শেষ (shesh)

      বহি লয়ে অতীতের সকল বেদনা,

       ক্লান্তি লয়ে, গ্লানি লয়ে, লয়ে মুহূর্তের আবর্জনা,

                 লয়ে প্রীতি,

                       লয়ে সুখস্মৃতি,

            আলিঙ্গন ধীরে ধীরে শিথিল করিয়া

                 এই দেহ যেতেছে সরিয়া

                          মোর কাছ হতে।

             সেই রিক্ত অবকাশ যে আলোতে

                 পূর্ণ হয়ে আসে

               অনাসক্ত আনন্দ-উদ্ভাসে

                 নির্মল পরশ তার

               খুলি দিল গত রজনীর দ্বার।

                 নবজীবনের রেখা

              আলোরূপে প্রথম দিতেছে দেখা;

       কোনো চিহ্ন পড়ে নাই তাহে,

     কোনো ভার; ভাসিতেছে সত্তার প্রবাহে

                 সৃষ্টির আদিমতারা-সম

                      এ চৈতন্য মম।

              ক্ষোভ তার নাই দুঃখে সুখে;

    যাত্রার আরম্ভ তার নাহি জানি কোন্‌ লক্ষ্যমুখে।

                 পিছনের ডাক

    আসিতেছে শীর্ণ হয়ে; সম্মুখেতে নিস্তব্ধ নির্বাক্‌

                 ভবিষ্যৎ জ্যোতির্ময়

                      অশোক অভয়,

       স্বাক্ষর লিখিল তাহে সূর্য অস্তগামী।

      যে মন্ত্র উদাত্ত সুরে উঠে শূন্যে সেই মন্ত্র--"আমি'।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ধরাতল
Verses
ছোটো কথা, ছোটো গীত, আজি মনে আসে।
চোখে পড়ে যাহা-কিছু হেরি চারি পাশে।
আমি যেন চলিয়াছি বাহিয়া তরণী,
কূলে কূলে দেখা যায় শ্যামল ধরণী।
সবই বলে, "যাই যাই" নিমেষে নিমেষে,
ক্ষণকাল দেখি ব'লে দেখি ভালোবেসে।
তীর হতে দুঃখ সুখ দুই ভাইবোনে
মোর মুখপানে চায় করুণ নয়নে।
ছায়াময় গ্রামগুলি দেখা যায় তীরে,
মনে ভাবি কত প্রেম আছে তারে ঘিরে।
যবে চেয়ে চেয়ে দেখি উৎসুক নয়ানে
আমার পরান হতে ধরার পরানে--
ভালোমন্দ দুঃখসুখ অন্ধকার-আলো,
মনে হয়, সব নিয়ে এ ধরণী ভালো।
আরো দেখুন
বিরহীর পত্র
Verses
     হয় কি না হয় দেখা, ফিরি কি না ফিরি,
          দূরে গেলে এই মনে হয়;
     দুজনার মাঝখানে অন্ধকারে ঘিরি
          জেগে থাকে সতত সংশয়।
     এত লোক, এত জন, এত পথ, গলি,
          এমন বিপুল এ সংসার--
     ভয়ে ভয়ে হাতে হাতে বেঁধে বেঁধে চলি
          ছাড়া পেলে কে আর কাহার।
     তারায় তারায় সদা থাকে চোখে চোখে
          অন্ধকারে অসীম গগনে।
     ভয়ে ভয়ে অনিমেষে কম্পিত আলোকে
          বাঁধা থাকে নয়নে নয়নে।
               চৌদিকে অটল স্তব্ধ সুগভীর রাত্রি,
                   তরুহীন মরুময় ব্যোম--
     মুখে মুখে চেয়ে তাই চলে যত যাত্রী
          চলে গ্রহ রবি তারা সোম।
     নিমেষের অন্তরালে কী আছে কে জানে,
          নিমেষে অসীম পড়ে ঢাকা--
     অন্ধ কাল তুরঙ্গম রাশ নাহি মানে
          বেগে ধায় অদৃষ্টের চাকা।
     কাছে কাছে পাছে পাছে চলিবারে চাই,
          জেগে জেগে দিতেছি পাহারা,
     একটু এসেছে ঘুম--চমকি তাকাই
          গেছে চলে কোথায় কাহারা!
     ছাড়িয়ে চলিয়া গেলে কাঁদি তাই একা
          বিরহের সমুদ্রের তীরে।
     অনন্তের মাঝখানে দুদন্ডের দেখা
          তাও কেন রাহু এসে ঘিরে।
     মৃত্যু যেন মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে যায়,
          পাঠায় সে বিরহের চর।
     সকলেই চলে যাবে, পড়ে রবে হায়
          ধরণীর শূন্য খেলাঘর।
     গ্রহ তারা ধূমকেতু কত রবি শশী,
          শূন্য ঘেরি জগতের ভিড়,
     তারি মাঝে যদি ভাঙে, যদি যায় খসি
          আমাদের দুদন্ডের নীড়--
     কোথায় কে হারাইব--কোন্‌ রাত্রিবেলা
          কে কোথায় হইব অতিথি।
     তখন কি মনে রবে দুদিনের খেলা,
          দরশের পরশের স্মৃতি!
     তাই মনে ক'রে কি রে চোখে জল আসে
          একটুকু চোখের আড়ালে!
     প্রাণ যারে প্রাণের অধিক ভালোবাসে
          সেও কি রবে না এক কালে!
     আশা নিয়ে এ কি শুধু খেলাই কেবল--
          সুখ দুঃখ মনের বিকার!
     ভালোবাসা কাঁদে, হাসে, মোছে অশ্রুজল,
          চায়, পায়, হারায় আবার।
আরো দেখুন
19
Verses
MY WISHES are fools, they shout across thy songs, my Master.
Let me but listen.
আরো দেখুন