কাঠবিড়ালি (kathbirali)

কাঠবিড়ালির ছানাদুটি

          আঁচলতলায় ঢাকা,

পায় সে কোমল করুণ হাতে

          পরশ সুধামাখা।

                   এই দেখাটি দেখে এলেম

                    ক্ষণকালের মাঝে,

সেই থেকে আজ আমার মনে

          সুরের মতো বাজে।

চাঁপাগাছের আড়াল থেকে

          একলা সাঁঝের তারা

একটুখানি ক্ষীণ মাধুরী

          জাগায় যেমনধারা,

তরল কলধ্বনি যেমন

          বাজে জলের পাকে

গ্রামের ধারে বিজন ঘাটে

          ছোটো নদীর বাঁকে,

লেবুর ডালে খুশি যেমন

          প্রথম জেগে ওঠে

একটু যখন গন্ধ নিয়ে

          একটি কুঁড়ি ফোটে,

দুপুর বেলায় পাখি যেমন--

          দেখতে না পাই যাকে--

ঘন ছায়ায় সমস্ত দিন

          মৃদুল সুরে ডাকে,

তেমনিতরো ওই ছবিটির

          মধুরসের কণা

ক্ষণকালের তরে আমায়

          করেছে আনমনা।

দুঃখসুখের বোঝা নিয়ে

          চলি আপন মনে,

তখন জীবন-পথের ধারে

          গোপন কোণে কোণে

হঠাৎ দেখি চিরাভ্যাসের

          অন্তরালের কাছে

                   লক্ষ্মীদেবীর মালার থেকে

                    ছিন্ন পড়ে আছে

         ধূলির সঙ্গে মিলিয়ে গিয়ে

                    টুকরো রতন কত--

         আজকে আমার এই দেখাটি

                    দেখি তারির মতো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

62
Verses
'WHAT IS THERE but the sky, O Sun, that can hold thine image?'
I dream of thee, but to serve thee I can never hope,' the dewdrop wept and said, 'I am too small to take thee unto me, great lord, and my life is all tears.'
'I illumine the limitless sky, yet I can yield myself up to a tiny drop of dew,' thus the Sun said; 'I shall become but a sparkle of light and fill you, and your little life will be a laughing orb.'
আরো দেখুন
অন্য মা
Verses
আমার মা না হয়ে তুমি
          আর কারো মা হলে
ভাবছ তোমায় চিনতেম না,
          যেতেম না ঐ কোলে?
মজা আরো হত ভারি,
দুই জায়গায় থাকত বাড়ি,
আমি থাকতেম এই গাঁয়েতে,
          তুমি পারের গাঁয়ে।
এইখানেতে দিনের বেলা
যা-কিছু সব হত খেলা
দিন ফুরোলেই তোমার কাছে
          পেরিয়ে যেতেম নায়ে।
হঠাৎ এসে পিছন দিকে
আমি বলতেম, "বল্‌ দেখি কে?"
তুমি ভাবতে, চেনার মতো
          চিনি নে তো তবু।
তখন কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে
আমি বলতেম গলা ধরে--
"আমায় তোমার চিনতে হবেই,
          আমি তোমার অবু!"
ঐ পারেতে যখন তুমি
আনতে যেতে জল,--
এই পারেতে তখন ঘাটে
          বল্‌ দেখি কে বল্‌?
কাগজ-গড়া নৌকোটিকে
ভাসিয়ে দিতেম তোমার দিকে,
যদি গিয়ে পৌঁছত সে
          বুঝতে কি, সে কার?
সাঁতার আমি শিখিনি যে
নইলে আমি যেতেম নিজে,
আমার পারের থেকে আমি
          যেতেম তোমার পার।
মায়ের পারে অবুর পারে
থাকত তফাত, কেউ তো কারে
ধরতে গিয়ে পেত নাকো,
          রইত না একসাথে।
দিনের বেলায় ঘুরে ঘুরে
দেখা-দেখি দূরে দূরে,--
সন্ধ্যেবেলায় মিলে যেত
          অবুতে আর মা-তে।
কিন্তু হঠাৎ কোনোদিনে
          যদি বিপিন মাঝি
পার করতে তোমার পারে
          নাই হত মা রাজি।
ঘরে তোমার প্রদীপ জ্বেলে
ছাতের 'পরে মাদুর মেলে
বসতে তুমি, পায়ের কাছে
          বসত ক্ষান্ত বুড়ী,
উঠত তারা সাত ভায়েতে,
ডাকত শেয়াল ধানের খেতে,
উড়ো ছায়ার মতো বাদুড়
          কোথায় যেত উড়ি।
তখন কি মা, দেরি দেখে
ভয় হত না থেকে থেকে,
পার হয়ে, মা, আসতে হতই
          অবু যেথায় আছে।
তখন কি আর ছাড়া পেতে?
দিতেম কি আর ফিরে যেতে?
ধরা পড়ত মায়ের ওপার
          অবুর পায়ের কাছে।
আরো দেখুন
ঘুম
Verses
ঘুমিয়ে পড়েছে শিশুগুলি,
       খেলাধুলা সব গেছে ভুলি।
ধীরে নিশীথের বায় আসে খোলা জানালায়,
     ঘুম এনে দেয় আঁখিপাতে,
শয্যায় পায়ের কাছে খেলেনা ছড়ানো আছে,
     ঘুমিয়েছে খেলাতে-খেলাতে।
এলিয়ে গিয়েছে দেহ, মুখে দেবতার স্নেহ
     পড়েছে রে ছায়ার মতন,
কালো কালো চুল তার বাতাসেতে বার বার
     উড়ে উড়ে ঢাকিছে বদন।
তারার আলোর মতো হাসিগুলি আসে কত,
     আধো-খোলা অধরেতে তার
     চুমো খেয়ে যায় কত বার।
সারা রাত স্নেহসুখে তারাগুলি চায় মুখে,
     যেন তারা করে গলাগলি,
     কত কী যে করে বলাবলি!
যেন তারা আঁচলেতে আঁধারে আলোতে গেঁথে
     হাসিমাখা সুখের স্বপন,
ধীরে ধীরে স্নেহভরে শিশুর প্রাণের 'পরে
     একে একে করে বরিষন।
কাল যবে রবিকরে কাননেতে থরে থরে
     ফুটে ফুটে উঠিবে কুসুম,
ওদোরো নয়নগুলি ফুটিয়া উঠিবে খুলি,
     কোথায় মিলায়ে যাবে ঘুম।
প্রভাতের আলো জাগি যেন খেলাবার লাগি
     ওদের জাগায়ে দিতে চায়,
আলোতে ছেলেতে ফুলে এক সাথে আঁখি খুলে
     প্রভাতে পাখিতে গান গায়।
আরো দেখুন