যবে স্বর্গে গেল, চিত্রগুপ্তে ডাকি
কহিলেন, "আনো মোর পুণ্যের হিসাব।"
চিত্রগুপ্ত খাতাখানি সম্মুখেতে রাখি
দেখিতে লাগিল তার মুখের কী ভাব।
সাধু কহে চমকিয়া, "মহা ভুল এ কী!
প্রথমের পাতাগুলো ভরিয়াছ আঁকে,
শেষের পাতায় এ যে সব শূন্য দেখি--
যতদিন ডুবে ছিনু সংসারের পাঁকে
ততদিন এত পুণ্য কোথা হতে আসে!"
শুনি কথা চিত্রগুপ্ত মনে মনে হাসে।
সাধু মহা রেগে বলে, "যৌবনের পাতে
এত পুণ্য কেন লেখ দেবপূজা-খাতে।"
চিত্রগুপ্ত হেসে বলে, "বড়ো শক্ত বুঝা।
যারে বলে ভালোবাসা, তারে বলে পূজা।"
আরো দেখুন