২ (ebar je oi elo sorboneshe)

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

     বেদনায় যে বান ডেকেছে

          রোদনে যায় ভেসে গো।

রক্ত-মেঘে ঝিলিক মারে,

বজ্র বাজে গহন-পারে,

কোন্‌ পাগোল ওই বারে বারে

          উঠছে অট্টহেসে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

জীবন এবার মাতাল মরণ-বিহারে।

     এইবেলা নে বরণ ক'রে

          সব দিয়ে তোর ইহারে।

     চাহিস নে আর আগুপিছু,

     রাখিস নে তুই লুকিয়ে কিছু,

     চরণে কর্‌ মাথা নিচু

          সিক্ত আকুল কেশে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

পথটাকে আজ আপন করে নিয়ো রে।

     গৃহ আঁধার হল, প্রদীপ

          নিবল শয়ন-শিয়রে।

ঝড় এসে তোর ঘর ভরেছে,

এবার যে তোর ভিত নড়েছে,

শুনিস নি কি ডাক পড়েছে

          নিরুদ্দেশের দেশে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

ছি ছি রে ওই চোখের জল আর ফেলিস নে।

     ঢাকিস নে মুখ ভয়ে ভয়ে

          কোণে আঁচল মেলিস নে।

কিসের তরে চিত্ত বিকল,

ভাঙুক না তোর দ্বারের শিকল,

বাহিরপানে ছোট্‌ না, সকল

          দুঃখসুখের শেষে গো।

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।

 

কণ্ঠে কি তোর জয়ধ্বনি ফুটবে না।

     চরণে তোর রুদ্র তালে

          নূপুর বেজে উঠবে না?

এই লীলা তোর কপালে যে

লেখা ছিল-- সকল ত্যেজে

রক্তবাসে আয় রে সেজে

          আয় না বধূর বেশে গো।

ওই বুঝি তোর এল সর্বনেশে গো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ঝোড়ো রাত
Verses
ঢেউ উঠেছে জলে,
           হাওয়ায় বাড়ে বেগ।
ওই-যে ছুটে চলে
           গগন-তলে মেঘ।
মাঠের গোরুগুলো
উড়িয়ে চলে ধুলো,
আকাশে চায় মাঝি
           মনেতে উদ্‌বেগ।
           নামল ঝোড়ো রাতি,
                   দৌড়ে চলে ভুতো।
           মাথায় ভাঙা ছাতি,
                   বগলে তার জুতো।
           ঘাটের গলি-'পরে
           শুক্‌নো পাতা ঝরে,
           কল্‌সি কাঁখে নিয়ে
                   মেয়েরা যায় দ্রুত।
ঘণ্টা গোরুর গলে
           বাজিছে ঠন্‌ ঠন্‌।
নীচে গাড়ির তলে
           ঝুলিছে লণ্ঠন।
যাবে অনেক দূরে
বেণীমাধব-পুরে--
ডাইনে চাষের মাঠ,
           বাঁয়ে বাঁশের বন।
           পশ্চিমে মেঘ ডাকে,
                   ঝাউয়ের মাথা দোলে।
           কোথায় ঝাঁকে ঝাঁকে
                   বক উড়ে যায় চ'লে।
           বিদ্যুৎকম্পনে
           দেখছি ক্ষণে ক্ষণে
           মন্দিরের ওই চূড়া
                   অন্ধকারের কোলে।
গৃহস্থ কে ঘরে,
           খোলো দুয়ারখানা।
পান্থ পথের 'পরে,
           পথ নাহি তার জানা।
নামে বাদল-ধারা,
লুপ্ত চন্দ্র তারা,
বাতাস থেকে থেকে
      আকাশকে দেয় হানা।
আরো দেখুন
শূন্য হৃদয়ের আকাঙক্ষা
Verses
      আবার মোরে         পাগল করে
                দিবে কে?
      হৃদয় যেন               পাষাণ-হেন
            বিরাগ-ভরা বিবেকে।
      আবার প্রাণে           নূতন টানে
                প্রেমের নদী
      পাষাণ হতে          উছল স্রোতে
                বহায় যদি।
      আবার দুটি                 নয়নে লুটি
            হৃদয় হরে নিবে কে?
      আবার মোরে          পাগল করে
                দিবে কে?
      আবার কবে             ধরণী হবে
                তরুণা?
      কাহার প্রেমে         আসিবে নেমে
            স্বরগ হতে করুণা?
      নিশীথনভে           শুনিব কবে
                গভীর গান,
      যে দিকে চাব       দেখিতে পাব
                নবীন প্রাণ,
      নূতন প্রীতি          আনিবে নিতি
            কুমারী উষা অরুণা।
      আবার কবে              ধরণী হবে
                তরুণা?
      কোথা এ মোর        জীবন-ডোর
                বাঁধা রে?
      প্রেমের ফুল          ফুটে' আকুল
            কোথায় কোন্‌ আঁধারে?
      গভীরতম               বাসনা মম
                কোথায় আছে?
      আমার গান          আমার প্রাণ
                কাহার কাছে?
      কোন গগনে            মেঘের কোণে
            লুকায়ে কোন্‌ চাঁদা রে?
      কোথায় মোর         জীবন-ডোর
                বাঁধা রে?
      অনেক দিন           পরানহীন
                ধরণী।
      বসনাবৃত                খাঁচার মতো
            তামসঘনবরনী।
      নাই সে শাখা,      নাই সে পাখা,
                নাই সে পাতা,
      নাই সে ছবি,        নাই সে রবি,
                নাই সে গাথা;
      জীবন চলে              আঁধার জলে
            আলোকহীন তরণী।
      অনেক দিন           পরানহীন
                ধরণী।
      মায়া-কারায়          বিভোর প্রায়
                সকলি;
      শতেক পাকে          জড়ায়ে রাখে
            ঘুমের ঘোর শিকলি।
      দানব-হেন        আছে কে যেন
                দুয়ার আঁটি।
      কাহার কাছে      না জানি আছে
                সোনার কাঠি?
      পরশ লেগে           উঠিবে জেগে
            হরষ-রস-কাকলি।
      মায়া-কারায়         বিভোর-প্রায়
                    সকলি।
      দিবে সে খুলি       এ ঘোর ধূলি-
                   আবরণ।
      তাহার হাতে         আঁখির পাতে
            জগত-জাগা জাগরণ।
      সে হাসিখানি        আনিবে টানি
                সবার হাসি,
      গড়িবে গেহ,        জাগাবে স্নেহ
                জীবনরাশি।
      প্রকৃতিবধূ             চাহিবে মধু,
            পরিবে নব আভরণ।
      সে দিবে খুলি        এ ঘোর ধূলি-
                   আবরণ।
      পাগল করে         দিবে সে মোরে
                    চাহিয়া,
      হৃদয়ে এসে           মধুর হেসে
            প্রাণের গান গাহিয়া।
      আপনা থাকি       ভাসিবে আঁখি
                আকুল নীরে,
      ঝরনা সম                 জগৎ মম
                ঝরিবে শিরে।
তাহার বাণী        দিবে গো আনি
              সকল বাণী বাহিয়া।
      পাগল করে       দিবে সে মোরে
                    চাহিয়া।
আরো দেখুন
43
Verses
THE FISH IN the water is silent, the animal on the earth is noisy, the bird in the air is singing,
But Man has in him the silence of the sea, the noise of the
earth and the music of the air.
আরো দেখুন