প্রভেদ (probhed)

তোমাতে আমাতে আছে তো প্রভেদ

           জানি তা বন্ধু, জানি,

     বিচ্ছেদ তবু অন্তরে নাহি মানি।

           এক জ্যোৎস্নায় জেগেছি দুজনে

           সারারাত-জাগা পাখির কূজনে,

           একই বসন্তে দোঁহাকার মনে

                 দিয়েছে আপন বাণী।

 

তুমি চেয়ে আছ আলোকের পানে,

                 পশ্চাতে মোর মুখ--

     অন্তরে তবু গোপন মিলনসুখ।

           প্রবল প্রবাহে যৌবনবান

           ভাসায়েছে দুটি দোলায়িত প্রাণ,

           নিমেষে দোঁহারে করেছে সমান

                    একই আবর্তে টানি।

 

সোনার বর্ণ মহিমা তোমার

           বিশ্বের মনোহর,

     আমি অবনত পাণ্ডুর কলেবর।

           উদাস বাতাসে পরান কাঁপায়ে

           অগৌরবের শরম ছাপায়ে

           আমারে তোমার বসাইল বাঁয়ে,

                    একাসনে দিল আনি।

           নবারুণরাগে রাঙা হয়ে গেল

                   কালো ভেদরেখাখানি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সম্পূর্ণ
Verses
প্রথম তোমাকে দেখেছি তোমার
     বোনের বিয়ের বাসরে
          নিমন্ত্রণের আসরে।
সেদিন তখনো দেখেও তোমাকে দেখি নি,
     তুমি যেন ছিলে সূক্ষ্মরেখিণী
          ছবির মতো--
পেন্সিলে-আঁকা ঝাপসা ধোঁয়াটে লাইনে
     চেহারার ঠিক ভিতর দিকের
          সন্ধানটুকু পাই নে।
     নিজের মনের রঙ মেলাবার বাটিতে
          চাঁপালি খড়ির মাটিতে
      গোলাপি খড়ির রঙ হয় নি যে গোলা,
সোনালি রঙের মোড়ক হয় নি খোলা।
দিনে দিনে শেষে সময় এসেছে আগিয়ে,
     তোমার ছবিতে আমারি মনের
          রঙ যে দিয়েছি লাগিয়ে।
বিধাতা তোমাকে সৃষ্টি করতে এসে
          আনমনা হয়ে শেষে
               কেবল তোমার ছায়া
     রচে দিয়ে, ভুলে ফেলে গিয়েছেন--
          শুরু করেন নি কায়া।
     যদি শেষ করে দিতেন, হয়তো
          হত সে তিলোত্তমা,
               একেবারে নিরুপমা।
     যত রাজ্যের যত কবি তাকে
          ছন্দের ঘের দিয়ে
     আপন বুলিটি শিখিয়ে করত
          কাব্যের পোষা টিয়ে।
আমার মনের স্বপ্নে তোমাকে
          যেমনি দিয়েছি দেহ
     অমনি তখন নাগাল পায় না
সাহিত্যিকেরা কেহ।
     আমার দৃষ্টি তোমার সৃষ্টি
          হয়ে গেল একাকার।
মাঝখান থেকে বিশ্বপতির ঘুচে গেল অধিকার।
     তুমি যে কেমন আমিই কেবল জানি,
          কোনো সাধারণ বাণী
               লাগে না কোনোই কাজে।
     কেবল তোমার নাম ধ'রে মাঝে-মাঝে
          অসময়ে দিই ডাক,
     কোনো প্রয়োজন থাক্‌ বা নাই-বা থাক্‌।
        অমনি তখনি কাঠিতে-জড়ানো উলে
হাত কেঁপে গিয়ে গুন্‌তিতে যাও ভুলে।
কোনো কথা আর নাই কোনো অভিধানে
     যার এত বড়ো মানে।
আরো দেখুন
47
Verses
I.102. tarvar ek mul bin thada
THERE IS A strange tree, which stands without roots and bears fruits without blossoming;
It has no branches and no leaves, it is lotus all over.
Two birds sing there; one is the Guru, and the other the disciple:
The disciple chooses the manifold fruits of life and tastes them, and the Guru beholds him in joy.
What Kabir says is hard to understand: 'The bird is beyond seeking, yet it is most clearly visible. The Formless is in the midst of all forms. I sing the glory of forms.'
আরো দেখুন
257
Verses
হে প্রিয়, দুঃখের বেশে
      আস যবে মনে
তোমারে আনন্দ ব'লে
      চিনি সেই ক্ষণে।
আরো দেখুন