৫ (motto sagor dilo pari gohon ratrikale)

মত্ত সাগর দিল পাড়ি গহন রাত্রিকালে

          ওই যে আমার নেয়ে।

ঝড় বয়েছে, ঝড়ের হাওয়া লাগিয়ে দিয়ে পালে

          আসছে তরী বেয়ে।

কালো রাতের কালি-ঢালা ভয়ের বিষম বিষে

আকাশ যেন মূর্ছি পড়ে সাগরসাথে মিশে,

উতল ঢেউয়ের দল খেপেছে, না পায় তারা দিশে,

          উধাও চলে ধেয়ে।

হেনকালে এ-দুর্দিনে ভাবল মনে কী সে

          কূলছাড়া মোর নেয়ে।

 

এমন রাতে উদাস হয়ে কেমন অভিসারে

          আসে আমার নেয়ে।

সাদা পালের চমক দিয়ে নিবিড় অন্ধকারে

          আসছে তরী বেয়ে।

কোন্‌ ঘাটে যে ঠেকবে এসে কে জানে তার পাতি,

পথহারা কোন্‌ পথ দিয়ে সে আসবে রাতারাতি,

কোন অচেনা আঙিনাতে তারি পূজার বাতি

          রয়েছে পথ চেয়ে।

অগৌরবার বাড়িয়ে গরব আপন সাথি

          বিরহী মোর নেয়ে।

 

এই তুফানে এই তিমিরে খোঁজে কেমন খোঁজা

          বিবাগী মোর নেয়ে।

নাহি জানি পুর্ণ ক'রে কোন্‌ রতনের বোঝা

          আসছে তরী বেয়ে।

নহে নহে, নাইকো মানিক, নাই রতনের ভার,

একটি ফুলের গুচ্ছ আছে রজনীগন্ধার,

সেইটি হাতে আঁধার রাতে সাগর হবে পার

          আনমনে গান গেয়ে।

কার গলাতে নবীন প্রাতে পরিয়ে দেবে হার

          নবীন আমার নেয়ে।

 

সে থাকে এক পথের পাশে, অদিনে যার তরে

          বাহির হল নেয়ে।

তারি লাগি পাড়ি দিয়ে সবার অগোচরে

          আসছে তরী বেয়ে।

রুক্ষ অলক উড়ে পড়ে, সিক্ত-পলক আঁখি,

ভাঙা ভিতের ফাঁক দিয়ে তার বাতাস চলে হাঁকি

দীপের আলো বাদল-বায়ে কাঁপছে থাকি থাকি

          ছায়াতে ঘর ছেয়ে।

তোমরা যাহার নাম জান না তাহারি নাম ডাকি

          ওই যে আসে নেয়ে।

 

অনেক দেরি হয়ে গেছে বাহির হল কবে

          উন্মনা মোর নেয়ে।

এখনো রাত হয় নি প্রভাত, অনেক দেরি হবে

          আসতে তরী বেয়ে।

বাজবে নাকো তূরী ভেরী, জানবে নাকো কেহ,

কেবল যাবে আঁধার কেটে, আলোয় ভরবে গেহ,

দৈন্য যে তার ধন্য হবে, পুণ্য হবে দেহ

          পুলক-পরশ পেয়ে

নীরবে তার চিরদিনের ঘুচিবে সন্দেহ

          কূলে আসবে নেয়ে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

38
Verses
সর্বদেহের ব্যাকুলতা কী বলতে চায় বাণী,
     তাই আমার এই নূতন বসনখানি।
নূতন সে মোর হিয়ার মধ্যে দেখতে কি পায় কেউ।
              সেই নূতনের ঢেউ
অঙ্গ বেয়ে পড়ল ছেয়ে নূতন বসনখানি।
দেহ-গানের তান যেন এই নিলেম বুকে টানি।
আপনাকে তো দিলেম তারে, তবু হাজার বার
     নূতন করে দিই যে উপহার।
চোখের কালোয় নূতন আলো ঝলক দিয়ে ওঠে,
              নূতন হাসি ফোটে,
তারি সঙ্গে, যতনভরা নূতন বসনখানি
অঙ্গ আমার নূতন করে দেয়-যে তারি আনি।
চাঁদের আলো চাইবে রাতে বনছায়ার পানে
     বেদনভরা শুধু চোখের গানে।
মিলব তখন বিশ্বমাঝে আমরা দোঁহে একা,
              যেন নূতন দেখা।
তখন আমার অঙ্গ ভরি নূতন বসনখানি।
পাড়ে পাড়ে ভাঁজে ভাঁজে করবে কানাকানি।
ওগো, আমার হৃদয় যেন সন্ধ্যারি আকাশ,
     রঙের নেশায় মেটে না তার আশ,
তাই তো বসন রাঙিয়ে পরি কখনো বা ধানী,
              কখনো জাফরানী,
আজ তোরা দেখ্‌ চেয়ে আমার নূতন বসনখানি
বৃষ্টি-ধোওয়া আকাশ যেন নবীন আসমানী।
অকূলের এই বর্ণ, এ-যে দিশাহারার নীল,
     অন্য পারের বনের সাথে মিল।
আজকে আমার সকল দেহে বইছে দূরের হাওয়া
              সাগরপানে ধাওয়া।
আজকে আমার অঙ্গে আনে নূতন কাপড়খানি
বৃষ্টিভরা ঈশান কোণের নব মেঘের বাণী।
আরো দেখুন
82
Verses
বিপুল প্রস্তরপিণ্ড ভূস্তরের কণ্ঠ রুদ্ধ করি
ছিল যুগে যুগান্তরে অর্থহীন দিবা বিভাবরী।
দীর্ঘ তপস্যার পরে ভাঙাইল প্রথম কুসুম
          ধরণীর বাণীহারা ঘুম।
আরো দেখুন
নদীপথে
Verses
গগন ঢাকা ঘন মেঘে,
পবন বহে খর বেগে।
      অশনি ঝনঝন
      ধ্বনিছে ঘন ঘন,
নদীতে ঢেউ উঠে জেগে।
পবন বহে খর বেগে।
তীরেতে তরুরাজি দোলে
আকুল মর্মর-রোলে।
      চিকুর চিকিমিকে
      চকিয়া দিকে দিকে
তিমির চিরি যায় চলে।
তীরেতে তরুরাজি দোলে।
ঝরিছে বাদলের ধারা
বিরাম-বিশ্রামহারা।
      বারেক থেমে আসে,
      দ্বিগুণ উচ্ছ্বাসে
আবার পাগলের পারা
ঝরিছে বাদলের ধারা।
মেঘেতে পথরেখা লীন,
প্রহর তাই গতিহীন।
      গগন-পানে চাই,
      জানিতে নাহি পাই
গেছে কি নাহি গেছে দিন;
প্রহর তাই গতিহীন।
তীরেতে বাঁধিয়াছি তরী,
রয়েছি সারা দিন ধরি।
      এখনো পথ নাকি
      অনেক আছে বাকি,
আসিছে ঘোর বিভাবরী।
তীরেতে বাঁধিয়াছি তরী।
বসিয়া তরণীর কোণে
একেলা ভাবি মনে মনে--
      মেঝেতে শেজ পাতি
      সে আজি জাগে রাতি,
নিদ্রা নাহি দুনয়নে।
বসিয়া ভাবি মনে মনে।
মেঘের ডাক শুনে কাঁপে,
হৃদয় দুই হাতে চাপে।
      আকাশ-পানে চায়,
      ভরসা নাহি পায়,
তরাসে সারা নিশি যাপে,
মেঘের ডাক শুনে কাঁপে।
কভু বা বায়ুবেগভরে
দুয়ার ঝনঝনি পড়ে।
      প্রদীপ নিবে আসে,
      ছায়াটি কাঁপে ত্রাসে,
নয়নে আঁখিজল ঝরে,
বক্ষ কাঁপে থরথরে।
চকিত আঁখি দুটি তার
মনে আসিছে বার বার।
     বাহিরে মহা ঝড়,
     বজ্র কড়মড়,
আকাশ করে হাহাকার।
মনে পড়িছে আঁখি তার।
গগন ঢাকা ঘন মেঘে,
পবন বহে খর বেগে।
     অশনি ঝনঝন
     ধ্বনিছে ঘন ঘন,
নদীতে ঢেউ উঠে জেগে।
পবন বহে আজি বেগে।
আরো দেখুন