ধ্যান (dhyan)

   কাল চলে আসিয়াছি, কোনো কথা বলি নি তোমারে।

            শেষ করে দিনু একেবারে

            আশা নৈরাশ্যের দ্বন্দ্ব, ক্ষুব্ধ কামনার

                 দুঃসহ ধিক্কার।

            বিরহের বিষণ্ন আকাশে

                      সন্ধ্যা হয়ে আসে।

তোমারে নিরখি ধ্যানে সব হতে স্বতন্ত্র করিয়া

                   অনন্তে ধরিয়া।

          নাই সৃষ্টিধারা,

        নাই রবিশশী গ্রহতারা;

               বায়ু স্তব্ধ আছে,

          দিগন্তে একটি রেখা আঁকে নাই গাছে।

               নাইকো জনতা,

                   নাই কানাকানি কথা।

                   নাই সময়ের পদধ্বনি

                   নিরন্ত মুহূর্ত স্থির, দণ্ড পল কিছুই না গণি।

                   নাই আলো, নাই অন্ধকার--

                  আমি নাই, গ্রন্থি নাই তোমার আমার।

নাই সুখ দুঃখ ভয়, আকাঙক্ষা বিলুপ্ত হল সব--

          আকাশে নিস্তব্ধ এক শান্ত অনুভব।

তোমাতে সমস্ত লীন, তুমি আছ একা।--

    আমি-হীন চিত্তমাঝে একান্ত-তোমারে শুধু দেখা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সারা জীবন দিল আলো
Verses
সারা জীবন দিল আলো
              সূর্য গ্রহ চাঁদ--
তোমার আশীর্বাদ হে প্রভু,
              তোমার আশীর্বাদ।
মেঘের কলস ভরে ভরে
প্রসাদবারি পড়ে ঝরে,
সকল দেহে প্রভাতবায়ু
             ঘুচায় অবসাদ--
তোমার আশীর্বাদ হে প্রভু,
             তোমার আশীর্বাদ।
তৃণ যে এই ধুলার 'পরে
             পাতে আঁচলখানি,
এই-যে আকাশ চিরনীরব
             অমৃতময় বাণী--
ফুল যে আসে দিনে দিনে
বিনা রেখার পথটি চিনে,
এই-যে ভুবন দিকে দিকে
              পুরায় কত সাধ--
তোমার আশীর্বাদ হে প্রভু,
             তোমার আশীর্বাদ।
আরো দেখুন
নাম্নী - উষসী
Verses
ভোরের আগের যে প্রহরে
       স্তব্ধ অন্ধকার-'পরে
সুপ্তি-অন্তরাল হতে দূর সূর্যোদয়
              বনময়
পাঠায় নূতন জাগরণী,
              অতি মৃদু শিহরণী
              বাতাসের গায়ে;
          পাখির কুলায়ে
অস্পষ্ট কাকলি ওঠে আধোজাগা স্বরে,
              স্তম্ভিত আগ্রহভরে
অব্যক্ত বিরাট আশা ধ্যানে মগ্ন দিকে দিগন্তরে--
ও কোন্‌ তরুণ প্রাণে করিয়াছে ভর,
              অন্তর্গূঢ় সে প্রহর
              আত্ম-অগোচর।
          চিত্ত তার আপনার গভীর অন্তরে
              নিঃশব্দে প্রতীক্ষা করে
              পরিপূর্ণ সার্থকতা লাগি।
          সুপ্তি-মাঝে প্রতীক্ষিয়া আছে জাগি
              নির্মল নির্ভয়
              কোন্‌ দিব্য অভ্যুদয়।
কোন্‌ সে পরমা মুক্তি, কোন্‌ সেই আপনার
     দীপ্যমান মহা আবিষ্কার।
প্রভাতমহিমা ওর সম্‌বৃত রয়েছে নিশ্চেতনে,
     তাহারি আভাস পাই মনে।
          আমি ওই রথশব্দ শুনি,
সোনার বীণার তারে সংগীত আনিছে কোন্‌ গুণী।
              জাগিবে হৃদয়,
     ভুবন তাহার হবে বাণীময়;
          মানসকমল একমনা
নবোদিত তপনের করিবে প্রথম অভ্যর্থনা।
        জাগিবে নূতন দিবা উজ্জ্বল উল্লাসে
বর্ণে গন্ধে গানে প্রাণে মহোৎসবে তার চারি পাশে।
     নিরুদ্ধ চেতনা হতে হবে চ্যুত
     লালসা-আবেশে জড়ীভূত
          স্বপ্নের শৃঙ্খলপাশ।
বিলুপ্ত করিবে দূরে উন্মুক্ত বাতাস
দুর্বল দীপের গাঢ় বিষতপ্ত কলুষনিশ্বাস।
     আলোকের জয়ধ্বনি উঠিবে উচ্ছ্বসি--
          নাম কি উষসী।
আরো দেখুন
আত্মসমর্পণ
Verses
তোমার আনন্দগানে আমি দিব সুর
যাহা জানি দু-একটি প্রীতি-সুমধুর
অন্তরের ছন্দোগাথা; দুঃখের ক্রন্দনে
বাজিবে আমার কণ্ঠ বিষাদবিধুর
তোমার কণ্ঠের সনে; কুসুমে চন্দনে
তোমারে পূজিব আমি; পরাব সিন্দূর
তোমার সীমন্তে ভালে; বিচিত্র বন্ধনে
তোমারে বাঁধিব আমি, প্রমোদসিন্ধুর
তরঙ্গেতে দিব দোলা নব ছন্দে তানে।
মানব-আত্মার গর্ব আর নাহি মোর,
চেয়ে তোর স্নিগ্ধশ্যাম মাতৃমুখ-পানে
ভালোবাসিয়াছি আমি ধূলিমাটি তোর।
জন্মেছি যে মর্ত-কোলে ঘৃণা করি তারে
ছুটিব না স্বর্গ আর মুক্তি খুঁজিবারে।
আরো দেখুন