আদিতম (aditomo)

কে আমার ভাষাহীন অন্তরে

চিত্তের মেঘলোকে সন্তরে,

          বক্ষের কাছে থাকে তবুও সে রয় দূরে,

                   থাকে অশ্রুত সুরে।

ভাবি বসে, গাব আমি তারই গান--

চুপ করে থাকি সারা দিনমান,

          অকথিত আবেগের ব্যথা সই।

                   মন বলে, কথা কই কথা কই!

চঞ্চল শোণিতে যে

সত্তার ক্রন্দন ধ্বনিতেছে

অর্থ কী জানি তাহা,

আদিতম আদিমের বাণী তাহা।

ভেদ করি ঝঞ্ঝার আলোড়ন

ছেদ করি বাষ্পের আবরণ

চুম্বিল ধরাতল যে আলোক,

স্বর্গের সে বালক

                   কানে তার বলে গেছে যে কথাটি

তারই স্মৃতি আজো ধরণীর মাটি

          দিকে দিকে বিকাশিছে ঘাসে ঘাসে--

তারই পানে চেয়ে চেয়ে

          সেই সুর কানে আসে।

     প্রাণের প্রথমতম কম্পন

অশথের মজ্জায় করিতেছে বিচরণ,

          তারই সেই ঝংকার ধ্বনিহীন--

আকাশের বক্ষেতে কেঁপে ওঠে নিশিদিন;

     মোর শিরাতন্তুতে বাজে তাই;

     সুগভীর চেতনার মাঝে তাই

          নর্তন জেগে ওঠে অদৃশ্য ভঙ্গিতে

                   অরণ্যমর্মর-সংগীতে।

                             ওই তরু ওই লতা ওরা সবে

                             মুখরিত কুসুমে ও পল্লবে--

                   সেই মহাবাণীময় গহনমৌনতলে

                             নির্বাক স্থলে জলে

                             শুনি আদি-ওংকার,

                   শুনি মূক গুঞ্জন অগোচর চেতনার।

                             ধরণীর ধূলি হতে তারার সীমার কাছে

                             কথাহারা যে ভুবন ব্যাপিয়াছে

                                      তার মাঝে নিই স্থান,

                             চেয়ে-থাকা দুই চোখে বাজে ধ্বনিহীন গান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

127
Verses
To JUSTIFY their own spilling of ink
they spell the day as night.
আরো দেখুন
চড়িভাতি
Verses
     ফল ধরেছে বটের ডালে ডালে;
অফুরন্ত আতিথ্যে তার সকালে বৈকালে
বনভোজনে পাখিরা সব আসছে ঝাঁকে ঝাঁক।
মাঠের ধারে আমার ছিল চড়িভাতির ডাক।
যে যার আপন ভাঁড়ার থেকে যা পেল যেইখানে
মালমসলা নানারকম জুটিয়ে সবাই আনে।
জাত-বেজাতের চালে ডালে মিশোল ক'রে শেষে
ডুমুরগাছের তলাটাতে মিলল সবাই এসে।
বারে বারে ঘটি ভ'রে জল তুলে কেউ আনে,
কেউ চলেছে কাঠের খোঁজে আমবাগানের পানে।
হাঁসের ডিমের সন্ধানে কেউ গেল গাঁয়ের মাঝে,
তিন কন্যা লেগে গেল রান্নাকরার কাজে।
গাঁঠ-পাকানো শিকড়েতে মাথাটা তার থুয়ে
কেউ পড়ে যায় গল্পের বই জামের তলায় শুয়ে।
               সকল-কর্ম-ভোলা
দিনটা যেন ছুটির নৌকা বাঁধন-রশি-খোলা
চলে যাচ্ছে আপনি ভেসে সে কোন্‌ আঘাটায়
               যথেচ্ছ ভাঁটায়।
মানুষ যখন পাকা ক'রে প্রাচীর তোলে নাই
মাঠে বনে শৈলগুহায় যখন তাহার ঠাঁই,
সেইদিনকার আল্‌গা-বিধির বাইরে-ঘোরা প্রাণ
মাঝে মাঝে রক্তে আজও লাগায় মন্ত্রগান।
সেইদিনকার যথেচ্ছ-রস আস্বাদনের খোঁজে
মিলেছিলেম অবেলাতে অনিয়মের ভোজে।
কারো কোনো স্বত্বদাবীর নেই যেখানে চিহ্ন,
যেখানে এই ধরাতলের সহজ দাক্ষিণ্য,
হালকা সাদা মেঘের নিচে পুরানো সেই ঘাসে,
একটা দিনের পরিচিত আমবাগানের পাশে,
মাঠের ধারে, অনভ্যাসের সেবার কাজে খেটে
কেমন ক'রে কয়টা প্রহর কোথায় গেল কেটে।
          সমস্ত দিন ডাকল ঘুঘু দুটি।
আশে পাশে এঁটোর লোভে কাক এল সব জুটি,
গাঁয়ের থেকে কুকুর এল, লড়াই গেল বেধে--
একটা তাদের পালালো তার পরাভবের খেদে।
রৌদ্র পড়ে এল ক্রমে, ছায়া পড়ল বেঁকে,
ক্লান্ত গোরু গাড়ি টেনে চলেছে হাট থেকে।
          আবার ধীরে ধীরে
নিয়ম-বাঁধা যে-যার ঘরে চলে গেলেম ফিরে।
একটা দিনের মুছল স্মৃতি, ঘুচল চড়িভাতি,
পোড়াকাঠের ছাই পড়ে রয়, নামে আঁধার রাতি।
আরো দেখুন
29
Verses
MY HEART beats her waves at the shore of the world and writes upon it her signature in tears with the words, I love thee.
আরো দেখুন