আসন্ন রাতি (asonno rati)

          এল আহ্বান, ওরে তুই ত্বরা কর্‌।

          শীতের সন্ধ্যা সাজায় বাসরঘর।

                   কালপুরুষের বিপুল মহাঙ্গন

                      বিছালো আলিম্পন,

                         অন্তরে তোর আসন্ন রাতি

                            জাগায় শঙ্খরব--

                               অস্তশৈলপাদমূলে তার

                                  প্রসারিল অনুভব।

                   বিরহশয়ন বিছানো হেথায়,

          কে যেন আসিল চোখে দেখা নাহি যায়।

                   অতীত দিনের বনের স্মরণ আনে

                      ম্রিয়মাণ মৃদু সৌরভটুকু প্রাণে।

                         গাঁথা হয়েছিল যে মাধবীহার

                             মধুপূর্ণিমারাতে

                              কণ্ঠ জড়ালো পরশবিহীন

                                 নির্বাক বেদনাতে।

                   মিলনদিনের প্রদীপের মালা

          পুলকিত রাতে যত হয়েছিল জ্বালা,

                   আজি আঁধারের অতল গহনে হারা

                      স্বপ্ন রচিছে তারা।

                         ফাল্গুনবনমর্মর-সনে

                            মিলিত যে কানাকানি

                              আজি হৃদয়ের স্পন্দনে কাঁপে

                                 তাহার স্তব্ধ বাণী।

                   কী নামে ডাকিব, কোন্‌ কথা কব,

          হে বধূ, ধেয়ানে আঁকিব কী ছবি তব।

                   চিরজীবনের পুঞ্জিত সুখদুখ

                      কেন আজি উৎসুক!

                         উৎসবহীন কৃষ্ণপক্ষে

                            আমার বক্ষোমাঝে

                              শুনিতেছে কে সে কার উদ্দেশে

                                 সাহানায় বাঁশি বাজে।

                   আজ বুঝি তোর ঘরে, ওরে মন,

          গত বসন্তরজনীর আগমন।

                   বিপরীত পথে উত্তর বায়ু বেয়ে

                      এল সে তোমারে চেয়ে।

                         অবগুণ্ঠিত নিরলংকার

                            তাহার মূর্তিখানি

হৃদয়ে ছোঁয়াল শেষ পরশের

                                 তুষারশীতল পাণি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

লক্ষ্যশূন্য
Verses
রথীরে কহিল গৃহী উৎকণ্ঠায় ঊর্ধ্বস্বরে ডাকি,
"থামো থামো, কোথা তুমি রুদ্রবেগে রথ যাও হাঁকি,
সম্মুখে আমার গৃহ।' রথী কহে, "ওই মোর পথ,
ঘুরে গেলে দেরি হবে, বাধা ভেঙে সিধা যাবে রথ।'
গৃহী কহে, "নিদারুণ ত্বরা দেখে মোর ডর লাগে,
কোথা যেতে হবে বলো।' রথী কহে, "যেতে হবে আগে।'
"কোন্‌খানে' শুধাইল। রথী বলে, "কোনোখানে নহে ,--
শুধু আগে।' "কোন্‌ তীর্থে, কোন্‌ সে মন্দিরে' গৃহী কহে।
"কোথাও না, শুধু আগে।' "কোন্‌ বন্ধু-সাথে হবে দেখা।'
"কারো সাথে নহে, যাব সব-আগে আমি মাত্র একা।'
ঘর্ঘরিত রথবেগে গৃহভিত্তি করি দিল গ্রাস;
হাহাকারে, অভিশাপে, ধূলিজালে ক্ষুভিল বাতাস
সন্ধ্যার আকাশে। আঁধারের দীপ্ত সিংহদ্বার-বাগে
রক্তবর্ণ অস্তপথে ছোটে রথ লক্ষ্যশূন্য আগে।
আরো দেখুন
মথুরায়
Verses
বাঁশরি বাজাতে চাহি, বাঁশরি বাজিল কই?
বিহরিছে সমীরণ, কুহরিছে পিকগণ,
মথুরায় উপবন কুসুমে সাজিল ওই।
বাঁশরি বাজাতে চাহি, বাঁশরি বাজিল কই?
বিকচ বকুল ফুল দেখে যে হতেছে ভুল,
কোথাকার অলিকুল গুঞ্জরে কোথায়!
এ নহে কি বৃন্দাবন? কোথা সেই চন্দ্রানন?
ওই কি নূপুরধ্বনি বনপথে শুনা যায়?
একা আছি বনে বসি, পীত ধড়া পড়ে খসি,
সোঙরি সে মুখশশী পরান মজিল সই।
বাঁশরি বাজাতে চাহি, বাঁশরি বাজিল কই?
এক বার রাধে রাধে ডাক্‌ বাঁশি, মনোসাধে,
আজি এ মধুর চাঁদে মধুর যামিনী ভায়।
কোথা সে বিধুরা বালা, মলিন মালতীমালা,
হৃদয়ে বিরহ-জ্বালা, এ নিশি পোহায়, হায়।
কবি যে হল আকুল, এ কি রে বিধির ভুল,
মথুরায় কেন ফুল ফুটেছে আজি লো সই?
বাঁশরি বাজাতে গিয়ে বাঁশরি বাজিল কই?
আরো দেখুন
ও আমার মন যখন জাগলি না রে
Verses
ও আমার        মন যখন জাগলি না রে
     তোর         মনের মানুষ এল দ্বারে।
         তার              চলে যাবার শব্দ শুনে
                            ভাঙল রে ঘুম--
         ও তোর           ভাঙল রে ঘুম অন্ধকারে।
            মাটির 'পরে আঁচল পাতি'
            একলা কাটে নিশীথ রাতি,
তার       বাঁশি বাজে আঁধার-মাঝে
                             দেখি না যে চক্ষে তারে।
ওরে       তুই যাহারে দিলি ফাঁকি
            খুঁজে তারে পায় কি আঁখি?
এখন       পথে ফিরে পাবি কি রে
                            ঘরের বাহির করলি যারে।
আরো দেখুন