জন্মদিনে (jionmodine)

তোমার জন্মদিনে আমার

           কাছের দিনের নেই তো সাঁকো।

                 দূরের থেকে রাতের তীরে

                 বলি তোমায় পিছন ফিরে

                           "খুশি থাকো'।

      দিনশেষের সূর্য যেমন

           ধরার ভালে বুলায় আলো,

                 ক্ষণেক দাঁড়ায় অস্তকোলে,

                 যাবার আগে যায় সে ব'লে

                           "থেকো ভালো'।

      জীবনদিনের প্রহর আমার

           সাঁঝের ধেনু--প্রদোষ-ছায়ায়

                 চারণ-শ্রান্ত ভ্রমণ-সারা

                 সন্ধ্যাতারার সঙ্গে তারা

                           মিলিতে যায়।

      মুখ ফিরিয়ে পশ্চিমেতে

           বারেক যদি দাঁড়াও আসি

                 আঁধার গোষ্ঠে এই রাখালের

                 শুনতে পাবে সন্ধ্যাকালের

                           চরম বাঁশি।

      সেই বাঁশিতে উঠবে বেজে

           দূর সাগরের হাওয়ার ভাষা,

                 সেই বাঁশিতে দেবে আনি

                 বৃন্তমোচন ফলের বাণী

                           বাঁধন-নাশা।

      সেই বাঁশিতে শুনতে পাবে

           জীবন-পথের জয়ধ্বনি--

                 শুনতে পাবে পথিক রাতের

                 যাত্রামুখে নূতন প্রাতের

                           আগমনী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
Verses
দিনের আলো নিবে এল,
    সুয্যি ডোবে-ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
    চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে--
    রঙের উপর রঙ,
মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা।
    বাজল ঠঙ ঠঙ।
ও পারেতে বিষ্টি এল,
    ঝাপসা গাছপালা।
এ পারেতে মেঘের মাথায়
    একশো মানিক জ্বালা।
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
    ছেলেবেলার গান--
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
    নদেয় এল বান।'
আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা,
    কোথায় বা সীমানা!
দেশে দেশে খেলে বেড়ায়,
    কেউ করে না মানা।
কত নতুন ফুলের বনে
    বিষ্টি দিয়ে যায়,
পলে পলে নতুন খেলা
    কোথায় ভেবে পায়।
মেঘের খেলা দেখে কত
           খেলা পড়ে মনে,
কত দিনের নুকোচুরি
           কত ঘরের কোণে।
তারি সঙ্গে মনে পড়ে
           ছেলেবেলার গান --
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
           নদেয় এল বান।'
মনে পড়ে ঘরটি আলো
           মায়ের হাসিমুখ,
মনে পড়ে মেঘের ডাকে
           গুরুগুরু বুক।
বিছানাটির একটি পাশে
           ঘুমিয়ে আছে খোকা,
মায়ের 'পরে দৌরাত্মি সে
           না যায় লেখাজোখা।
ঘরেতে দুরন্ত ছেলে
           করে দাপাদাপি,
বাইরেতে মেঘ ডেকে ওঠে --
           সৃষ্টি ওঠে কাঁপি।
মনে পড়ে মায়ের মুখে
           শুনেছিলেম গান --
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
           নদেয় এল বান।
মনে পড়ে সুয়োরানী
           দুয়োরানীর কথা,
মনে পড়ে অভিমানী
           কঙ্কাবতীর ব্যথা।
মনে পড়ে ঘরের কোণে
            মিটিমিটি আলো,
একটা দিকের দেয়ালেতে
            ছায়া কালো কালো।
বাইরে কেবল জলের শব্দ
            ঝুপ্‌ ঝুপ্‌ ঝুপ্‌ --
দস্যি ছেলে গল্প শোনে
            একেবারে চুপ।
তারি সঙ্গে মনে পড়ে
            মেঘলা দিনের গান --
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
            নদেয় এল বান।'
কবে বিষ্টি পড়েছিল,
            বান এল সে কোথা।
শিবঠাকুরের বিয়ে হল,
            কবেকার সে কথা।
সেদিনও কি এম্‌নিতরো
            মেঘের ঘটাখানা।
থেকে থেকে বাজ বিজুলি
            দিচ্ছিল কি হানা।
তিন কন্যে বিয়ে ক'রে
            কী হল তার শেষে।
না জানি কোন্‌ নদীর ধারে,
            না জানি কোন্‌ দেশে,
কোন্‌ ছেলেরে ঘুম পাড়াতে
            কে গাহিল গান --
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
            নদেয় এল বান।'
আরো দেখুন
24
Verses
REST BELONGS to the work as the eyelids to the eyes.
আরো দেখুন
নূতন চাল
Verses
এক দিন গরজিয়া কহিল মহিষ,
ঘোড়ার মতন মোর থাকিবে সহিস।
একেবারে ছাড়িয়াছি মহিষি-চলন,
দুই বেলা চাই মোর দলন-মলন।
এই ভাবে প্রতিদিন, রজনী পোহালে,
বিপরীত দাপাদাপি করে সে গোহালে।
প্রভু কহে,চাই বটে! ভালো, তাই হোক!
পশ্চাতে রাখিল তার দশ জন লোক।
দুটো দিন না যাইতে কেঁদে কয় মোষ,
আর কাজ নেই প্রভু, হয়েছে সন্তোষ।
সহিসের হাত হতে দাও অব্যাহতি,
দলন-মলনটার বাড়াবাড়ি অতি।
আরো দেখুন