রাতের দান (rater dan)

পথের শেষে নিবিয়া আসে আলো,

          গানের বেলা আজ ফুরালো

                   কী নিয়ে তবে কাটিবে তব সন্ধ্যা।

                   রাত্রি নহে বন্ধ্যা,

অন্ধকারে না-দেখা ফুল ফুটায়ে তোলে সে যে--

          দিনের অতি নিঠুর খর তেজে

                   যে-ফুল ফুটিল না,

          যাহার মধুকণা

বনভূমির প্রত্যাশাতে গোপনে ছিল বলে

     গিয়েছে কবে আকাশপথে চলে

          তোমার উপবনের মৌমাছি

     কৃপণ বনবীথিকাতলে বৃথা করুণা যাচি।

          আঁধারে-ফোটা সে ফুল নহে ঘরেতে আনিবার

               সে-ফুলদলে গাঁথিবে না তো হার;

                   সে শুধু বুকে আনে

                             গন্ধ-ঢাকা নিভৃত অনুমানে

দিনের ঘন জনতামাঝে হারানো আঁখিখানি,

          মৌনে-ডোবা বাণী;

সে শুধু আনে পাই নি যারে তাহারই পরিচিতি,

          ঘটে নি যাহা ব্যাকুল তারই স্মৃতি।

স্বপনে-ঘেরা সুদূর তারা নিশার-ডালি-ভরা

          দিয়েছে দেখা, দেয় নি তবু ধরা;

রাতের ফুল দূরের ধ্যানে তেমনি কথা কবে,

     অনধিগত সার্থকতা বুঝাবে অনুভবে,

          না-জানা সেই না-ছোঁওয়া সেই পথের শেষ দান

                   বিদায়বেলা ভরিবে তব প্রাণ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অসম্পূর্ণ সংবাদ
Verses
চকোরী ফুকারি কাঁদে, ওগো পূর্ণ চাঁদ,
পণ্ডিতের কথা শুনি গনি পরমাদ!
তুমি নাকি একদিন রবে না ত্রিদিবে,
মহাপ্রলয়ের কালে যাবে নাকি নিবে!
হায় হায় সুধাকর, হায় নিশাপতি,
তা হইলে আমাদের কী হইবে গতি!
চাঁদ কহে, পণ্ডিতের ঘরে যাও প্রিয়া,
তোমার কতটা আয়ু এসো শুধাইয়া।
আরো দেখুন
বঞ্চিত
Verses
ফুলিদের বাড়ি থেকে এসেই দেখি
      পোস্টকার্ডখানা আয়নার সামনেই,
            কখন এসেছে জানি নে তো।
মনে হল, সময় নেই একটুও;
            গাড়ি ধরতে পারব না বুঝি।
                 বাক্স থেকে টাকা বের করতে গিয়ে
                       ছড়িয়ে পড়ল সিকি দুয়ানি,
                    কিছু কুড়োলেম, কিছু রইল বা,
                          গ'নে ওঠা হল না।
                 কাপড় ছাড়ি কখন।
            নীল রঙের রেশমি রুমালখানা
      দিলেম মাথার উপর তুলে কাঁটায় বিঁধে।
    চুলটাকে জড়িয়ে নিলুম কোনোমতে
          টবের গাছ থেকে তুলে নিলুম
                চন্দ্রমল্লিকা বাসন্তীরঙের।
স্টেশনে এসে দেখি গাড়ি আসেই না,
      জানি নে কতক্ষণ গেল--
            পাঁচ মিনিট, হয়তো বা পঁচিশ মিনিট।
গাড়িতে উঠে দেখি চেলি-পরা বিয়ের কনে দলে-বলে;
         আমার চোখে কিছুই পড়ে না যেন,
     খানিকটা লাল রঙের কুয়াশা, একখানা ফিকে ছবি।
      গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর, বেজে উঠছে বাঁশি,
               উড়ে আসছে কয়লার গুঁড়ো,
                    কেবলই মুখ মুছছি রুমালে।
            কোন্‌-এক স্টেশনে
    বাঁকে করে ছানা এনেছে গয়লার দল।
         গাড়িটাকে দেরি করাচ্ছে মিছিমিছি।
             হুইস্‌ল্‌ দিলে শেষকালে;
         সাড়া পড়ল চাকাগুলোয়, চলল গাড়ি।
             গাছপালা, ঘরবাড়ি, পানাপুকুর
          ছুটেছে জানলার দু ধারে পিছনের দিকে --
      পৃথিবী যেন কোথায় কী ফেলে এসেছে ভুলে,
                 ফিরে আর পায় কি-না পায়।
              গাড়ি চলেছে ঘটর ঘটর।
      মাঝখানে অকারণে গাড়িটা থামল অনেক ক্ষণ,
      খেতে খেতে খাবার গলায় বেধে যাবার মতো।
                            আবার বাঁশি বাজল,
                    আবার চলল গাড়ি ঘটর ঘটর।
                          শেষে দেখা দিল হাবড়া স্টেশন।
     চাইলেম না জানালার বাইরে,
                   মনে স্থির করে আছি --
খুঁজতে খুঁজতে আমাকে আবিষ্কার করবে একজন এসে,
         তার পরে দুজনের হাসি।
বিয়ের কনে, টোপর-হাতে আত্মীয়স্বজন,
         সবাই গেল চলে।
      কুলি এসে চাইলে মুখের দিকে,
   দেখলে গাড়ির ভিতরটাতে মুখ বাড়িয়ে,
            কিছুই নেই।
যারা কনেকে নিতে এসেছিল গেল চলে।
         যে জনস্রোত এ মুখে আসছিল
                 ফিরল গেটের দিকে।
গট গট করে চলতে চলতে
গার্ড্‌ আমার জানালার দিকে একটু তাকালে,
ভাবলে মেয়েটা নামে না কেন।
     মেয়েটাকে নামতেই হল।
এই আগন্তুকের ভিড়ের মধ্যে
আমি একটিমাত্র খাপছাড়া।
      মনে হল প্লাটফর্‌ম্‌টার
এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্ত প্রশ্ন করছে আমাকে;
         জবাব দিচ্ছি নীরবে,
                 "না এলেই হত।"
         আর-একবার পড়লুম পোস্টকার্ড্‌খানা --
                       ভুল করি নি তো?
এখন ফিরতি গাড়ি নেই একটাও।
যদি বা থাকত, তবু কি ...
বুকের মধ্যে পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে
            কত রকমের "হয়তো'--
                 সবগুলিই সাংঘাতিক।
      বেরিয়ে এসে তাকিয়ে রইলুম ব্রিজটার দিকে।
            রাস্তার লোক কী ভাবলে জানি নে।
                  সামনে ছিল বাস্‌, উঠে পড়লুম।
                       ফেলে দিলুম চন্দ্রমল্লিকাটা।
আরো দেখুন
প্রণতি
Verses
প্রণাম আমি পাঠানু গানে
          উদয়গিরিশিখর-পানে
                   অস্তমহাসাগরতট হতে--
নবজীবনযাত্রাকালে
          সেখান হতে লেগেছে ভালে
                   আশিসখানি অরুণ-আলোস্রোতে।
          প্রথম সেই প্রভাত-দিনে
                   পড়েছি বাঁধা ধরার ঋণে,
                             কিছু কি তার দিয়েছি শোধ করি?
          চিররাতের তোরণে থেকে
                   বিদায়বাণী গেলেম রেখে
                             নানারঙের বাষ্পলিপি ভরি।
          
বেসেছি ভালো এই ধরারে,
          মুগ্ধ চোখে দেখেছি তারে
                   ফুলের দিনে দিয়েছি রচি গান;
সে গানে মোর জড়ানো প্রীতি,
          সে গানে মোর রহুক স্মৃতি,
                   আর যা আছে হউক অবসান।
রোদের বেলা ছায়ার বেলা
          করেছি সুখদুখের খেলা,
                   সে খেলাঘর মিলাবে মায়াসম;
অনেক তৃষা, অনেক ক্ষুধা,
          তাহারি মাঝে পেয়েছি সুধা--
                   উদয়গিরি, প্রণাম লহো মম।
বরষ আসে বরষশেষে,
          প্রবাহে তারই যায় রে ভেসে
                   বাঁধিতে যারে চেয়েছি চিরতরে।
বারে বারেই ঋতুর ডালি
          পূর্ণ হয়ে হয়েছে খালি
                   মমতাহীন সৃষ্টিলীলাভরে।
এ মোর দেহ-পেয়ালাখানা
          উঠেছে ভরি কানায় কানা
                   রঙিন রসধারায় অনুপম।
একটুকুও দয়া না মানি
          ফেলায়ে দেবে, জানি তা জানি,
                   উদয়গিরি তবুও নমোনম।
          কখনো তার গিয়েছে ছিঁড়ে,
                   কখনো নানা সুরের ভিড়ে
                             রাগিণী মোর পড়েছে আধো চাপা।
          ফাল্গুনের আমন্ত্রণে
                   জেগেছে কুঁড়ি গভীর বনে,
                             পড়েছে ঝরি চৈত্রবায়ে-কাঁপা।
          অনেক দিনে অনেক দিয়ে
                   ভেঙেছে কত গড়িয়ে গিয়ে,
                             ভাঙন হল চরম প্রিয়তম;
          সাজাতে পূজা করি নি ত্রুটি,
                   ব্যর্থ হলে নিলেম ছুটি--
                             উদয়গিরি, প্রণাম লহ মম।
আরো দেখুন